সামাজিক গল্প ও কবিতা
প্রিয় পাঠক পাঠিকা,আপনাদের জন্য রইল একটি সামাজিক গল্প ও একটি সামাজিক কবিতা।
১)
অনুশোচনা
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
নিজের ঘর থেকে বেরিয়েই মেজাজটা বিগড়ে গেল কলেজপড়ুয়া অহনার। ওদের বাড়িতে নতুন যে রান্নার মাসি এসেছে শিউলি, সে আসার দিন থেকেই অহনার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে কেবল। বড্ড বিরক্তি লাগে ওর, তাই শিউলিমাসি এলেই নিজের ঘরে থাকে ও ঘরের দরজা বন্ধ করে।
সামনেই বাংলা নববর্ষ। হঠাৎ একদিন অহনা শোনে, শিউলিমাসি ওর মাকে বলছে, 'তোমার মেয়েটাকে দেখে আমার মেয়েটার কথা বড্ড মনে পড়ে গো বৌদি, আমার ঘরেও ওর বয়সীই একটা মেয়ে আছে তো! কোন্ দূর গাঁয়ে ওকে ফেলে রেখে শহরে এসেচি পেটের টানে। বৌদি, তোমার মেয়ের কিছু পুরোনো জামা দেবে গো? বছরকার দিনে পরত আমার মেয়েটা!'
অহনার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে সবটা শুনে। নববর্ষের জন্য কেনা সবচেয়ে প্রিয় জামাটা ও তুলে দেয় শিউলিমাসির হাতে।
২)
ফ্যাশান
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
অচেনা মানুষের ছবিতে,লেখাতে,হাতের কোনো কাজে আমরা অপমানজনক কমেন্ট করব,
করব কদর্য ব্যক্তিগত আক্রমণ,
সে যতই dedication দিয়ে নিখুঁত কাজ করা হোক না কেন,
কারণ আজকাল অন্যকে ছোট করাটাই স্মার্টনেস,
কমেন্টে হাহা রিয়্যাক্ট কুড়োবে যে যত বেশি,
সে ই আজকাল সবচেয়ে বড়ো কমেডিয়ান,
আসুক না তাতে কারোর চোখে জল,
হৃদয় হোক কারোর ক্ষতবিক্ষত, তৈরি হোক মেন্টাল ট্রমা,
মানুষটি আসলে কেমন থাকুক না সেটা অজানা,
তবু তো কমেন্টে অপমান করতেই হবে আমাদের,
হতে হবে সেরা মিমার অন্যকে টেনে নামিয়ে,
আজকাল যে ওটাই ট্রেন্ড,ফ্যাশান!
2 মন্তব্যসমূহ
Rightly said
উত্তরমুছুনRightly said
উত্তরমুছুন