কিছু অণুগল্প
প্রিয় পাঠক-পাঠিকা,আপনাদের জন্য রইল তিনটি ভিন্ন স্বাদের অণুগল্প।
১)
মেকি আধুনিকতা
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
— 'আরে দূর,এই যুগে কেউ সালোয়ার কামিজ পরে?জিন্স না পরলে এযুগের যোগ্য হব কি করে?' টুম্পা আর ওর বান্ধবীরা বলাবলি করছিল।হঠাৎ শপিং মলে মনীষার প্রবেশ।জামাকাপড়ের পাশেই ছিল সু স্টল,সেখানে গিয়ে মনীষা একটা স্টিলেটো পছন্দ করল।তা দেখে টুম্পা আর ওর বান্ধবীরা হাসাহাসি করতে লাগল,'দেখ,দেখ,তালগাছের মতো লম্বা,ফ্ল্যাট জুতো পরবে,তা নয় শখ কত! হিল পরবেন! হুঃ!'
যে তরুণী কর্মচারীটি কাস্টমারদের জুতো দেখানোর দায়িত্বে ছিল,সেও হাসি চেপে বলল, 'ম্যাম,আসুন না,এদিকে পাম্প সু আছে,প্রচুর কালেকশন,আপনার সিওর পছন্দ হবে।'
— 'কেন বলুন তো?আমি দশটা স্টিলেটো কিনতে পারি,তাতে আপনার কি?আপনার টাকায় কিনছি কি?আর এই যে ম্যাডামরা,যুগোপযোগী পোশাক পরতে চান,আগে মনটা যুগোপযোগী করুন,বুঝলেন!ঘরের ভেতরটা অন্ধকার রেখে বাইরে আলো জ্বালাচ্ছেন আপনারা,জানেন তো!আগে মনের অন্ধকার দূর করুন,তারপরেই না হয় বাইরে থেকে ঝাঁ চকচকে হবেন,কেমন!'
২)
পরিচয়
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
রুমি ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,'মা,আজ সন্ধ্যেয় তুমি বাড়ি থাকবে না?আমিও তো থাকব না,বাড়িটা ফাঁকা পড়ে থাকবে যে!'
— 'কি করব বল মা,তোর পরেই আমি যদি আর কাউকে ভালোবেসে থাকি সে আমার গান।'
— 'জানি মা,আমি সারাজীবন তোমার পাশে থাকব।তুমি এভাবেই গেয়ে যাও।'
আজ রুমির বান্ধবীর জন্মদিন,অনুষ্ঠান বাড়িতে মেয়েকে ড্রপ করেই সীমাকে যেতে হবে গান গাইতে।রজত যেদিন চেম্বার থেকে ফিরেই সীমাকে বলেছিল,'আমার মতো এতবড়ো ডাক্তারের পাশে তোমার মতো সাধারণ মেয়েকে মানায় না',আর তার গার্লফ্রেন্ড প্রিয়ার হাত ধরে বাড়ি ছেড়েছিল,সেদিন রজতের এত তাড়া ছিল যে রুমি আসার সুখবরটাও শোনার সময় হয়নি তার।সেদিন সীমা প্রতিজ্ঞা করেছিল,যে আর কারোর মেয়ে,কারোর স্ত্রী পরিচয়ে নয়,নিজের পরিচয়ে বাঁচতে হবে তাকে।
আজ নিজের চেষ্টায় সীমা একজন নামী গায়িকা।আজ দর্শকাসনে হয়ত রজত আর প্রিয়াও থাকবে,কিন্তু হাততালিটা দিতে পারবে না।
৩)
একমাত্র
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
— 'আমার জীবনে এর আগেও অনেক প্রেম এসেছে,গেছে,তুমি কিন্তু প্রথম প্রেম নও আমার জীবনে।কখনো সামান্যতম হলেও অভিমান বাসা বাঁধে না তোমার মনে আমার প্রতি?'
— 'একেবারেই না গো।কারণ প্রেম হয়ত প্রথম,দ্বিতীয়,তৃতীয়,চতুর্থ হতে পারে,কিন্তু ভালোবাসা জীবনে একবারই আসে।যে মানুষটি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তোমার হাতদুটো নিজের হাতের মুঠোর উষ্ণতায় রাখে পরম যত্নে,সেই মানুষটিই জীবনের প্রথম আর শেষ ভালোবাসা,একমাত্র ভালোবাসা।অন্য মানুষগুলোর সাথে কাটানো দিনগুলো জীবনে চলার পথে অজান্তে করে ফেলা কিছু ভুল মাত্র,যে ভুলগুলো আমাদের শিক্ষা দেয়,নতুন ভাবে গড়ে তোলে আমাদের।একারণেই কখনো বিন্ধুমাত্রও অভিমান জন্ম নেয়নি আমার মনের কুঠুরিতে।বুঝলে?
1 মন্তব্যসমূহ
Kup sundor ..kintu first golpo taa bujlam naa..
উত্তরমুছুন