Advertisement

কাহিনী (ঊনবিংশ পর্ব)

 কাহিনী
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
ঊনবিংশ পর্ব



গাড়ি থেকে নেমে এল আকাশও।

— 'ও ব্বাবা, কলেজ থেকে এইজন্য রোজ ফিরতে দেরি হয়? তুই তো বলিস লাইব্রেরিতে পড়াশুনা করিস, তো এই তার নমুনা?' কাকলি বাঁকা হেসে বলল।

— 'আমি লাইব্রেরিতেই ছিলাম বড়মা।'

— 'ও তাই বুঝি? লাইব্রেরিটা বুঝি এরকম দেখতে?' রুমকি মোবাইলের গ্যালারি খুলে কয়েকটা ছবি মেলে ধরল শিউলির সামনে।

____________________________


একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

______________________________


আকাশ আর শিউলি গঙ্গার পারে দাঁড়িয়ে কথা বলার কিছু ছবি আর ভিডিও ছিল গ্যালারিতে।

— 'বাব্বা, আপনারা তো দেখছি অনেক উদার মনের মানুষ!' বাঁকা হেসে আকাশ বলল, 'আশ্রিতার এতই খেয়াল রাখেন যে তার পেছনে স্পাই লাগিয়ে রেখেছেন, বাহ!'

— 'হ্যাঁ তা তো রাখতেই হবে বাছা!' কাকলি ঝাঁঝিয়ে উঠল, 'এ মেয়ের চরিত্র আমাদের ভালোই জানা আছে, কোথায় কি কান্ড ঘটাবে, শেষে আমাদেরই মুখ পুড়বে, তাই আগে থেকে সতর্ক হয়ে আছি আর কি!'

— 'বেশ বেশ, খুব ভালো। তা শুধু পিছনে স্পাই লাগালেই হবে? সারাদিন পর মানুষটা বাড়িতে ফিরল, সে কেমন আছে, খাওয়াদাওয়া হয়েছে কিনা সেসবও তো দেখতে হবে নাকি?'

— 'সেসব খেয়াল যথেষ্টই রাখা হয় স্যার, কাহিনী আর রুমকি যেভাবে থাকে এবাড়িতে, ওকেও সেরকমই রাখা হয়, এতটুকু অযত্ন করি না আমরা ওর বিশ্বাস করুন!' সায়নী এসে বলল।

— 'হুম, সেই!' আকাশ শ্লেষের হাসি হাসল।

— 'আপনি বাইরে দাঁড়িয়ে কেন স্যার? আসুন ভেতরে আসুন।'

— 'সরি আন্টি, আজ আর ভেতরে যাব না, পরে একদিন আসব। আর আন্টি, আমায় এভাবে স্যার, আপনি বলে ডাকবেন না প্লিজ, আমার অস্বস্তি হয় ভীষণ।'

— 'আচ্ছা বেশ আকাশ, এবার থেকে তোমায় তুমি বলেই ডাকব।'

— 'একদম। সো আন্টি, আজ আমি আসি কেমন!' শিউলির দিকে তাকিয়ে আকাশ বলল, 'গুড ইভনিং স্মৃতি, বাই!'

— 'বাই স্যার।'

আকাশ গাড়িতে উঠে পড়ল, আর গাড়িটা স্টার্ট দিল।


— 'খাবার বেড়েছি শিউলি, খেতে আয়।' সায়নী এসে ডাকল শিউলিকে।

— 'ছোটমা!'

— 'বল্ রে।'

— 'তুমি আমায় একদম পছন্দ করো না না?'

— 'তোর কি সেটাই মনে হয়?'

— 'আসলে ইদানীং তুমি আমার সাথে শুধু দরকার ছাড়া একটাও বাড়তি কথা বলো না তো, তাই আর কি।'

— 'ভয় হয় রে, এমনিতেই এই বাড়ির সম্পর্কে তোর অনেক নালিশ, বেশি কথা বললে যদি কোনো কথা তোর মনে লাগে আবার, তাই একটু ভয় তো হয়ই।'

— 'আমি কারোর কাছে কোনো নালিশ করিনি ছোটমা, স্যার নিজে যেটা দেখেছেন, শুনেছেন সেটাই বলেছেন।'

— 'হ্যাঁ আমি মানছি দিদি একটু ঠোঁটকাটা মানুষ, তোকে মাঝে মাঝেই দু'একটা ছোটবড়ো কথা শোনায়, কিন্তু হাজার হোক সে তোর গুরুজন, যা বলে তা তো তোর ভালোর জন্যই বলে।' সায়নী ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে উদ্যত হল, 'ঠিক আছে রে, আমি দিদিকে বারণ করে দেব, বলব শিউলিকে আর নিজের মেয়ে ভেবে শাসন করতে যেও না, ও এসব পছন্দ করে না একদমই। যাক গে, এসব কথা থাক, খাবারটা ঠান্ডা হয়ে যাবে, তাড়াতাড়ি খেতে আয়।'


শিউলি আর আকাশের রোজই মেসেজে কথা হয়, মাঝে মাঝে ফোনও করে একে অপরকে। গঙ্গার পারে দেখাও করে ওরা, আর শিউলি কলেজ বাসে ট্রামে গেলেও আকাশ বাসে ট্রামে বাড়ি ফিরতে দেয়না ওকে, ওর গাড়িতেই বাড়ি ফেরে ও।


পরের দিন কলেজ যেতেই দিপু শিউলির পথ আটকে দাঁড়াল, তারপরেই মোবাইলের গ্যালারি খুলে কয়েকটা ছবি আর ভিডিও দেখাল। এই ভিডিওগুলোই আগেরদিন রুমকি ওকে দেখিয়েছিল।

— 'কি মামণি, আমি এত করে বলি তবু পাত্তা পাইনা, আর আকাশ ব্যানার্জী শুধু স্যার বলেই এত্ত? সেই বেলায় পড়ার ক্ষতি হয়না না? খালি আমি দুটো কথা বলতে গেলেই যত আপত্তি!'

— 'ওহ, তার মানে তোমাকেই রুমকিদি স্পাই হিসেবে লাগিয়েছে আমার পিছনে তাই তো? অবশ্য কি আর বলব, যেমন মানুষ রুমকিদি, তেমনই চামচে জুটিয়েছে! যত্তসব!' শিউলি চলে এল সেখান থেকে।

— 'শিউলিরানী, বড্ড উড়ছ তুমি আজকাল! একবার শুধু সুযোগ পাই, দেখবে এমনভাবে ডানা কেটে দেব, না পারবে উড়তে, আর না পারবে লোকসমাজে মুখ দেখতে! সেদিন দেখব কোন আকাশ ব্যানার্জী তোমায় বাঁচাতে আসে!' দিপু ক্রূর হাসি হাসল।

  

শিউলি আর আকাশের রোজই মেসেজে কথা হয়, মাঝে মাঝে ফোনও করে একে অপরকে। গঙ্গার পারে দেখাও করে ওরা, আর শিউলি কলেজ যাওয়ার সময় বাসে ট্রামে গেলেও ফেরার সময় আকাশ বাসে ট্রামে বাড়ি ফিরতে দেয়না ওকে, ওর গাড়িতেই বাড়ি ফেরে ও। দুজনেরই মনে মনে একে ওপরের প্রতি ভালোলাগা থাকলেও সেটা কখনোই বলে হয়ে ওঠা হয়নি ওদের অপরদিকের মানুষটিকে।

— 'তা শপিং করতে কবে যাচ্ছ?'

— 'কিসের শপিং স্যার? এখন তো জুন মাস, পুজো তো ঢের দেরি!' হেসে বলল শিউলি।

— 'অরে না না, পুজোর জন্য না, সামনেই যে কলেজ ফেস্ট সেই খবর রাখো কি?'

— 'হ্যাঁ স্যার, শুনেছি বটে। কিন্তু ঐসব কি আর আমাদের মতো তুচ্ছ মানুষদের জন্য? ওসব তো হিয়া থুড়ি কাহিনী চৌধুরীর মতো মানুষদের সাজে, কাজের লোকদের সাজে না!' শ্লেষের হাসি হাসল শিউলি।

— 'শোনো, ওসব আমি জানিনা কাকে কি সাজে না সাজে, জেনে লাভও নেই আমার, আমি চাই তুমি ঐদিন অবশ্যই এসো। শোনো স্মৃতি, শুধু সারাদিন বইয়ে মুখ গুঁজে থাকলেই হয়না, একটু আমোদপ্রমোদও করতে হয়, বুঝলে?'

— 'ঠিক আছে স্যার, আমি আসব, কিন্তু....'

— 'কোনো না শুনব না আমি।' শিউলির হাতদুটো ধরে আকাশ বলল, 'আর কারোর জন্য না হোক, আমার জন্য না হয় এসো, প্লিজ!'

শিউলি কিছু বলল না, শুধু স্মিত হাসল।

পরেরদিন সকালে একটা বেনামি পার্সেল এল শিউলির নামে। শিউলি পার্সেল খুলে দেখে, একটা হালকা নীল গাউন রয়েছে তাতে।

— 'বাব্বা, তোর আবার গুপ্ত প্রেমিক আছে জানতাম না তো? ভগবানই জানে কোথায় ক'টা ছিপ ফেলে রেখেছিস!' রুমকি মুখ বেঁকিয়ে বলল।

— 'তাই না তাই! আবার দেখো গিয়ে কারোর কাছে ভিক্ষেও চাইতে পারে! যা স্ট্যান্ডার্ড ওর!' হিয়া মুখ ঘুরিয়ে বলল।


পরবর্তী ভাগ পড়ুন : বিংশ পর্ব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ