একাকীত্ব
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
পরিবর্তনটা সবার আগে নিজস্ব পরিধি থেকেই শুরু করা দরকার।একাকীত্ব খুব ভয়ানক একটা শব্দ,দাবানলের মতো পুড়িয়ে খাক করে দেয় একটা সাজানো বাগানের মতো জীবন।তথাকথিত সাফল্য,স্বাচ্ছন্দ্য-বিলাস একাকীত্বের ওষুধ নয়।একাকীত্বের ওষুধ একটা মানুষ,হ্যাঁ শুধুমাত্র একটা মানুষ,দিনশেষে সবটুকু শোনার মানুষ।
নিজেদের পরিধি দিয়েই আগে বিচার করে দেখুন,বুঝতে পারবেন এমন সবটুকু শোনার মানুষ বড়োই বিরল।সন্তান পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল করতে না পারলে মা বাবা বকছেন, 'তোরই তো দোষ!পড়িসনি কেন?' এবং তুলনা করছেন তথাকথিত ভালো ফল করা স্টুডেন্টের সাথে,ভাবছেন না তাঁর নিজের সন্তানের মধ্যে এমন অনেক গুণের সুপ্ত বীজ লুকিয়ে আছে যা ভালো ফল করা স্টুডেন্টটির হয়ত নেই।স্কুলে টিচাররাও ঠাট্টা তামাশা করছেন কম মার্কস পাওয়া স্টুডেন্টটিকে নিয়ে,ক্লাসমেটরাও করছে।কখন যে স্টুডেন্টটি আস্তে আস্তে ডিপ্রেশন নামক কুয়াশার মধ্যে চলে যাচ্ছে,খেয়ালই করছেন না।অথচ একটা সাহায্যের হাত তার দিকে বাড়িয়ে দিলেই আর স্টুডেন্টটি ঘন অন্ধকারে তলিয়ে যেত না!
কোনো মানুষ ভুল সম্পর্কে গিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে যখন এক অদৃশ্য সিঁড়ি বেয়ে নেমে যাচ্ছে এক বীভৎস গোলোকধাঁধাঁর পথে,তখন বাড়ির লোকেরা 'তোরই তো দোষ,বাইরের লোকজনকে এত বিশ্বাস করতে গেছিসই বা কেন' না বলে,বা বন্ধুবান্ধবেরা হাসি মস্করা না করে যদি একটু সহমর্মিতা দেখাতো,মন দিয়ে তার কথাগুলো শুনত,তাহলে হয়ত অন্ধকার রাস্তাটা তাকে বেছে নিতে হত না।
আসলে আত্মহত্যা একটা অনেক বড় খুন,যে খুনে দায়ী তার চারপাশের মানুষরাই,যে মানুষগুলো তার সেলফিতে বন্দি।চলে যাওয়ার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষটা একটা উষ্ণ হাতের স্পর্শ চেয়েছিল কপালে,চেয়েছিল তার তীব্র ডিপ্রেশনের সময় তাকে অযথা বকাবকি বা রুক্ষ আচরণ না করে তাকে কাছে টেনে নিক অন্তত একজন।অন্তত একজন তার অন্ধকারঘন মুখটা দেখে মনের কষ্টটুকু আঁচ করে যদি বলত, 'নির্বাক থাকিস না,কাঁদ,কাঁদ তুই!কেঁদে মনে জমানো সমস্ত আঘাত বের করে দে নির্দ্ধিধায়,আমি আছি তোর হাতটা ধরে,' তাহলে মানুষটি আত্মহত্যা শব্দটি থেকে শতহস্ত দূরে থাকত।
সে কারণেই,সবার আগে নিজের পরিধিতে থাকা মানুষগুলোর অস্বাভাবিক আচরণ খেয়াল করুন,এড়িয়ে যাবেন না,বিরক্ত হবেন না,প্লিজ!একটা স্নেহমাখা হাতই শুধু চায় ওই মানুষগুলো,আর কিচ্ছু না!
1 মন্তব্যসমূহ
অসাধারন লেখা
উত্তরমুছুন