রোবট
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
আপনার সন্তান বড়ো চাকরি করে আজ,
কাজ সামলে সময়ই দিতে পারে না মা-বাবাকে,
আর যেটুকু ফুরসত পায়, রোবটের মতো আচরণ করে আপনাদের সাথে, সামান্য হাসি থাকে না মুখে,
দম দেওয়া পুতুলের মতো জিজ্ঞেস করে, 'ওষুধটা ফুরিয়ে গেছে?' বা 'প্রেসার,সুগার ঠিক আছে তো?'
আপনার আফসোস আপনার সন্তান যেন একটা যন্ত্র,
দুদন্ড সুখ-দুঃখের কথা শেয়ার করে না আপনাদের সাথে,
মনে পড়ে ওর চাকরি পাওয়ার আগের দিনগুলো?
যখন ও হেসে দুটো মজার কথা বলতে আসত,
আপনারা বুঝিয়ে দিয়েছেন,যে আপনারা মা-বাবা,
যাঁদের শ্রদ্ধা করা যায় শুধুই,বন্ধু ভাবা যায় না,
পরীক্ষায় অভাবনীয় রেজাল্ট করে ফিরলে অ্যাপ্রিশিয়েট করার বদলে বলেছেন,
'আমাদের ফ্যামিলিতে এটা খুবই নর্ম্যাল!'
ও যখন হাতের কাজগুলো দেখাতে এসেছে পরম আগ্রহভরে,আপনি বলেছেন, 'ধুস,ভালো হয়নি!'
অথচ ওর বন্ধুবান্ধব-পরিচিতরা প্রশংসা করেছে সেসবের,
পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে যখন ওর,
আপনি তখনও নীরব ছিলেন,শুধু বলেছিলেন, 'ওসবের জন্য গোটা জীবন পড়ে আছে,পড়াশুনায় মন দাও!'
পড়াশুনার ফাঁকে দুদন্ড রেস্ট নিতে এলেও আপনি সেটা সহ্য করেননি,ঠেলে পাঠিয়েছেন পড়ার টেবিলে,
অথচ কখনো পরীক্ষায় মার্কস কম এলে কথা শোনাতে ছাড়েননি,
আপনার সন্তানকে কখনো কাঁদতেও দেখেননি আপনারা,কেন জানেন?
কারণ আপনাদের সামনে কোনোদিন নিজের কান্নাকে প্রকাশ করেনি ও,
কারণ আপনাদের কাছে কান্নার অর্থ ছিল হেরে যাওয়া,
ব্যর্থ মানুষেরাই কাঁদে,সফল মানুষকে কাঁদতে নেই,এমনটাই শিখিয়েছেন সবসময়,
কখনো অ্যাপ্রিশিয়েট না করে,গম্ভীর রাশভারী আচরণ করে আপনিই তো দিনের পর দিন একটু একটু করে রোবট বানিয়েছেন ওকে,
অথচ আজও দায়ী করছেন ওকেই?
চার বছর আগের পুরোনো ছবিগুলো আর একবার দেখে নিন পারলে মোবাইলের গ্যালারী খুলে,
আপনার সাথে সেলফিগুলো দেখুন ওর,ও আপনাকে জড়িয়ে ধরে হাসিমুখে ছবি তুলেছে,অথচ আপনার মুখে বিন্দুমাত্র প্রতিক্রিয়াও নেই,
আজ আপনি দুঃখ করেন সন্তান কেন আর আপনাদের সাথে আজ সেলফি তোলেনা?
প্রশ্নটা ওকে নয়,নিজেকে করুন,দেখবেন উত্তর ঠিকই পেয়ে যাবেন।
1 মন্তব্যসমূহ
Ekdam bastab
উত্তরমুছুন