Advertisement

অণুগল্পের সংগ্রহ (২)

অণুগল্পের সংগ্রহ (২)

১)
যোগ্য উত্তরাধিকারী
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

— 'কি বললি মামনি?ওরা চায় না তুই চাকরিটা করিস?'
— 'হ্যাঁ বাপি,বাচ্চাটা হওয়ার পর থেকেই এরকম চাপ দিচ্ছে ওরা সবাই মিলে সমানে,এমনকি তোমার জামাইও এসব সাপোর্ট করছে!'
— 'এত কষ্ট করে লেখাপড়া শিখেছিস চাকরি ছাড়ার জন্য নয় মামনি!তুই প্রয়োজন হলে ও বাড়ি ছেড়ে আমার কাছে চলে আয়,তবু চাকরি ছাড়ার নামও করবিনা।'
— 'একদম বাপি।'ঝুমা বলল।
— 'আমিও একটা স্কুলে চাকরি করতাম,মনে পড়ে তোমার?'ঝুমার মা,অর্থাৎ কেশববাবুর স্ত্রী বললেন,'সেদিন ঝুমা হওয়ার পরও আমাকে চাকরিটা ছাড়তে বাধ্য করেছিলে তোমরা,মনে পড়ে তোমার?কিন্তু আমার মা-বাবা সেদিন বেঁচে ছিলেন না,তাই আমার পাশেও সেদিন কেউ দাঁড়ায়নি।তাহলে আজ জামাইয়ের ওপর এত রাগছ কেন?শ্বশুরের যোগ্য জামাই ই তো হয়েছে!'
কেশববাবু জবাব দেওয়ার কোনো ভাষা খুঁজে পান না,নিরুত্তর থাকেন।

২)
দুর্গা
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

— 'বাবা,এই মূর্তিটা কি সুন্দর গড়েছ,মা দুর্গার চোখদুটো যেন জ্যান্ত।'
— 'বলছিস?তাহলে এই মূর্তিটা ভালো দামেই বিক্রি করতে পারব বল মা?'
— 'আচ্ছা বাবা,এই মূর্তিটা তো তোমার হাতেই গড়া,এত সুন্দর। এটাকে কি না বেচলেই নয়?'
— 'কেন মা,যার ঘরেই এমন জলজ্যান্ত ফুটফুটে দুর্গা আছে,তার আবার মূর্তির দুর্গার ওপর মায়া বাড়ানো কেন?'

৩)
কালো বেনারসি 
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

তখন মাঝরাত।হঠাৎ রজতের ট্যাক্সি  আটকে দাঁড়াল একটা মেয়ে।গাড়ি থামাতেই মেয়েটি বলল,'কাকু একটা জায়গায় যেতে হবে।খুব জরুরি।'
— 'হ্যাঁ বসো মা।'
মেয়েটি রজতের ট্যাক্সিতে উঠে বসতেই রজত খেয়াল করল তার পরনে কালো বেনারসি, আর তার শরীরে ফুটে উঠেছে এক অদ্ভুত ঔজ্জ্বল্য। 
 — 'হ্যাঁ গো মা,তোমায় দেখে তো মনে হয় কোনো বাড়ির বৌ।তা কালো বেনারসি পরেছ কেন মা?'
— 'লাল বেনারসিই তো পরতে চেয়েছিলাম কাকু,ওরাই যে পুড়িয়ে কালো করে দিল!কিন্তু কি জানেন কাকু,ওরা জানে না যে আগুনে শরীরটা পোড়ে,কিন্তু আত্মাটা খাঁটি সোনা হয়।'




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ