জীবন উপলব্ধি (৭)
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
কিছু কিছু মানুষ আছে,তারা কাছের মানুষদের 'টেকেন ফর গ্রান্টেড' করে নেয়,ভেবে নেয় যে তাকে আগলে রাখা,যত্ন করা এগুলো তার কাছের মানুষদের অবশ্য কর্তব্য।কাছের মানুষগুলোকে একসময় আর মানুষ মনে করে না সে,ভেবে নেয় তারা তার খেয়াল রাখার যন্ত্র মাত্র! যখন ইচ্ছে অপমান,অসম্মান করতে থাকে কাছের মানুষদের।কাছের মানুষরা প্রথম প্রথম ভালোবেসে ক্ষমা করে দেয় তাদের রূঢ় আচরণ,তাকে নরমসুরে বোঝায় তার ভুলটা,তবুও নিজের পজিশন থেকে একচুলও সরে আসে না সেই মানুষটা,ইগো স্যাটিসফাই করে চলে অবিরত।কাছের মানুষরাও একটা সময় পর বীতশ্রদ্ধ হয়ে আস্তে আস্তে দূরে চলে যেতে থাকে তার কাছ থেকে।যখন কাছের মানুষরা অনেকটা দূরে চলে যায় তার কাছ থেকে,তখন সে নিজের ভুলটা বুঝতে পারে,জিজ্ঞেস করে কাছের মানুষদের, 'তোমরা কেন এতটা দূরে সরে গেছ?আবার আগের মতোই আপন করে নাও না আমায়!' কিন্তু ততদিনে বড্ড দেরি হয়ে গেছে।
2)
জীবনটা একটা বাজির মতো।যেকোনো মুহূর্তে বাজি জিতে যেতে পারি,জীবনটাই পালটে যেতে পারে এক নিমেষে,নির্লিপ্ত জীবনটা হাজারো আলোয় সেজে উঠতে পারে,আবার যেকোনো মুহূর্তে বাজি হেরে নিঃস্বও হয়ে যেতে পারি,অপমান-অসম্মান-পরাজয়ে ধূলিসাৎ হয়ে মিশে যেতে পারি মাটির ধূলিকণাগুলোর সাথেই।প্রতিটা মুহূর্ত বাজি ধরে এগোতে হয় আমাদের,ঠিক যেভাবে গভীর গিরিখাতের উপর থাকা নড়বড়ে সেতুটা পার হয় মানুষ।সেতুটা যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে,তবুও এগোতেই হবে আমাদের,আর যে কোনো পথ নেই! সেতুটা ভাঙবে না এটুকু মনোবল,আশা নিয়েই আমরা প্রতিদিন জীবনপথে হেঁটে চলি এক অজানা গন্তব্যের পথে,চলতেই থাকি আমরণ।
1 মন্তব্যসমূহ
ভীষন ভালো ও বাস্তব দুটি লেখনীই। মন ছুঁয়ে গেল 💜💜💜💜💜💜
উত্তরমুছুন