সাদা শাড়ি
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
— 'কি কাজ তোমার এখানে?কেন এসেছ তুমি?কাল এতবার করে আসতে বারণ করলাম তাও এসেছ?নির্লজ্জ মেয়েমানুষ কোথাকার!'
— 'মা তোমার কি হয়েছে বলো তো?ক'দিন ধরেই দেখছি হিয়ার সাথে বড্ড খারাপ ব্যবহার করছ তুমি! কি হয়েছে মা তোমার?'
— 'আবীর,যা বোঝো না তাই নিয়ে কথা বোলোনা!ওই দুশ্চরিত্রা মেয়েকে আমি কিছুতেই আমার ছেলের বৌ হিসেবে মেনে নেব না!'
— 'আন্টি,তুমি আমায় এটা বলতে পারলে?আমি তোমাকে আমার মায়ের জায়গা দিয়েছি মনে মনে আর তুমি...'
— 'এই থামো তো!যে মেয়ের চরিত্রের দোষ আছে আমি তার মা হতে চাই না কোনোদিন! উফ কি দুর্ভাগ্য তোমার মায়ের,তোমার মতো মেয়েকে পেটে ধরেছিলেন,ছ্যা ছ্যা!'
— 'মা তুমি এসব...'
— 'তোমার সাথে সব কথা আমি পরে বলব।আগে এই অলক্ষ্মী কুলটা মেয়েমানুষটাকে চলে যেতে বলো আমার বাড়ি থেকে!'
— 'আন্টি,আমার আর আবীরের সম্পর্ক সেই কলেজ জীবন থেকে।তুমি তো সবটাই জানতে,আমাকে মায়ের মতো আগলে রেখেছিলে এতকাল,আর আজ...'
— 'তখন বোকা ছিলাম,কিন্তু আজ আমি আর বোকা নই।যে মেয়ে অফিস থেকে রাত এগারোটায় বাড়ি ফেরে,তাকে আমার বাড়ির বৌ কোনোদিনই করতে পারব না!আর তোমার বাবার অবস্থাও তো এমন কিছু ভালো না,বিয়েতে পণ ক'টাকা দিতে পারবে শুনি?'
— 'আন্টি কি হয়েছে গো তোমার?আমার যে আন্টি পণ নেওয়াকে ঘৃণ্য অপরাধ বলে মানত,ধনী গরিব সকলকেই সমান সম্মান দিত,মেয়েদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে বলত,সেই আন্টির মুখে আজ আমি এসব কি শুনছি!'
— 'আবীর,আমি আর একটাও কথা বলতে চাইনা ও মেয়ের সাথে,ওকে এই মুহূর্তে চলে যেতে বলো,আর ও যদি না যায়,তাহলে আমিই এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাব!'
— ' না না আন্টি,দরকার নেই এসবের,আমি চলে যাচ্ছি গো,আর কখনও এবাড়িতে আসব না আমি!'
— 'হ্যাঁ,কথাটা যেন মাথায় থাকে!সামান্য লজ্জাও থাকলে আশাকরি আজকের পর আর তোমার মুখ দেখতে হবে না আমায়!'
হিয়া আর দাঁড়াল না।চোখের জল মুছে বেরিয়ে এল আবীরের বাড়ি থেকে।হাঁটার ক্ষমতা ছিল না তার,টলছিল সে মদ্যপের মতো।মনে পড়ছিল দীর্ঘ সাতবছরের সব ঘটনা।আবীরের জীবনে বিধবা মা শ্রীমাদেবীই ছিলেন সব।শুধু মা নন,আবীরের বেস্টফ্রেন্ড ছিলেন তিনি।আবীর জীবনের যাবতীয় ঘটনা শেয়ার করত মায়ের সাথে।তবে প্রথম প্রেমের কথাটা মাকে জানাতে একটু দ্বিধাবোধ করেছিল সে,মা কিভাবে নেবে সেই ভেবে।যদিও শ্রীমাদেবীর চোখ এড়ায় নি আবীরের মাঝে মাঝেই খেতে খেতে হঠাৎ সলজ্জ হাসিতে মুখ লাল হয়ে যাওয়া,কলেজ থেকে দেরি করে ফেরা,গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইলের স্ক্রিনে ডুবে থাকা।সবটাই ধরে ফেলেছিলেন তিনি।হঠাৎই একদিন সন্ধ্যেবেলায় আবীর যখন পড়তে বসেছে,শ্রীমাদেবী হাজির সেখানে।আবীর কিছু বলার আগেই তিনি কপট গাম্ভীর্য সহকারে বললেন, 'মেয়েটি কে?'
আবীর ভীষণ ঘামতে শুরু করল,হার্টবিট বেড়ে গেল তার,কোনোরকমে ঢোক গিলে বলল, 'কোন্ মেয়ের কথা বলছ?'
— 'হিয়া!'
'সর্বনাশ! মা নামটাও জেনে ফেলেছে!' এই ভেবে আবীর যখন ভয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে তখনই শ্রীমাদেবী বললেন, 'কি রে,নামটা কিভাবে জানলাম এটাই ভাবছিস তো?'
— 'হ্যাঁ,না না,না মানে....'
— 'কি হ্যাঁ না করছিস?শোন আমিই বলি।সেদিন রাতে ঘুমের ঘোরে বারবার বলছিলি, 'হিয়া,আই লাভ ইউ সো মাচ বেবি!'
'এসব মা শুনে ফেলেছে!ছি ছি কি যে করি আমি!ঘুমিয়ে পড়লেই আর জ্ঞান থাকে না আমার!' ভেবে লজ্জায় নাথা নিচু করল সে।
— 'থাক থাক,আমার লজ্জাবতী লতা,আর লজ্জা পেতে হবে না!হিয়াকে একদিন নিয়ে আসিস এই বাড়িতে,আমিও দেখতে চাই কে সেই মেয়ে,যার নাম কিনা আমার লাজুক ছেলেটা স্বপ্নেও উচ্চারণ করছে!'
— 'ধুস!' বলেই আবীর লাজুক মুখে বই চাপা দিয়ে চলে এসেছিল ঘরের বাইরে।
পরের দিনই হিয়া এসেছিল আবীরদের বাড়িতে,লাল শাড়ি পরে।শ্রীমাদেবী হাসতে হাসতে প্রশ্ন করেছিলেন, 'লাল শাড়ি পরে এলি কেন রে?হবু বৌ বলে?'
হিয়া সেকথা শুনে লজ্জায় লাল হয়ে গেছিল।
— 'ওমা,এত লজ্জা পাস না,শাড়ি আর গালের রঙ যে মিলে গেল!'
— 'আসলে লাল রঙ আমার বড্ড প্রিয়,সেজন্যই...' কোনোরকমে লাজুক হেসে উত্তর দিল হিয়া।
— 'আচ্ছা বেশ বেশ,আর লজ্জা পেতে হবে না,মায়ের কাছে আবার মেয়ের কিসের লজ্জা?'
শ্রীমাদেবীর মুখে এই কথা শুনে আনন্দে চোখে জল এসে গিয়েছিল আবীর আর হিয়া দুজনেরই।দুজনকে বুকে টেনে নিয়ে শ্রীমাদেবী বলেছিলেন, 'এই বুড়ির এতকাল একটাই দামড়া ছেলে ছিল,আজ থেকে এই বুড়িটার দুটো সন্তান,বুঝলি?'
অন্যদিকে হিয়াও বাড়িতে সবটাই জানায়।দুই বাড়ির অভিভাবকেরা মিলে সিদ্ধান্ত নেন,আবীর আর হিয়া দুজনেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পর একটা শুভদিন দেখে চার হাত এক করে দেওয়া হবে।
এরপর কেটে গেল দীর্ঘ সাতটা বছর।আবীর ব্যাঙ্কে চাকরি পেল,আর হিয়া এক বেসরকারি সংস্থায়।কথাবার্তা এগোচ্ছিল বিয়ের জন্য।দুটো মন দিন গুনছিল,কবে মিলন হবে তাদের অফিশিয়ালি।কিন্তু হঠাৎই সপ্তাহ দুয়েক হল শ্রীমাদেবী এমন অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেছেন।আবীর আর হিয়া দুজনেরই বোধগম্য হচ্ছে না শ্রীমাদেবীর এহেন আচরণ।এই শ্রীমাদেবী বড্ড অচেনা তাদের কাছে।আবীর শ্রীমাদেবীর এই আচরণের জন্য মায়ের হয়ে ক্ষমাও চেয়েছে হিয়ার কাছে।হিয়া আবীরের হাতদুটো ধরে বলেছে, 'ধুস পাগল,মা মেয়েকে দুটো কড়া কথা বলেছে অভিমানে,এর জন্য ক্ষমা চাওয়ার কি আছে শুনি?' কিন্তু মনে মনে হিয়া যথেষ্ট আঘাত পেয়েছে।
এসব কিছু ভাবতে ভাবতে মদ্যপের মতো রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল হিয়া বেখেয়ালে।হঠাৎই একটা ট্যাক্সির সামনে এসে পড়ল সে।ট্যাক্সিওয়ালা সঠিক সময়ে ব্রেক না কষলে বড়োসড়ো দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।হিয়ার হুঁশ ফিরল ট্যাক্সিচালকের ধমকে 'আরে নেশা টেশা করে রাস্তায় বেরিয়েছেন নাকি!এক্ষুণি তো একটা বিপদ ঘটতে যাচ্ছিল!'
হিয়া সামলে নিল নিজেকে।কোনোরকমে বাড়ি ফিরল ও।
বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিল ও।হাজার ভেবেও আন্টির এরকম আচরণের কোনো কারণ মাথায় এল না ওর।ভাবল আবীরের সাথে এই নিয়ে কথা বলবে।এই ভেবেই আবীরকে একটা মেসেজ করল ও,যে আগামীকাল কফিশপে দেখা করবে ওরা।
হিয়া কফিশপে এসে দেখে আবীর তার আগেই এসে পৌঁছেছে।হিয়াকে আসতে দেখে আবীর বলল,'এত দেরি হল কেন আসতে?কি এমন রাজকার্য ছিল তোর শুনি?'
আবীর কখনো হিয়াকে আগে এভাবে বলেনি।একটু শকড হল হিয়া।নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, 'সরি রে।'
— 'সরি বললেই সাতখুন মাপ হয় না হিয়া!' রাফলি কথাটা বলল আবীর, 'সবারই সময়ের দাম আছে,তোর না ই থাকতে পারে অবশ্য!'
— 'আবীর তুই এভাবে বলছিস!তুই!এর আগে এমনও হয়েছে আমি এক ঘন্টা লেট করেছি,তুই কিচ্ছুটি বলিসনি আমায়,আজ মাত্র পাঁচ মিনিট লেট করেছি বলে...'
— 'শোন ওসব কথা এখন থাক।আগে বল,কি কারণে ডেকেছিস আমায় কফিশপে?'
— 'আচ্ছা শোন বলি।' বলেই আবীরের হাতদুটো নিজের মুঠোয় নিয়ে বলল হিয়া, 'তোর কষ্টটা বুঝতে পারছি রে আমি,তুই কেন এভাবে রিয়্যাক্ট করছিস সবটা বুঝতে পারছি রে বাবু!'
হিয়ার এই কথা শুনে একটু যেন থতমত খেয়ে গেল আবীর, 'কি বুঝতে পারছিস শুনি?অন্তর্যামী হয়ে গেছিস নাকি আজকাল?'
— 'যাকে ভালোবাসি,তার মন পড়ে ফেলতে অন্তর্যামী হতে হয়না রে পাগল,শুধু তার চোখদুটো ভালো করে দেখলেই বোঝা যায় সবটা।'
— 'তাই?তা কি বুঝলি?'
— 'আবীর,তুই যতই রিয়্যাক্ট করিস,তোর চোখদুটো অন্য কথা বলছে।তুই টেন্সড আছিস,আর চোখদুটো জুড়ে যেন এক পাহাড় কষ্ট,কি হয়েছে রে তোর সোনা?আমার সাথে শেয়ার করবি না?'
— 'ধ্যাত,কি যাতা বকছিস!কোনো দুঃখ নেই আমার মনে!' মনে মনে আবীর ভাবল, 'আমায় এভাবে দুর্বল করে দিস না হিয়া।অনেক কষ্টে নিজের মনকে আমি শক্ত করেছি,এভাবে নরম করে দিসনা আমায়!' মুখে বলল, 'আর কিসের জন্যই বা দুঃখ করব শুনি!'
— 'আন্টির জন্য।'
— 'মায়ের জন্য?কেন কি হয়েছে মায়ের?'
— 'আবীর গতকাল আমি অনেক ভাবলাম জানিস তো বাড়ি ফিরে,আন্টির এমন অদ্ভুত আচরণের কারণ।তারপর মনে হল,আন্টির কোনোভাবে মনের অসুখ হয়নি তো!তাই ভাবলাম,আন্টিকে কোনো সাইকোলজিস্টের কাছে নিয়ে গেলে কেমন হয়!'
— 'কি!' টেবিল চাপড়ে চেঁচিয়ে উঠল আবীর, 'তুই আমার মাকে পাগল বললি?এত বড় সাহস মাকে অসম্মান করলি তুই!'
— 'এমা,পাগল কেন হবে আন্টি?আবীর শোন,তোর বুঝতে ভুল হচ্ছে,দেখ শরীরের যেমন অসুখ হয়,তেমন মনেরও হয়।শরীরের অসুখ হলে তো আমরা ডাক্তার দেখাই,তাহলে মনের অসুখ হলে ডাক্তারের কাছে যেতে লজ্জা কিসের?আর আবীর,তোর তো কখনো এসব ট্যাবু ছিল না,আজ হঠাৎ এরকম করছিস কেন?আর তুই নিজেও জানিস আমি আন্টিকে কতটা সম্মান করি,আমি কেন অসম্মান করব আন্টিকে বল?'
— 'শোন এত কথার দরকার নেই।আমি তোর সাথে আর এক মুহূর্তও কথা বলতে ইন্টারেস্টেড নই,আর কাল মা ভুল কিছু বলেনি তোকে।'
— 'আবীর!তুই একথা বলছিস?' মনে ভীষণ আঘাত পাওয়া হিয়ার চোখে জল এসে গেল।
— 'আর শোন,আমাকে আর ফোন মেসেজ করে ডিস্টার্ব করবি না,ওকে!সামনেই আমার বিয়ে,মা পছন্দ করেছে পাত্রী।আর আমার নিজেরও তাকে পছন্দ হয়েছে যথেষ্ট।মেয়েটার বাবা ব্যবসায়ী,বিয়েতে পাঁচ লাখ টাকা দেবে বলেছে,সেই সাথে গা ভর্তি গয়নাও দেবে।সো তুই বাইরের লোক হয়ে আর আমাদের পরিবারে উপযাচক হয়ে নাক গলাস না কেমন।'
হিয়া কিছু বলতে যাচ্ছিল,কিন্তু আবীর ওকে কিছু বলতে না দিতেই বলে যেতে লাগল, 'আর তোর বাড়িতে একদিন যাব,বিয়ের নেমন্তন্ন করতে!'
— 'এক কাজ করতে পারবি আবীর!' হিয়া বলল, 'একটু বিষ এনে দিতে পারিস আমায়?তোর মুখে এসব কথা শোনার চেয়ে মরে যাওয়াটাই বোধহয় বেটার হত!যাই হোক,প্লিজ নেমন্তন্ন করতে আসিস না আমাদের বাড়িতে!তার চেয়ে বরং বিষ হাতে করে আনিস আমার জন্য,সেটাই বেশি স্বস্তিদায়ক হবে আমার কাছে।আসি রে!'
চোখের জল মুছে হিয়া চলে গেল।আবীর তার চলে যাওয়া দেখতে লাগল প্রাণভরে।আস্তে আস্তে হিয়া দূরের রাস্তায় মিলিয়ে গেল।আবীরের চোখ ঝাপসা হয়ে এল।
কেটে গেছে একবছর।আজ হিয়ার বিয়ে,তবে আবীরের সাথে নয়,সৌম্যদীপের সাথে।সেই কফিশপে দেখা হওয়ার একমাস পরেই আবীরের বিয়ে হয়েছে নিবেদিতা বলে একটি মেয়ের সাথে,তবে এখানে নয়,দিল্লিতে কোনো এক পাঁচতারা হোটেলে,এমনটাই কানে এসেছে হিয়ার।শোনা যায়,তারপর থেকে দিল্লিতেই আছে আবীর,নিবেদিতা,আর শ্রীমাদেবী।আর কলকাতায় ফেরেননি কেউ।প্রথমে আবীরের সাথে সম্পর্ক শেষ হওয়ার কষ্ট না মানতে পারলেও আস্তে আস্তে সবটাই মেনে নিয়েছে হিয়া।মা বাবার পছন্দের পাত্র সৌম্যদীপকে বিয়ে করছে সে আজ।
যথারীতি ধুমধাম করে বিয়েটা হয়ে গেল হিয়া-সৌম্যদীপের।লাল বেনারসী,আর এক সিঁথি সিঁদুরে মোহময়ী লাগছিল হিয়াকে।
হঠাৎই এক বয়স্কা মহিলার প্রবেশ,পরণে তার সাদা শাড়ি।তবে মুখটা ঘোমটায় ঢাকা।চারিদিক দেখে নিয়ে খুব সন্তর্পণে ঘোমটা সরালেন রহস্যময়ী।খুলেই বিয়ের কনেকে দু'চোখ ভরে দেখলেন তিনি,আশীর্বাদ করলেন প্রাণভরে।
এই রহস্যময়ী মহিলা হলেন আবীরের মা শ্রীমাদেবী,হিয়ার আর এক মা।গতবছর যখন আবীর আর হিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছিল,তখন হঠাৎই একদিন বাড়ি ফিরেই আবীর অজ্ঞান হয়ে পড়ে।তারপরেই শুরু হয় প্রচণ্ড মাথা যন্ত্রণা।আবীর বলেছিল তার মাকে,যে এমন মাথা যন্ত্রণা নাকি মাঝে মাঝেই তার হয়,কিন্তু সে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি সেই যন্ত্রণাকে।ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় আবীরকে।সিটি স্ক্যানের পর জানা যায়,আবীরের ব্রেন টিউমার হয়েছে।আর বাঁচানো সম্ভব নয় তাকে,হাতে মাত্র দু'মাস সময় আছে তার।সেদিনই শ্রীমাদেবী ঠিক করেন,হিয়াকে এতটাই অপমান করবেন তিনি,যাতে আবীরের জীবন থেকে সে সরে যায়,ভেঙে যায় তাদের বিয়ে।আবীর প্রথম দিকে মায়ের এমন আচরণের কারণ বুঝতে না পারলেও পরে শ্রীমাদেবী আবীরকে সবটা বুঝিয়ে বলেন।হিয়ার কাছ থেকে গোপন রাখতে বলেন আবীরের অসুখের কথাটা।আবীরও হিয়াকে নিবেদিতার সাথে বিয়ের মিথ্যে গল্প বলে।
আবীরের মৃত্যুসজ্জায় শ্রীমাদেবী আবীরের হাতদুটো জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন,তোর যখন মাত্র দু'বছর বয়স,তোর বাবা মারা যান।বৈধব্যের যে কি জ্বালা,তা যে আমার থেকে ভালো আর কেউ বোঝেনা রে বাবা।আমার হিয়াও আমার মতোই কষ্টে জীবনটা কাটাক,তা যে আমি সহ্য করতে পারব না!আমার মেয়েকে যে সাদা শাড়িতে দেখতে পারব না আমি!'
চারিদিকে অনেক লোক,কেউ দেখে ফেলতে পারে যেকোনো মুহূর্তে।আবীরের মাকে অনেকেই চেনে,যারা আজ হিয়া-সৌম্যদীপের বিয়েতে এসেছে,তাঁকে দেখলে অনেক প্রশ্ন উঠবে।দেরি না করে তাড়াতাড়ি ঘোমটায় মুখ ঢেকে বিয়েবাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন শ্রীমাদেবী।

6 মন্তব্যসমূহ
নমস্কার দিভাই। আপনার লেখা অনেকদিন ধরেই ফেসবুক এ ফলো করি। আপনার নতুন ব্লগ এর জন্যে শুভেচ্ছা রইলো। আপনার কাছ থেকে এরম আরো লেখার অপেক্ষায় থাকলাম।
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ।সঙ্গে থাকুন এইভাবেই💜💜
মুছুনঅসাধারণ লেখা। মন ছুঁয়ে গেল❤️
উত্তরমুছুন🌹🌹🌹💜💜💜
মুছুনঅসাধারন লেখা। মন ছুঁয়ে গেল ❤️
উত্তরমুছুন🤗🤗🤗❣️❣️❣️
মুছুন