হাস্যরসের ভান্ডার
প্রিয় পাঠক পাঠিকা,আপনাদের জন্য রইল মজাদার কিছু অণুগল্প।
১)
প্রার্থনা
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
— 'আজ কি চেয়ে এলি ঠাকুরের কাছে?'
— 'চাইলাম ঠাকুর যেন আমায় দৈত্যদানব বানিয়ে দেয়।'
— 'সে আবার কি?এরকম বিদঘুটে চাওয়া বাপের জন্মে শুনিনি বাপু!'
— 'তা আর কি করি বলো মাদার ইন্ডিয়া?আগে আমি কম খেতাম সত্যি,কিন্তু দিনে দিনে আমার খাওয়া এত বাড়াচ্ছি,তবুও তুমি আর বাবা আমায় সমানে বলছ,কেন এত কম খাস বাবু?আরও খা!আমি সাড়ে পাঁচ হাঁড়ি ভাত খেলেও তোমাদের মনে হয় 'কম' খাচ্ছি।তাই আমি ঠাকুরের কাছে চাইলাম যেন আমায় মানুষ থেকে দানব বানিয়ে দেয়!'
২)
কুড়ি থেকে বুড়ি
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
— 'আমি আর এবাড়িতে থাকব না মা,'ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলল অর্চনা।
— 'একি আজ তোর জন্মদিন, জন্মদিনে কেউ এরকম রাগ করে?কি হয়েছে খুলে বল দেখি?'অর্চনার শাশুড়িমা বললেন।
— 'দেখো না,তোমার ছেলে কি করেছে!'
— 'কেন কি করল ও?'
— 'আজ সকালে হঠাৎ একটা চিরকুট হাতে দিয়ে বলল,দেখো তোমার জন্য কেমন দুলাইন লিখেছি,কিন্তু তুমিই দেখো ও কি লিখেছে!'অর্চনা চিরকুটটা শাশুড়িমার হাতে দিল।
—'মা দেখো,এতে আমার কোনো দোষ নেই,সব করেছে তোমার গুণধর নাতি।'অর্চনার স্বামী এসে বলল,'আমি কাগজে লিখেছিলাম -
'আজই সেই শুভদিন,যেদিন ফুটেছিল এক মিষ্টি ফুলের কুঁড়ি,
আজ তিরিশ বছরেও তোমায় মনে হয় যেন এক্কেবারে কুড়ি।'
তা তোমার গুণধর নাতি কখন যে রবার দিয়ে কুড়িকে বুড়ি করে দিয়েছে টেরই পাইনি!'
৩)
ব্রেকাপ
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
— 'কি রে এত চুপচাপ কেন?কি হয়েছে?'
— 'ধুর ভালো লাগছে না।মন খারাপ?'
— 'কেন?কি হয়েছে সেটা তো বলবি?'
— 'ব্রেকাপ।'
— 'সে কি রে!রোহিতের সাথে তো আজই সকালে দেখা হল,কই কিছু বলল না তো?'
— 'আরে ধুর,ওর সাথে ব্রেকাপ হলে থোড়াই এত কষ্ট পেতাম!'
— 'মানে!ও ছাড়া তোর আরও কোনো বয়ফ্রেন্ড আছে নাকি?এ বাবা,ভালো ছেলেটাকে এভাবে ঠকাচ্ছিস!এটা ঠিক না কিন্তু।'
— 'হ্যাঁ ভালো ছেলে না ছাই!আমার ব্রেকাপ হয়েছে শুনে তার সে কি আনন্দ!'
— 'সেটাই স্বাভাবিক! তা সে কে?যে রোহিতের চেয়েও বেশি ইম্পরট্যান্ট তোর জীবনে?'
— 'ফুচকা।এমন পেটের অসুখ বাধালাম যে আপাতত একমাসের জন্য ফুচকা খাওয়া আমার বন্ধ!ভাব!সখি এহেন বেদনা যে সহিতে না পারি!'
৪)
কাজ
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
— 'বেশি কথা বলিস না।কোন্ কাজটা পারিস তুই?জলও তো ফোটাতে পারিস না!'
— 'কে বলল আমি জল ফোটাতে পারি না?শুধু জল কেন,আমি অ্যাসিডও ফুটিয়েছি,জানো?'
— 'তাই নাকি?তা কবে এমন রাজকার্যটা করলি শুনি?'
— 'কেন,কেমিস্ট্রি ল্যাবে!'
৫)
ব্লকলিস্টে
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
ছেলেটা বড়োই মনমরা হয়ে আছে।কলেজেও যায়নি ক'দিন ধরে।আর কলেজ গিয়ে কিই বা লাভ তার?কলেজের ক্রাশ যে ব্লকিয়েছে তাকে!
ছেলেটির ক্রাশ টিকটক করতে ভালোবাসে খুব।একদিন মেয়েটি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ভিডিও শেয়ার করেছিল,টিকটকে খাওয়ার ভিডিও।সেটা দেখে ছেলেটি মেয়েটিকে মেসেজ করে বলল, 'তুমি যখন টিকটকে খাচ্ছিলে,কি অপূর্বই না দেখাচ্ছিল তোমায়!'
আর এই মেসেজটি পাওয়ার পরেই মেয়েটি ছেলেটিকে ব্লক করে দেয়,কারণ ছেলেটি 'টিকটকে খাচ্ছিলে' লিখতে গিয়ে ভুলবশত 'টিকটিকি খাচ্ছিলে' লিখে ফেলেছে!
3 মন্তব্যসমূহ
Khub sundor ♥️
উত্তরমুছুনদারুন 😋😋😋💐💐💐
উত্তরমুছুনতুলো 💘💘💘💘
মুছুন