Advertisement

লাকি ডল (অষ্টম পর্ব)

লাকি ডল
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
অষ্টম পর্ব


এইবার মিঠি মনে মনে যথেষ্ট বিরক্ত হল, কিন্তু সেই ভাবটা প্রকাশ করলে যদি বাদল কষ্ট পায়, সেই ভেবে চুপ করে থাকে মিঠি।

_________________________


একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

_________________________


বাদল বলে যেতে লাগল, 'শুধু কাল বলে নয়, আমি এখন থেকে রোজই তোমায় পৌঁছে দেব। তোমার ভালোমন্দের দায়িত্বটা তো আমার ওপরেই বর্তায়, নাকি?'
মিঠি কিছু না বলে চা বানাতে গেল। হঠাৎই শোনা গেল লাকি ডলের গলা, 'কি এত ভাবছ মিঠি? তুমি আমার কথামতো চলো, কোনো গর্তে পড়বে তো না ই, বরং সোনার সিংহাসনে বসবে, রাজরানী হবে।'
মিঠি কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু আর বলল না কিছু। লাকি ডলের ওপরেই সবটা ছেড়ে নিশ্চিন্ত হল মিঠি।

সেই রাতে ভালোভাবে ঘুমই হল না মিঠির। কেবলই চিন্তা হচ্ছিল পরের দিন কিভাবে আটকাবে বাদলকে। ভাবতে ভাবতেই কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে মিঠি খেয়ালই করেনি সে।

পরেরদিন সকালে মিঠির ঘুম ভাঙল বাদলের ডাকে। মিঠি তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেস হয়েই চা করতে গেল। 
চা করতে গিয়ে সে দেখে, রান্নাঘরের তাকে বসে আছে লাকি ডল।
— 'ও বাবা, যাদু পুতুল তুমি নিজে থেকেই যে এখানে ওখানে চলে যাও বড়ো? তুমি হাঁটাচলাও করতে পারো বুঝি?'
— 'সাধে কি আর আমার নাম যাদু পুতুল হুঁ?' পুতুলটার ভেতর থেকে ভেসে এল নারীকন্ঠ, 'শোনো, ওই যে মাটির বড়ো হাঁড়িটা, ওটার ঢাকনার ওপর দুটো ওষুধ আছে, বরের চায়ে মিশিয়ে দিও, আর চিন্তা করতে হবে না।'
— 'ওষুধ খাইয়ে দেব?'
— 'আবার প্রশ্ন?'

মিঠি চুপ করে গেল। পুতুলের কথা মতো ওষুধ দুটো বাদলের চায়ে মিশিয়ে দিল সে।

মিঠি বেরিয়ে এল দুটো চায়ের কাপ হাতে নিয়ে। একটা কাপ বাদলকে দিল, একটা নিজে নিল।

— 'আচ্ছা বাদল, তুমি আজ আমায় পৌঁছে দাও কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু আমার একটা কথা জানার ছিল....'
— 'হুম বলো।' চায়ে চুমুক দিল বাদল।
— 'তুমি কি সন্দেহ করো আমাকে কোনোভাবে?'
— 'দেখো মিঠি, তুমি যখন জানতেই চাইছ তাহলে ব্যাপারটা খুলেই বলি। কাল আমার বন্ধু পরেশ বলল, ওই যে একটা বড়ো অফিস আছে না, কি আর.কে গুরুপ না কি বেশ, ওখান থেকে কালকে নাকি ও তোমায় বেরোতে দেখেছে, তাও আবার কিসব ছোটখাটো পোশাকে। আমি তো শুনে বিশ্বাসই করিনি, ভাবলাম বেটা মালটাল খেয়ে ভাঁট বকছে বোধহয়, কিন্তু তবুও হঠাৎ করেই মনে হল, তোমার সরলতার সুযোগ নিয়ে কেউ তোমায় বিপদে ফেলতে চাইছে না তো? আর সেইজন্যই.....'
— 'আচ্ছা বেশ বেশ, তোমার যখন মন চেয়েছে তখন চলো।'
বাদল চা খেয়েই ঘরে গেল পোশাক বদলাতে।

— 'ধুস, আধঘন্টা ধরে বসে আছি, বাবুর এখনও হল না! কি গো, হল তোমার?'
কিন্তু ঘরের ভেতর থেকে কোনো উত্তর এল না। মিঠি দৌড়ে ঘরে গিয়ে দেখে, বাদল বিছানায় চোখ বুজে পড়ে আছে।
— 'ও গো, এ কি হল গো তোমার? ও যাদু পুতুল, আমার হাত দিয়ে কি বিষ খাওয়ালে নাকি ওকে? ছি ছি, আমিও যে কেন তোমার কথা শুনতে গেলাম! ও ঠিকই বলে, কি বোকা আমি! তোমার কথায় প্রথমে সতীত্ব হারালাম, এবার বোধহয় জলজ্যান্ত বরটাকেই হারিয়ে ফেললাম আমি গো!' আর্তনাদ করে উঠল মিঠি।
— 'এই একদম বাড়াবাড়ি কোরো না তো!' লাকি ডলের ভেতর থেকে গর্জন করে উঠল ক্রুদ্ধ নারীকন্ঠ, 'ওগুলো ঘুমের ওষুধ মাত্র, তোমার বর মরেনি, ঘুমোচ্ছে। আড়াই তিন ঘন্টার আগে ওর ঘুম ভাঙবে না। এই সুযোগ, যাও বেরিয়ে পড়ো নিজের কাজে!'

এক অদৃশ্য মায়ার বাঁধনে যেন জড়িয়ে পড়ছে মিঠি অজান্তেই। যতই এগোচ্ছে, জীবন যেন এক ভীষণ শক্ত রহস্যময় বাঁধনে বাঁধছে ওকে, যেখান থেকে আর মুক্তি নেই ওর। সেই মায়াবলেই মিঠি আর একটাও কথা না বলে এগিয়ে গেল অফিসের পথে।

অন্যদিনের মতো সেদিনও যখন মিঠি আর আর.কে. নির্লজ্জতার চরম সীমা পার করে গভীর অন্তরঙ্গতায় নিমগ্ন, হঠাৎ করেই চেনা নারীকন্ঠ ভেসে উঠল মিঠির কানে, 'এই সুযোগ মিঠি, এখন তোমার বসের কাছে যা চাইবে, তাই পাবে। চেয়ে নাও চটপট!'

মিঠি ভীষণ অবাক হয়ে গেল, এখানেও হাজির হয়েছে লাকি ডল?
 
লাকি ডল বলে যেতে লাগল, 'যাতে অফিস থেকে ফেরার সময় আর অফিসে আসার সময় কেউ তোমায় দেখতে না পায়, সেই ব্যবস্থা করে নাও, যাতায়াতের জন্য একটা গাড়ি চেয়ে নাও এক্ষুনি!'

সেই মতো মিঠি বিনয়ী কন্ঠে বলে উঠল, 'স্যার, একটা অনুরোধ ছিল।'
শরীরী নেশায় উন্মত্ত আর.কে. বললেন, 'তুমি যা চাইবে বেবি, আমি তাই দেব৷ বলো কি চাই।'
— 'যাতায়াতের জন্য একটা গাড়ি পেলে বড্ড ভালো হত স্যার, আসলে অনেক দূর থেকে আসি তো....'
মিঠির কথা শেষ হতে না হতেই হেসে উঠলেন আর.কে. 'ওহো এই ব্যাপার? এই সামান্য কথাটা বলতে তুমি এত হেজিটেট করছ ডার্লিং? আমি আজই তোমার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।'

ফেরার সময় দুটো চাবি দিলেন বস মিঠির হাতে।
— 'দুটো চাবি স্যার?'
— 'একটা গাড়ির চাবি, অন্যটা ফ্ল্যাটের। এই অফিসের খুব কাছেই একটা ফ্ল্যাট আছে আমার, ফাঁকাই পড়ে থাকে ওটা সবসময়। এখন থেকে ওটা তোমার, তুমি যখনই চাইবে ওখানে গিয়ে থাকবে, কেমন? ড্রাইভার চেনে ফ্ল্যাটটা, ও ই তোমায় দেখিয়ে দেবে ফ্ল্যাটটা, চিন্তার কোনো কারণ নেই।

পরবর্তী ভাগ পড়ুন : নবম পর্ব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ