আমার লক্ষ্মী
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
আমার লক্ষ্মী গায়ে চোখ ঝলসানো গয়না পরে না,
কিন্তু রোজ সকালে স্নান করে কপালে ভোরের সূর্য আঁকে,
আমার লক্ষ্মীর গলায় হরেক ফুলের মালা নেই,
কিন্তু মধুমাখা হাতের স্পর্শ আছে,
যা যেকোনো রোগের অব্যর্থ ওষুধ,
আমার লক্ষ্মী বেদীতে থাকে না,
কিন্তু রোজ সকালে অসুস্থ মেয়েটাকে ওষুধ নিজের হাতে খাওয়াতে ভোলে না,
আমার লক্ষ্মী ঝকঝকে তকতকে নয়,
গোটা বাড়ি একা হাতে সামলাতে গিয়ে কালিঝুল হাতে মুখে মাখে সে,
আমার লক্ষ্মী দামী চকচকে পাড় শাড়ি পরে না,
কিন্তু নিজের সন্তানকে কোনোদিন মলিন জামা পরতে দেয়না,
অবশ্য নিজে তস্য পুরনো কাপড় পরে থাকে,
আমার লক্ষ্মীকে কোনোদিনও পুজো করে অঞ্জলি দিইনি,
পরিবারের সকলের মুখের হাসিই যে তার অঞ্জলি,
তবু কোনোদিনও নিজের শরীরের কথা এতটুকুও ভাবতে দেখিনি,
যত্ন করে যায় সবার,
পরিবর্তে আশা করেনি কোনোদিন কিছু,
বাইরে যাবার সময় যে সারাজীবন জল-খাবারটুকু ভরে দেয় ব্যাগে,
মনে করিয়ে দেয় ছাতা নিয়ে যাওয়ার কথা,
সে আমার ঘরের লক্ষ্মী,আমার মা।
1 মন্তব্যসমূহ
জাস্ট অসাধারণ একটি লেখনী..... মন ছুঁয়ে গেল এক্কেবারে। অনেক ভালোবাসা রইলো আমার প্রিয় লেখিকার জন্যে ❤️❤️❤️❤️❤️❤️
উত্তরমুছুন