Advertisement

সেরা উপহার

                          
সেরা উপহার
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী

— 'শম্পা,বরকে তো অন্ধের মতো বিশ্বাস করিস,কি করে কোথায় যায় কিছুই তো খোঁজ রাখিস না!'
— 'হ্যাঁ রে তুলিকা,তুই ঠিকই বলেছিস,আমি সত্যিই ওকে বড্ড বিশ্বাস করি,কারণ ভালোবাসলে বিশ্বাসটাই যে আসল!'
— 'হুম,সেসব বুঝলাম।কিন্তু পাড়ায় সবাই কি বলছে শুনিস নি?'
— 'না রে,শুনিনি তো!'
— 'অরুণ নাকি ওইসব খারাপ পাড়ায় যায় মাঝে মাঝেই,অস্মিদি তো বলল ও নিজের চোখে দেখেওছে অরুণ ওইসব পাড়ায় যাচ্ছে!'
— 'তুলিকা,তুই কি বলছিস তুই জানিস?'
— 'জানি রে,জানি,শুধু আমি না,এপাড়ার সবাই জানে,শুধু তুই জানিস না!ছি ছি ছি,একজন শিক্ষক হয়ে কিনা....ছিঃ!'
 
_________________________

একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

_________________________

তুলিকা চলে গেল।শম্পা ভাবল,অরুণ স্কুল থেকে ফিরলে ওকে ও এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবে।
 একটুপরেই অরুণ স্কুল থেকে ফিরল।শম্পা চা এনে দিল ওকে,তারপর নিজেও চা খেতে বসল সোফায়।শম্পা জিজ্ঞেস করতে যাবে হঠাৎ অরুণ বলল,'শম্পা,তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও।তোমায় একটা জায়গায় নিয়ে যাব আমি।'
 অগত্যা প্রশ্নচিহ্নগুলো মনে চেপে রেখে রেডি হল শম্পা।এরপর গাড়িতে চেপে বসল ওরা।হঠাৎ অরুণ একটা কালো কাপড় নিয়ে এসে চোখ বেঁধে দিল শম্পার,তারপর নিজে বসল ড্রাইভারের সীটে।
— 'অরুণ,চোখ বাঁধলে কেন আমার?'
— 'শম্পা,আমায় কি তুমি বিশ্বাস করো না?'
— 'না অরুণ,তা নয়,আসলে...'
— 'চুপ,আর কোনো কথা নয়।যখন সময় হবে আমি নিজেই তোমার চোখটা খুলে দেব,কেমন?'
— 'আচ্ছা।'

 শম্পার মনে একটা ভয় কাজ করতে শুরু করল হঠাৎই।বারবার প্রতিবেশিনী তুলিকার কথাগুলো কানে বাজতে লাগল ওর।তবে কি অরুণ বুঝে গেছে,যে অরুণের গোপন কার্যকলাপ জেনে গেছে শম্পা?আর সেইজন্যেই কি শম্পাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে অরুণ?গত সপ্তাহেই টিভিতে নিউজ চ্যানেলে দেখাচ্ছিল স্ত্রীকে স্বামীর পাচার করে দেওয়ার একটা ঘটনা।ভয়ে হাত-পা সিঁটিয়ে যায় শম্পার।মুখে কিছু বলতে পারে না ও,কেবল ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভগবানকে ডাকতে থাকে মনে মনে।
 প্রায় ঘন্টাখানেক পর গাড়িটা থামে।শম্পার হাড় হিম হয়ে গেল ওর আগাম পরিণতির কথা ভেবে।অরুণ শম্পাকে হাত ধরে গাড়ি থেকে নামাল,তারপরেই চোখ থেকে কালো কাপড় খুলে নিল।শম্পা ভীষণ আগ্রহে চারিদিক দেখতে যাবে,হঠাৎ কোথা থেকে বেশ কয়েকটা বাচ্চা ছেলেমেয়ে এসে জড়িয়ে ধরে শম্পাকে,সবাই একসাথে বলে,'হ্যাপি বার্থডে আন্টি!'
  হাতে একগুচ্ছ লাল গোলাপ নিয়ে এগিয়ে এল অরুণ,বলল,'হ্যাপি বার্থডে মাই ডিয়ার,মাই লাভ!'
 — 'অরুণ!' বিস্মিত শম্পা কি বলবে ভেবে পায় না,'এ কোথায় আনলে আমায়?'
 — 'নিষিদ্ধ পল্লী,সমাজের ভাষায় 'ওইসব পাড়া'।শম্পা,মাসখানেক হল সপ্তাহে চারদিন করে আমি এখানে আসি,এই বাচ্চাগুলোকে পড়াই,চাই ওদের জীবনগুলো অন্ধকার থেকে আলোয় ভরে উঠুক।আজ তো তোমার জন্মদিন,তাই আমি এতদিন তোমায় কিচ্ছুটি জানাইনি,ভেবেছিলাম সারপ্রাইজ দেব।কেমন লাগল শম্পা এই সারপ্রাইজটা?বললে না তো?'
 — 'আমার জন্মদিনের সেরা উপহার অরুণ,সেরা উপহার!'অরুণকে জড়িয়ে ধরল শম্পা।এমন একজন মানুষের সম্পর্কে এতক্ষণ সে কতকিছুই না ভেবেছে,এজন্য নিজেকে মনে মনে ধিক্কার জানায় সে,চোখে অজান্তেই বিন্দু বিন্দু নোনাজল আসে,গড়িয়ে পড়ে অরুণের শার্টে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ