Advertisement

স্বেচ্ছায়


 

স্বেচ্ছায়

সুচন্দ্রা চক্রবর্তী


 — 'তনয়া,এতদিন পর বুঝি মনে পড়ল তোর বান্ধবীর কথা?বিয়েতেও তো এলি না!'

 — 'আর বলিস না দোলন,অফিসে বসের কাছে গিয়ে কি রিকোয়েস্ট টাই করলাম,সে উনি শুনলেনই না আমার কথা,বললেন,'ট্যুরে তোমায় যেতেই হবে,তাই ভারাক্রান্ত মন নিয়ে রওনা দিলাম।এদিকে আমার বেস্ট ফ্রেন্ডটার বিয়ে হচ্ছে,আর আমি তখন বিদেশের হোটেলে আছি ল্যাপটপে চোখ দিয়ে।'

 — 'আচ্ছা বেশ বেশ,আয় ভেতরে আয়।'

 — 'এই দোলন,দাঁড়া তো একবারটি,তোকে দেখে নিই ভালো করে!'

 — 'ধুস পাগলি,কি দেখবি আমায়?আজ কি নতুন দেখছিস নাকি আমায়?'

 — 'দোলন,তুই না বলেছিলি বিয়ের পর সিঁদুর শাঁখা পলা এইসব পরবি না কোনোদিন?'

— 'হ্যাঁ বলেছিলাম তো।'

— 'অবিনাশদা ছিল তোর প্রথম প্রেমিক,তাকে তো মন থেকে মুছে ফেলেছিলি ও খুব ডমিন্যান্ট ছিল বলে,মনে আছে প্রায়দিনই তোদের কত ঝগড়া হত?তুই বলেছিলি বিয়ের পর শাঁখা সিঁদুর পরবি না কোনোদিন,আর অবিদাও মানত না,খালি চিৎকার করে বলত,'এগুলো রীতি,মানতেই হয়!' তুই কয়েকদিন পরেই সম্পর্ক ছিন্ন করলি।'

— 'সবই মনে আছে রে আমার।'

— 'সেই তুই,আজ শাঁখা সিঁদুর পরে ঘুরছিস?'

— 'আসলে কি জানিস তনু,কোনো রীতিনীতি জোর করে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না,আসে অন্তর থেকে।অবিনাশ বারবার আমায় বলত,চেঁচামেচি করত, 'আমায় পুরোনো রীতিনীতি নিয়মকানুন মেনে চলতেই হবে।' আর জানিস তো তনু,মানুষের স্বভাবই হল,যা কিছু জোর করে তার উপর চাপানোর চেষ্টা হবে,সে বারবার তার বিরোধিতা করবেই।সে কারণে ও যত জোর করেছে,আমি ততই জেদি হয়ে উঠেছি ক্রমশ।কিন্তু আজ অনন্তকে দেখ,ও কোনোদিন কক্ষনো কিছু চাপিয়ে দেয়নি আমার ওপর কোনোদিন,আমার সব ইচ্ছেকে সম্মান করেছে প্রতিনিয়ত।সে কারণেই আজ সিঁদুরটা পরলাম আমি।অনন্তর মতো মানুষের জন্য সিঁদুরটা আমার কাছে গর্বেরও বলতে পারিস।'

— 'ঠিক বলেছিস দোলন,বলপ্রয়োগ করে যা আদায় করা যায়,তার চেয়ে যা স্বেচ্ছায় করা যায়,তার সৌন্দর্য্য আর ঔজ্জ্বল্য অনেক বেশি।'

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ

  1. দিদি আমি আপনার লেখার একজন ভক্ত, খুব ভালো লাগে আপনার লেখা পড়তে। আমি ব্লগ টি সাবস্ক্রাইব করলাম। আরো অনেক সুন্দর লেখনীর অপেক্ষায় থাকলাম 😊😊

    উত্তরমুছুন