Advertisement

অণুদুটি

অণুদুটি

প্রিয় পাঠক পাঠিকা, আপনাদের জন্য রইল দুটি ভিন্নস্বাদের অণুগল্প। পড়ে অবশ্যই জানাবেন যে কেমন লাগল।

১)

চেনা ও অচেনা
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী


— 'কি হল উপাসনা? আজ আমি বাড়ি ফেরার পরেই দেখছি মুখে কুলুপ এঁটেছ, রা কাড়ছ না! কি হয়েছে একটু ক্লিয়ার করবে প্লিজ?' 

— 'বলার আর কি আছে বলো তো রণ? একজন মানুষকে এতদিন একরকম চিনতাম আর আজ একরকম চিনলাম, একেবারে নতুনভাবে!' 

— 'মানে?'

— 'মানে আবার কি! ঘরে স্ত্রী থাকতেও যে বাসে ট্রেনে অচেনা মেয়েদের অশ্লীলভাবে স্পর্শ করো তুমি, তা তো আমি এতদিন কল্পনাও করিনি!' 
হাসি চেপে রণ বলল, 'তাই নাকি?' 

_________________________

একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

_________________________

— 'তা নয়ত কি! আজ আমি বোরখা পরে বাসে উঠেছিলাম, মুখটাও ঢাকা ছিল, তোমার পাশের সীটে এসে বসলাম যেই, অমনি তুমি আমায় অশ্লীলভাবে স্পর্শ করতে লাগলে! সমানে আমার হাতটা ধরে রেখেছিলে তুমি, তারপর গায়ে গা লাগিয়ে বসলে তুমি, ছি! সেই মুহূর্তে তো তুমি আমার মুখ দেখতে পাওনি, তোমার কাছে একটা অচেনা মেয়েই ছিলাম আমি সেই মুহূর্তে! তাহলে?'

— 'উপু, তোমার আঙুলে যে আংটিটা আমি গত সপ্তাহে পরিয়েছিলাম, সেটা বাসে দেখেছি আমি। আর তোমার ডান পায়ের আঙুলে যে কাটা দাগটা আছে, সেটাও চোখ এড়ায়নি আমার! আমার উপু যেরকম ছদ্মবেশেই আসুক আমার সামনে, আমি তাকে চিনতে পারব না? সেটাও কি হয়?' 


২)

যোগ্য জবাব
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী


— 'আমার ছেলের পাশে তোমায় বড্ড বেমানান লাগে বৌমা।'

— 'কেন মা?'

— 'আবার কেন জিজ্ঞেস করছ! আমার ছেলে শহরের নামী কার্ডিওলজিস্ট, কত টাকা ইনকাম করে মাসে!আর তুমি করো দু'পয়সার প্রাইমারী স্কুলে মাস্টারি!'

— 'তবু তো দু'পয়সার চাকরিটাও করি মা, নিজের পেটটুকু নিজে চালিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখি। অনেক মহিলা তো প্রথম জীবনে বাবার পয়সায়, পরবর্তী জীবনে স্বামীর পয়সায় বসে খেয়েও বুক ফুলিয়ে গর্ব করেন!'

অপরপক্ষ নিরুত্তর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ