কাহিনী
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
নবম পর্ব
একটু পরেই মধুজা এসে হিয়াদের সামনে এসে দাঁড়াল, 'এই যে শুনছ?'
— 'হ্যাঁ, কি হয়েছে?'
— 'স্যার ম্যামরা তোমাদের স্টাফরুমে ডাকলেন গো দাদা দিদিরা, তাড়াতাড়ি যাও তোমরা।'
_________________________
একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ : পড়ুন
_________________________
হিয়া আর ওর বন্ধুবান্ধবরা স্টাফরুমে ঢুকতেই ওদের চোখে পড়ল সাদা গাড়ি থেকে নামা সেই সুঠামদেহী যুবক অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের মতোই একটা চেয়ারে বসে আছে।
— 'ওই দেখ, বলেছিলাম না ইনিই আমাদের সেই নতুন স্যার!'
— 'হ্যাঁ রে, তাই দেখছি!'
ক্লাসটিচার বন্দিতা ম্যাম সেই সুঠামদেহী যুবককে উদ্দেশ্য করে বললেন, 'ইন্ট্রোডিউজ করিয়ে দিই, স্টুডেন্টস, ইনি তোমাদের নিউ টিচার, আকাশ ব্যানার্জী। আজই কলেজ জয়েন করেছেন। তোমরাও নিজেদের পরিচয় দাও স্টুডেন্টস।
হিয়াই সবার আগে পরিচয় দিল ব্যস্তসমস্ত হয়ে।
— 'কাহিনী চৌধুরী? বাহ, তা তুমিই কি ক্লাসের ফার্স্ট স্টুডেন্ট?'
আসলে শিউলির পাওয়া গোল্ড মেডেলটা হিয়া নিজের গলাতে ঝুলিয়ে রেখেছিল, সেটা দেখেই আকাশের এই মন্তব্য।
হিয়া লাজুক হেসে কিছু বলতে যাবে তার আগেই বন্দিতা ম্যাম বলে উঠলেন, 'না না আকাশ, ও সেকেন্ড হয়েছে এইবার। ফার্স্ট হয়েছে শিউলি, কিন্তু আনফরচুনেটলি ও আসতে পারেনি আজ, তাই ওর বাড়ির লোক হিসেবে কাহিনীই নিয়েছে প্রাইজটা।'
— 'ওহ আচ্ছা, তাহলে আমি বলব ওই গোল্ড মেডেলটা গলা থেকে খুলে ফেলো, আর সিলভার মেডেলটা পরো।' আকাশ মৃদু হেসে বলল, 'আর গোল্ড মেডেলটা তাকেই দিও যে ওটা ডিসার্ভ করে।'
মনে মনে যথেষ্ট অপমানিত বোধ করলেও ওপরে ওপরে কাষ্ঠ হাসি হেসে গোল্ড মেডেলটা গলা থেকে খুলে ফেলল হিয়া।
সকলের পরিচয় দেওয়া শেষ হওয়ার পরেই হিয়ারা বেরিয়ে এল। হিয়া দাঁত কিড়মিড় করছিল, হঠাৎই ওর ফোন বেজে উঠল, রুমকি কল করছে।
— 'কি হল রুমকিদি? এই অসময়ে ফোন করলে?'
— 'আর অসময়! তুমি তাড়াতাড়ি বাড়ি এসো আগে, বিপদ তো ঘোচেইনি, বরং অতৃপ্ত আত্মার মতো ঘাড়ে চেপে বসেছে!'
— 'এই রুমকিদি এই, ড্রিংক করেছ নাকি? কিসব বকছ আত্মা ফাত্মা, দূর!'
— 'বাজে বকবক না করে আগে বাড়ি এসো তো তুমি! সব কথা ফোনে হয়না, বলাটা সেফও না! তুমি এসোই না আগে!'
— 'বেশ বেশ, আসছি।'
হিয়া বাড়ি এসে ফ্রেশ হয়েই রুমকির ঘরে গেল।
— 'জানো রুমকিদি, আজ কলেজে কি হয়েছে? একজন নতুন স্যার এসেছেন, নাম আকাশ ব্যানার্জী, কি বলব.....'
— 'এই তুমি রাখো তো ওসব কলেজের গালগল্প! এদিকে মরা মানুষ বেঁচে ফিরে আসছে, আর উনি কলেজের রঙিন গল্প শোনাতে এলেন!'
— 'কিসব আজেবাজে বকছ তুমি?'
— 'ওই মনোরমা মাসি তো আজ মারা গেছে, তা মরার আগে কি বলেছে জানো শিউলিকে? বলে গেছে, শিউলি নাকি তার পেটের মেয়ে নয়, পাহাড়ের খাদে কুড়িয়ে পেয়েছে রক্তাক্ত অবস্থায়!'
— 'সে কি গো?'
— 'তা নয়তো আর বলছি কি! আর তোমার মনে আছে, মনোরমা মাসি যেদিন প্রথম এবাড়িতে আসে, বলেছিল কোন্ এক গ্রাম থেকে এসেছে! কাহিনীকে যে পাহাড় থেকে ঠেলে দিয়েছিলাম আমরা, ওই পাহাড় ঘেঁষেই একটা প্রত্যন্ত গ্রাম ছিল, তোমার মনে আছে?'
— 'তা আর নেই?'
— 'তাহলে ব্যাপারটা বুঝলে?'
— 'তাহলে আমরা প্রথমে যেটা ভেবেছিলাম সেটাই ঠিক! ওই মেয়েটা শিউলি নয়, ও আসলে....'
— 'একদম ঠিক! ওর মেমরি লস হয়েছে, তাই সব মনে পড়ার আগেই ওকে...'
— 'মেরে ফেলতে হবে!'
— 'একদমই না! ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করে আর কাজ কি? এই বাড়ি থেকে ওকে বের করে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়!'
— 'কিভাবে?
— 'দেখোই না!'
কেটে গেল সপ্তাহখানেক। মনোরমার মৃত্যুর পর চৌধুরীবাড়ির মানুষেরা শিউলিকে আরও বেশি স্নেহ করতে শুরু করেছে দেখে রুমকি, হিয়া আর কাকলি প্রমাদ গুনল।
— 'রক্তের টান আর যাবে কোথায় বল!'
— 'ভেবো না মা, সব টান আমি ঘুচিয়ে দেব!'
রুমকি ওর বয়ফ্রেন্ড অভিজিৎ কে মেসেজে পরের দিন চৌধুরীবাড়িতে আসতে বলল। এবাড়িতে ওর হামেশাই যাতায়াত, রুমকির সাথে ওর সম্পর্কের কথা কারোর অজানা নয়। অভিজিৎ ও চৌধুরীদের মতো বড়ো ঘরের ছেলে, নামকরা শাড়ির ব্যবসায়ী হিসেবে সরকারদের কে না চেনে? সেই সরকার বাড়ির একমাত্র পুত্র অভিজিৎকে কাকলিও মেনে নিতে আপত্তি করেনি এতটুকুও, বরং গর্বিত হয়েছে মেয়েকে নিজের কার্বন কপি তৈরি করতে পেরেছে বলে।
অভিজিৎ আসতেই রুমকি ইশারায় ওকে শিউলির থাকার ঘরটা দেখিয়ে দিল। শিউলি ঘুম থেকে উঠে সবে বিছানা গুছোচ্ছিল, হঠাৎ অভিজিতের প্রবেশ।
— 'দাদাবাবু, আপনি?'
— 'হ্যাঁ, ছোটশালীর সাথে আলাপ করতে এলাম।'
— 'আসুন দাদাবাবু, বসুন।' শিউলি চেয়ার এনে দিল বসার জন্য।
— 'না গো শ্যালিকা, আমি বসতে আসিনি। ওই যে কথায় আছে না, শালী আধি ঘরবালী, তাইজন্যই তো এলাম।'
শিউলি কিছু বলার আগেই অভিজিৎ এগিয়ে আসে ওর দিকে, 'কাজের লোক হলে কি হবে, বেশ সুন্দরী তো! ঠিক যেন পাঁকে ফোটা পদ্ম! তা পদ্মের সুইট স্মেল একটু আমাকেও দাও!'
শিউলি কিছু বলার আগেই অভিজিৎ ঝাঁপিয়ে পড়ল ওর ওপর। ওড়নাটা টেনে খুলে দিয়েই ওকে দেওয়ালে চেপে ধরল অভিজিৎ।
— 'অসভ্যতা কোরোনা দাদাবাবু, তুমি বাড়ির হবু জামাই, তাই লোক জড়ো করিনি এখনও, এবার যদি না ছাড়ো আমায় তাহলে কিন্তু চিৎকার করব!'
— 'চুপ কর্ মাগী! তোদের মতো দু'টাকার ভিখিরি মেয়েদের আবার ইজ্জত! তোর মতো কত মেয়ে আমার পেছনে কুকুরের মতো ঘুরঘুর করে দুটো টাকার জন্য তা জানিস?'
পরবর্তী ভাগ পড়ুন : দশম পর্ব

4 মন্তব্যসমূহ
দুর্দান্ত জাস্ট, অসাধারণ সুন্দর লাগছে পড়তে 🥰🥰💙💙💙
উত্তরমুছুনNext Please 🧡🧡
মুছুন🤗🤗🤗♥️♥️♥️
মুছুন☺️☺️💗💗
মুছুন