Advertisement

অণুগল্পের সংগ্রহ (৩)

অণুগল্পের সংগ্রহ (৩)


১)
পোশাক
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

— 'ছি ছি!কি দিনকালই এল বলো রুমকিদি!মেয়েরা হাঁটু বের করা স্কার্ট পড়বে,পিঠখোলা ব্লাউজ পড়বে,আর রাস্তায় কেউ কিছু বললেই দোষ!'
— 'সত্যি গো রূপা,আমি তো আমার মেয়ে সুজিকে কোনোদিন চুড়িদার-ওড়না ছাড়া বেরোতেই দিই না কখনও।'
  হঠাৎই রূপার মেয়ে রিমি ছুটে এসে বলল,'মা,আন্টি, সুজাতাকে কোত্থাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।'
 পরেরদিন সকালেই সুজাতাকে খুঁজে পাওয়া গেল পাড়ার শেষপ্রান্তের এক পরিত্যক্ত বাড়িতে,রক্তাক্ত মৃত অবস্থায়।

২)
শিক্ষিত ও অশিক্ষিত 
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী

অন্যদিনের মতো সেদিনও মদ্যপ প্রকাশ হসপিটাল থেকে ফিরেই অনিন্দিতাকে মারতে শুরু করল।অনিন্দিতা মাটিতে পড়ে যেতেই বেল্টটা খুলে যেই তার পিঠে মারতে যাবে অমনি একটা কালো শক্ত ধুলোমাখা হাত প্রকাশের হাতটা চেপে ধরল।প্রকাশ ঘুরতেই দেখে তাদের বাড়ির কাজের লোক কুসুমের স্বামী মদন তার হাত চেপে ধরে আছে।
— 'অশিক্ষিত কোথাকার! স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঢুকছিস!এত আস্পর্ধা!'
— 'ক্ষমা করবেন বাবু,অমন শিক্ষার আমার দরকার নাই গো যাতে বৌকে পেটাতে হয়।আগে তো থানায় চলেন এখন,ওখানেই না হয় 'শিক্ষা' দেখাবেন।'

৩)
দোষ
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী

শৌর্যর বরাবরই লেখালেখির প্রতি ভীষণ আগ্রহ।সময় সুযোগ পেলেই ও বসে যায় খাতা পেন নিয়ে।একদিন ওর এক বন্ধুর পরামর্শে লেখাগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করতে শুরু করে ও।নতুন লিখছে,তাই ফলোয়ার্স অনেক কম,লাইকও পড়ে মেরেকেটে কুড়ি-তিরিশটা মতো।তাই তো সোশ্যাল মিডিয়ায় বিখ্যাত লেখক যেদিন ওর লেখাটা চুরি করে ১০ হাজার লাইক আর ২হাজার শেয়ার কামালেন,সেদিন ওর কান্নার মূল্য দিল না কেউ,উলটে সকলে ওকেই চোর প্রতিপন্ন করল,কারণ আমাদের সমাজে 'ফেমাস'দের কখনো দোষ হয় না,দোষ হয় শুধু অখ্যাতদের।

           
            

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

3 মন্তব্যসমূহ