Advertisement

কাহিনী (অষ্টত্রিংশ পর্ব)

কাহিনী
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
অষ্টত্রিংশ পর্ব



আকাশ স্মৃতিকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

— 'কি রে দাদাভাই, ওই বাইরের মেয়েছেলেটার ওপর এত্ত পিরিত যে আমাদের দু'ভাইয়ের যে এতদিন পর দেখা হল, গাড়ি থেকে নেমে এসে জড়িয়েও ধরলি না!'

হঠাৎই আকাশ স্মৃতিকে ছেড়ে দিল, আর গাড়ি থেকে নেমে গেল।

____________________________


একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

______________________________


— 'আকাশ, যেও না! এত গুন্ডার সাথে তুমি একা পারবে না! প্লিজ আকাশ!'

কিন্তু আকাশ স্মৃতির কথা কানেই নিল না। ও গিয়েই অনিমেষের সামনে দাঁড়াল, আর তারপরেই হাসিমুখে জড়িয়ে ধরল ওকে।

স্মৃতি একেবারে হতবাক হয়ে গেল আকাশের এই আচরণে। একদমই আশা করেনি ও এরকম ঘটনা।

— 'তারপর ব্রো, কেমন চলছে সব?' আকাশ হেসে জিজ্ঞেস করল অনিমেষকে।

— 'এই, ভালোই চলছে! সুন্দরীরা তো আমায় কাছে পেলে আর ছাড়তেই চায় না! কাকে ছেড়ে যে কার সাথে সময় কাটাব সেটাই বুঝে পাই না!'

— 'তা সুন্দরীদের আর দোষ কি! এমন স্মার্ট আর হ্যান্ডসাম ম্যানকে পেলে কেউ কি ছাড়ে?'

— 'না না দাদাভাই, ওসব হ্যান্ডসাম ফাম কিস্যু না, সওওওব হল রুপেয়ার খেলা, বুঝলি?' অনিমেষের মুখ থেকে বেরোচ্ছিল মদের গন্ধ, চোখদুটোও লাল হয়ে গিয়েছিল, বাঁকা হেসে বলতে লাগল, 'যতদিন হরির লুটের বাতাসার মতো টাকা ওড়াতে পারবি, ততদিনই সুন্দরীরা তোর পিছনে ঘুরবে, আর না দিতে পারলেই কেটে পড়বে, অন্য বাবু খুঁজবে তখন! মেয়েরা শুধু এটুকু ছাড়া আর কিছু পারে নাকি?'

— 'তা যা বলেছিস!'

— 'তা তুই গাড়িতে চড়ে যে সুন্দরীর সাথে ঘুরছিস, সেও নিশ্চয়ই তোর টাকা, চাকরি এসব দেখেই তোকে ফাঁসিয়েছে? ভেবেছে কলেজের স্যারকে পটালে বাজে পরীক্ষা দিয়েও ভালো মার্কস পাওয়া যাবে, তাই না?'

— 'একদম ব্রো, একদম ঠিক গেস করেছিস তুই।'

স্মৃতি হতবাক হয়ে গেল সবটা শুনে। যে আকাশ ওর সম্পর্কে সামান্য খারাপ কথাও সহ্য করতে পারত না, সে ই কিনা!

— 'তাহলে কেন বেকার ওই ফালতু মেয়েটার জন্য বাড়ি থেকে চলে এলি বল্ দেখি? দাদাভাই, বড়মাসি, বড়মেসো তোকে কত মিস করে জানিস? তুই শুধু একবার ওই মেয়েটাকে ডিভোর্স দিয়ে ব্যানার্জী বাড়িতে ফিরে চল, আর কাহিনী চৌধুরীকে বিয়ে করে নে! দেখ দাদাভাই, দুনিয়ার  সব মেয়েই এক বুঝলি তো, ওসব ভালোবাসা টালোবাসা বলে কিচ্ছু হয় না! চৌধুরীরা বনেদী পরিবার, ওদের সাতপুরুষের কত গুপ্তধন আছে জানিস? একদম সিন্দুক সিন্দুক গয়না মোহর আছে!'

— 'বাব্বা, তুই এত কিছু জানলি কি করে? স্পাই লাগিয়েছিস নাকি?'

— 'বাহ, স্পাই কেন লাগাতে যাব? আমার বড়মাসিটা যা চিজ, কাহিনী চৌধুরীর সাথে সাঁট করে সব জেনে নিয়েছে!' অনিমেষ হেসে পকেট থেকে একটা কাগজ বের করল, 'তুই তাড়াতাড়ি এই ডিভোর্স পেপারটায় সাইন করে দে তো, রাস্তার মেয়ে রাস্তায় থাকুক গে!'

— 'আরে বস, সব হবে।' অনিমেষের কাঁধ চাপড়াল আকাশ, 'কিন্তু রাস্তায় এত লোকের মধ্যে এসব হবে নাকি হ্যাঁ? তার চেয়ে চল্ না, কোনো হোটেলে যাই, একটু খানাপিনা হবে, এনজয় হবে, তারপরেই আমি সাইন করে দেব পেপারে।'

স্মৃতির পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেল। এসব কি শুনছে ও?

— 'হ্যাঁ হ্যাঁ দাদাভাই যা বলেছিস! গরুগুলোকে গোয়ালে পাঠিয়ে দিই দাঁড়া।'

অনিমেষ গুন্ডাদের চলে যেতে বলল। গাড়ি চালাচ্ছিল যে, সেও অনিমেষের পোষা গুন্ডা, সেও চলে গেল। অনিমেষ উঠে বসল ড্রাইভারের সিটে। আকাশ এসে বসল স্মৃতির পাশে। স্মৃতি অবাক চোখে তাকিয়ে ছিল আকাশের দিকে, আকাশ ওর হাতটা ধরল শক্ত করে।

— 'ভাই, গাড়িটা একটু আস্তে চালা প্লিজ!'

— 'কেন দাদাভাই? কি প্রবলেম তোর?'

— 'আরে বাবা, এখনও তো সন্ধ্যেটা ভালো করে হয় নি। সন্ধ্যেবেলাতেই তো এসব হোটেলে গিয়ে মজা, নাকি?'

— 'তা যা বলেছিস বস! রাতের অন্ধকার যতই গাঢ় হবে, ততই তো আলো জ্বলবে, সুন্দরীরা নাচবে, উফ! আই অ্যাম সো এক্সাইটেড ব্রো!'

— 'মি টু!'


বেশ কিছুক্ষণ পর ওরা এসে দাঁড়াল একটা পাঁচতারা হোটেলের সামনে। প্রথমে অনিমেষ নামল, তারপর আকাশ আর স্মৃতি নামল।

আকাশের কথায় অনিমেষ একটা রুম বুক করল। দোতলায় একটা রুমে আকাশ, অনিমেষ আর স্মৃতি ঢুকল। অনিমেষ আপত্তি করেছিল স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে আসায়, কিন্তু আকাশ বাঁকা হেসে বলল, 'ওকে না নিয়ে এলে তো খেলাটাই জমবে না!'

ঘরে একটু পরেই একজন ড্রিংক নিয়ে এল, আকাশই ফোন করে বলেছিল ড্রিংক দিয়ে যাওয়ার জন্য।

— 'এ দাদাভাই, তুই না বড্ড সময় নষ্ট করছিস! এবার তো সাইনটা করে দে নাকি!'

— 'করব, পেন দে।'

— 'আকাশ কি করছ?' বিস্মিত স্মৃতি প্রশ্ন করল, কিন্তু আকাশ ওর কথায় কান দিল না।

— 'আমি কোথায় পেন পাব ব্রো? আমি কি তোর মতো পড়াশুনা নিয়ে থাকি সবসময়? পেন তো তোর কাছেই থাকবে নাকি?'

আকাশ কিছু না বলে হাসল। বুকপকেটে রাখা পেনটা বের করে ডিভোর্স পেপারে সই করে দিল ও।

— 'এই নাও স্মৃতি, তুমিও সাইন করো।'

হতবাক স্মৃতি কিছুই বুঝতে পারল না, সই করে দিল ও।

জয়লাভের হাসি হেসে কাগজটা পকেটে ভরে নিল অনিমেষ, 'এবার নিশ্চিন্তে খানাপিনা হবে।'

একটু পরেই ড্রিংক চলে এল। আকাশ একটা গ্লাসে মাদক ঢেলে অনিমেষকে এগিয়ে দিল।

— 'সে কি রে দাদাভাই, তুই খাবি না?'

— 'আরে চিল ব্রো, আমিও খাব, কিন্তু তুই তো ছোটভাই, তাই তোকেই আগে দিলাম।'

অনিমেষ ঢকঢক করে গ্লাসের সবটুকু পানীয় শেষ করে দিতেই আরও এক গ্লাস এগিয়ে দিল আকাশ, আর অনিমেষ মহানন্দে গ্লাসটা নিল।

— 'আচ্ছা অনি, তোকে আমাদের খবরটা দিল কে? মানে এই যে আমরা কোথায় আছি, তুই কিভাবে জানলি? ছোটমাসি বলেছে তোকে?'

— 'না রে দাদাভাই, মা নয়, বড়মাসি বলেছে রে। কি বলব দাদাভাই, প্রমীলা চৌধুরীর মতো ধুরন্ধর মহিলা খুব কম দেখেছি আমি! মা বলে, ছোট থেকে টাকা পয়সা গয়নাগাঁটি এসবে মারাত্মক লোভ। কুকুরের সামনে বিস্কুট ধরলে যেমন জিভ লকলক করে কুকুরের, ওই প্রমীলা চৌধুরীরও জিভ লকলক করে টাকা আর সোনা দেখলেই। ওই লোভেই তো নিজের থেকে পনেরো বছরের বড়ো একটা বুড়োকে বিয়ে করেছে! ও ই স্পাই লাগিয়ে জেনেছে, তোরা এখন কোথায় থাকিস, আর ও ই তো আমায় পাঠাল। এই গুন্ডাগুলো সব কি আমার লোক ভেবেছিস নাকি? নেহি নেহি সাব, এরা বেশিরভাগই বড়মাসির পোষা কুত্তা, আমারও আছে তবে কম।'


পরবর্তী ভাগ পড়ুন : ঊনচত্বারিংশ পর্ব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ