Advertisement

অণুগল্প ও কবিতাদুটি

অণুগল্প ও কবিতাদুটি

প্রিয় পাঠক পাঠিকা, আপনাদের জন্য রইল ভিন্ন স্বাদের অণুগল্প ও কবিতা। অবশ্যই জানাবেন যে কেমন লাগল।

১)



ভালোবাসার প্রমাণ
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী

— 'রোজ রোজ বাইরের লোকের হাতে রান্না খেতে আমাদের ভালো লাগে না। যতই চাকরি করো, ঘরের বৌ তো তুমি, মাঝেমধ্যে তো আমার ছেলেটাকে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়াতেই পারো, তাই না বৌমা?'
— 'মা জানেন, আমি প্রতিবছর ওর জন্মদিনে ওকে উপহারে ভরিয়ে দিই, রাত বারোটায় উইশ করি, কিন্তু ও কখনো কোনো গিফট দেয়নি আমায় আমার জন্মদিনে, রাত বারোটায় উইশও করেনা। বিয়ের পর প্রথম প্রথম আমি খুব অভিমান করতাম ওর এই আচরণে, ও তখন আমায় বলেছিল, 'শুধু উপহার দিলেই ভালোবাসার প্রমাণ দেওয়া হয়ে যায়? প্রতি মুহূর্তে পাশে থাকা একজন বন্ধুর মতো, সেটার চেয়েও কি উপহার বেশি মূল্যবান?' ও ই আমায় শিখিয়েছে সম্পর্ক কোনো ডিল নয় যে এক্সপেকটেশন রাখতে হবে প্রতি মুহূর্তে। তবে আমাকে কেন প্রতিদিন ওকে নিজের হাতে রান্না করে খাইয়েই প্রমাণ করতে হবে যে আমি ওর স্ত্রী? প্রতি মুহূর্তে আমি যে ওর পাশে থাকি, ওকে আগলে রাখি, সেটাই কি যথেষ্ট নয় মা? রান্না করে খাইয়েই আমায় ভালোবাসার প্রমাণ দিতে হবে?'

_________________________

একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

_________________________

২)


ভেবে দেখেছিলে?
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

যে রূপের ছটায় চোখ ঝলসায়,
সে রূপের অধিকারীর সাথে ছবি তুলে বাঁধানো যায়,
যার সরল মনের আলোয় ধুয়েমুছে যায় সব শোক,
তার বুকে অনায়াসে মাথা রাখা যায় ক্লান্তির দিনে,
যে বিপদের দিনে নিজেকে তুচ্ছ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে,
তার উষ্ণ হাতটা বারবার চেপে ধরতে ইচ্ছা হয়,
যে অন্যায়ের সাথে আপোষ না করার জন্য বদনাম কুড়োয় কেবল,
তার ছায়ায় লুকোতে ইচ্ছা হয় বারবার,
যে নিজের শখ ভুলেছে তোমার হাসিমুখখানি দেখবে বলে,
তার কাছেই তো অন্যায় আবদার করা যায় বারবার, 
নিজের সম্পদ ঢেলেছে তোমার সুখের সিন্দুকে যে,
তার পাশে চলতেই ভালোলাগে,
রূপ-সারল্য-সাহস-জেদ-চাহিদা-অর্থ সব বিকিয়েছে সে তোমার জন্য,
বিনিময়ে তুমি কি দিয়েছ তাকে,
ভেবে দেখেছিলে কি?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

3 মন্তব্যসমূহ