অষ্টমী তিথি
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
তৃতীয় পর্ব
সপ্তমীর ভোরে সকলে মিলে বেরোলো।কলাবৌ স্নান করানো হবে একটা দীঘিতে,দীঘিটা রাজবাড়ি থেকে প্রায় কয়েক কিলোমিটার দূরে।সকলে হেঁটে রওনা দিল,তিথিও গেল দুই বন্ধুর সাথে।কিন্তু হঠাৎই ঘটে গেল এক দুর্ঘটনা।তিথি হঠাৎ পা হড়কে পড়ে গেল দীঘির জলে।সবাই মিলে চিৎকার করতে লাগল আশঙ্কায়।
'তিথি সাঁতার জানে না!প্লিজ হেল্প হার!'
— 'ও কি বলছিস অস্মি!কি হবে এখন?' রাণীমাও শঙ্কিত গলায় বলে উঠলেন।
সকলে ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পড়লেন,কারণ তিথিকে এখন আর কোথাও দেখা যাচ্ছে না,সকলে আশঙ্কা করছেন ও বুঝি তলিয়ে গেল!
— 'আঙ্কেল আন্টিকে কি জবাব দেব আমি ঝুম্পা!' কাঁদতে লাগল অস্মিতা,'আমাকেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন ওনারা তিথির...'
হঠাৎ এক আশ্চর্য কান্ড ঘটল।তিথি হঠাৎই জল থেকে সুস্থভাবে উঠে এল।
— 'তোমরা অত চিন্তা কোরো না,আমি তো ডুব সাঁতার দিচ্ছিলাম মাত্র!'
— 'যাক তোমার কিছু হয়নি তাহলে,মা রক্ষে করেছেন,'চামেলীদেবী পরম নিশ্চিন্ত গলায় বললেন।
— 'এটা তোর মজা করার জায়গা পেয়েছিস?ওঠ তাড়াতাড়ি,' অস্মিতা রাগী গলায় বলল।
এরপর রাজবাড়িতে ফিরেই তিথি অস্মিতা আর ঝুম্পা যখন নিজেদের ঘরে এল,তখন অস্মিতা আর ঝুম্পা সাগ্রহে জিজ্ঞেস করল,'কিন্তু তুই তো সাঁতারই জানিস না জানতাম।তাহলে আজ ডুব সাঁতারটা দিলি কিভাবে?'
— 'তোরা ভুল জানিস,ডুব সাঁতারটা আমি জানি।' বলে মুচকি হাসল তিথি।
যদিও মনে মনে ও জানে যে ও ডুব সাঁতার জানেনা,আজকে ও কিভাবে ডুব সাঁতার দিল তা ওর নিজেরই অজানা,কিন্তু তার চেয়েও আর একটা ব্যাপার ভাবাচ্ছিল ওকে,সেটা হল জলের তলায় ও একটা পাথরের বাক্স পেয়েছে,যদিও কাউকেই জানায়নি বাক্সটার ব্যাপারে,কারণ সব রহস্য উদঘাটন ওকে নিজেকেই করতে হবে।
সেদিন দুপুরে সবাই যখন ভাতঘুমে মগ্ন,তখনই বাক্সটা খুলল তিথি।ভেতরে হলদে হয়ে যাওয়া একটা কাগজ,দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেক পুরোনো,মনে হচ্ছে কারোর চিঠি।বহুপুরোনো কাগজ,তাই আবছা হয়ে গেছে লেখাগুলো।অনেক কষ্টে তিথি লেখাগুলো পড়তে লাগল।লেখা আছে,'সুকান্ত,আমি বড়ো বিপদে আছি,তুমি আজ এখানে একা এসো না,এলে লোকবল সঙ্গে এনো।
ইতি,তোমার প্রিয়া।'
ভীষণ অবাক হয়ে গেল তিথি।কে সুকান্ত? আর এই চিঠিটাই বা কার লেখা?আর এইভাবে পাথরের বাক্সে রাখা কেন?সে ঠিক করল আজ সন্ধ্যেবেলায় আবার যেতে হবে বাগানবাড়িতে,আর অবিনাশের কথা মতো পুকুরের বটগাছের কাছে চাবিটা আজ ওকে খুঁজে বের করতেই হবে।চিঠিটা জিনসের পকেটে ঢুকিয়ে রাখল তিথি,আর পাথরের বাক্সটা কলকাতা থেকে আনা জামাকাপড়ের বাক্সে লুকিয়ে রাখল সে।
বিকেল হতেই রূপা এসে তিথিদের তাড়া দিতে লাগল,'তোমরা তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে পুজোমন্ডপে এসো।আজ রাত নটা নাগাদ অষ্টমী পড়ছে,তাই বিশাল আয়োজন হবে পুজোমন্ডপে।তাড়াতাড়ি চলে এসো তোমরা।'
অস্মিতা আর ঝুম্পা রেডি হয়ে চলে গেল পুজোমন্ডপে,আর তিথি 'একটু পরে আসছি' বলে বাগানবাড়ির দিকে গেল।চাবিটা ওকে খুঁজে পেতেই হবে।অবিনাশের কথাগুলো মনে করে ও এগিয়ে গেল পুকুর পাড়ের দিকে।কিন্তু এসেই ও অবাক।সেই মহিলা বসে আছে পুকুর পাড়ে,যাকে ও কাল দেখেছিল এখানে,তারপর হঠাৎ হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল।
— 'আপনি কে বলুন তো?কি চান?আর কাল ওভাবে কোথায় চলে গিয়েছিলেন?'
— 'ওই যে বললাম দিদিমণি,সবটা তোমাকেই খুঁজতে হবে।শুধু এটুকুই বলব,যে আর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা...' বলেই হাসতে হাসতে কোথায় যেন চলে গেল।
'কোত্থেকে সব পাগল এসে জোটে কে জানে...'বলেই তিথি চলে গেল বটগাছটার কাছে।একটা পুরোনো কোদাল পড়ে ছিল পাশেই,ওটা দিয়েই মাটি খুঁড়তে শুরু করল সে।অনেকটা মাটি খুঁড়ে ফেলার পরও সেরকম কিছুই পেল না তিথি।ক্লান্ত হয়ে পড়ল সে,'তবে কি আমি ভুল শুনেছিলাম?চাবিটা কি এখানে নেই?'
হতাশ তিথি উঠে চলে যাচ্ছিল,হঠাৎ কিসের একটা আলো এসে চোখে লাগল তিথির।তাড়তাড়ি আলোর উৎসের দিকে তাকিয়ে দেখে,খোঁড়া গর্তটা থেকে একটা চকচকে পাথর উঁকি দিচ্ছে।তাড়তাড়ি করে পাথরটা টেনে বের করতে গিয়ে একটা ছোটো বাক্স বেরিয়ে এল।বাক্সটার গায়ে বেশ কিছু চকচকে পাথর লাগানো আছে বাক্সটির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য।বিকেলের পড়ন্ত রোদ পড়েই এরকম একটা পাথর থেকে আলো ঠিকরোচ্ছিল।বাক্সটায় অদ্ভুতভাবে কোনোরকম তালা দেওয়া ছিল না।
তিথি আর সময় নষ্ট না করে চটপট বাক্সটা খুলে ফেলল।বাক্সের ভেতর অনেক সোনার গয়নাগাঁটি ছিল,দেখেই চোখ ধাঁধিয়ে গেল তিথির।কিন্তু চাবিটা কই?গয়নাগুলোর ভেতর হাতড়াতে লাগল তিথি।কতরকম গয়না,সাতনরি হার,হীরে বসানো আংটি,ঝুমকো,বালা,টিকলি,মুকুট আরও কত কি।সব হাতড়ে একেবারে বাক্সের তলার দিকে একটা চাবি পাওয়া গেল।অনেক দিনের পুরোনো চাবি,জং ধরে গেছে।তিথি গয়নাভর্তি বাক্সটা এক হাতে নিয়ে অন্য হাতে চাবিটা দিয়ে অষ্টমীর ঘরের তালাটা খুলতে চেষ্টা করল।বহুদিন তালা চাবিটি অব্যবহৃত পড়ে থাকায় বেশ কসরত করতে হল তিথিকে।ঘরটা খুলে ভেতরে ঢুকল তিথি।এই সেই ঘর যেটা পঁচিশ বছর ধরে বন্ধ।ঘরটা খুলতেই বেশ কিছু চামচিকি আর বাদুড় তিথির কান ঘেঁষে উড়ে বেরিয়ে গেল।ঘরে জায়গায় জায়গায় মাকড়সার জাল।অতি কষ্টে জাল ছিঁড়ে এগোতে লাগল তিথি।হঠাৎ পায়ের শব্দ পেল তিথি।মনে হল কারা যেন বাগানবাড়ির দিকেই আসছে।তাড়াতাড়ি দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিল তিথি।যদি কেউ আসেও এদিকে,অষ্টমীর ঘরটা দোতলায়,এই ঘরের দিকে সহসা আসবে না।অন্যদিকে বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যেও নেমেছে,অন্ধকারে কেউ খেয়ালও করবে না যে দরজাটার তালা খোলা হয়েছে।তিথি শুনতে পেল,অস্মিতা আর ঝুম্পা এসেছে ওকে খুঁজতে,আর ওর নাম ধরে ডাকছে।চুপচাপ ঘরে দাঁড়িয়ে রইল তিথি,আর ওর মোবাইলটা সাইলেন্ট করে দিল।অনেক ডেকে অস্মিতারা একসময় ফিরে গেল।ওরা যখন বাগানবাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে চলে গেছে,তিথি ওদের ফোনে বলল যে ও গ্রামের অন্যান্য পুজোমন্ডপ ঘুরে দেখছে,দেখা হলেই ও ফিরে আসবে রাজবাড়িতে।সেই শুনে চিন্তামুক্ত হয়ে অস্মিতা আর ঝুম্পা রাজবাড়ির পুজোমন্ডপে ফিরে গেল।
তিথি মোবাইলের টর্চ জ্বেলে এগিয়ে গেল ঘরের ভেতরে।ঘরে একটা পালঙ্ক রয়েছে,তার পাশে একটা কাঠের চেয়ার আর টেবিল।টেবিলের গা ঘেঁষে একটা জানালা আছে,তবে বন্ধ।অনেক কষ্টে জানালাটা খুলল তিথি।পঁচিশ বছর ধরে যে জানালা কেউ খোলেনি,সেই জানালা খোলা কি সহজ হয়?জানালা খুলেই এক মনোরম দৃশ্য দেখতে পেল তিথি।চাঁদের আলো এসে বাগানবাড়ির পুকুরটায় পড়ছে,আর গোটা বাগানটাই দেখা যাচ্ছে আবছা মায়াবী আলোয়।এই জানলাটার কথাই কি বলেছিল অস্মিতা?এই টেবিলে বসেই কি লেখালেখি করত অষ্টমী?এই টেবিলে গয়নাভর্তি বাক্সটা রেখে এগিয়ে গেল তিথি।এরপর আবছা আলোয় দেখল,একটা ছবি টাঙানো রয়েছে দেওয়ালে।মোবাইলের আলো ছবিটার ওপর ফেলল সে।ছবিটি ক্যামেরাবন্দি নয়,কারোর আঁকা ছবি সেটা।ঝলমলে শাড়ি,রকমারি গয়না পরে কালো কোঁকড়ানো চুল খুলে চেয়ারে বসে আছে এক নারী,কিন্তু বহুদিনের পুরোনো হওয়ায় ছবিটির জায়গায় জায়গায় ধুলো জমে আছে,মুখটা ভালো করে দেখা যাচ্ছে না।হাত দিয়ে ধুলো যতটা সম্ভব পরিষ্কার করে ছবির নারীর মুখের ওপর আলো ফেলল সে।আর মেয়েটির মুখ দেখেই হকচকিয়ে গেল সে।ছবির মেয়েটির মুখ অবিকল তিথির মতো।যেন তারই ছবি কেউ এঁকেছে পরম যত্নে।কিন্তু এ কিভাবে সম্ভব?এটাই কি তাহলে অষ্টমীর ছবি?ছবিটা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল তিথি।ছবিটার নিচের দিকে এক কোণে একজনের সই দেখতে পেল তিথি।ভালো করে খেয়াল করে দেখল,সুকান্তকুমার লেখা আছে,অর্থাৎ সুকান্তকুমারের আঁকা এই ছবিটা।সুকান্ত নামটা কেমন যেন শোনা শোনা মনে হল তার।চকিতে মনে পড়ে গেল,আজ দীঘির জলের তলায় বাক্সের ভেতর যে চিঠিটা ও পেয়েছে সেখানেই নামটা পড়েছিল।তাড়াতাড়ি জিনসের পকেট থেকে চিঠিটা বের করল ও।চিঠিতে লেখা আছে,ইতি তোমার প্রিয়া।তিথির মাথায় হাজার প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল।সুকান্ত তাহলে কে?আর অষ্টমীর সাথেই বা ওর কি সম্পর্ক?আর এই চিঠিটাই বা কে লিখেছে সুকান্তকে?কুমুদিনী বলেছিল,অষ্টমীর এক প্রেমিক ছিল,অষ্টমীর মৃত্যুর পর সেও নিখোঁজ হয়ে যায়।তবে কি সুকান্তই অষ্টমীর সেই প্রেমিক?আর এই চিঠিটা কি অষ্টমীই লিখেছিল সুকান্তকে?যদি তাই হয়,তবে চিঠিটা জলের তলায় গেল কিভাবে?তিথি ঠিক করল ওকে সব প্রশ্নের উত্তর পেতেই হবে।তাই ও গোটা ঘরটা তন্নতন্ন করে খুঁজতে লাগল।ও দেখল,একটা আলনা রয়েছে ঘরের ভেতর,আর তাতে রংবেরঙের অনেক ঝলমলে শাড়ি গুছিয়ে রাখা রয়েছে।তিথি শাড়িগুলো নামিয়ে নামিয়ে দেখতে লাগল।শাড়িগুলোয় আলতো করে হাত বোলাতে লাগল ও,কেমন যেন নেশা লাগল ওর।মনে হতে লাগল,এই শাড়ি,ঘর সব যেন ওরই।হঠাৎ আলনায় রাখা একটা লাল বেনারসির দিকে চোখ পড়ল তিথির।সেদিকে এগিয়ে গিয়ে বেনারসিটা আলনা থেকে নামিয়ে আনতে গেল ও।কিন্তু বেনারসিটায় হাত দিতেই কেমন যেন ঝটকা লাগল ওর,মনে হল ও যেন শক খেল,আর তাতেই মাথা ঘুরে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল তিথি।কেমন যেন ঘোরের মধ্যে রয়েছে ও।ওঠার চেষ্টা করেও উঠতে পারছে না।চোখও খুলতে পারছে না।হঠাৎই তার বন্ধ চোখের ঘন অন্ধকারের মধ্যে কিছু ছবি ফুটে উঠল।ওর চোখে ফুটে উঠল সেই স্বপ্নগুলো,যেগুলো ও এই কদিন ঘুমের মধ্যে দেখছিল।ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠতে লাগল দৃশ্য গুলো।অষ্টমী নামের সেই রহস্যময়ী যুবতীটির মুখটাও স্পষ্ট দেখতে পেল তিথি।অষ্টমী দেখতে হুবহু তারই মতো,যেন আর একটা তিথি।তার বাবা হেমচন্দ্র চৌধুরী অষ্টমীর পঁচিশ বছরের জন্মদিন ঘটা করে পালন করছেন,গোটা মহল জুড়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে দেড় বছরের একটি শিশুকন্যা,সকলে তাকে কুমু বলে ডাকছে।রয়েছেন রাণীমা চামেলীদেবী,তাঁর বয়স যথেষ্ট কম,আর তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ষোলো সতেরো বছর বয়সের অবিনাশ।একটু পরেই সুকান্তর প্রবেশ রাজবাড়িতে,এই হল অষ্টমীর ভালোবাসার মানুষ,যাকে দেখতে হুবহু তিথির প্রতিবেশী বাড়ির ছেলে অনিন্দ্যর মতো।কিছুক্ষণ পরেই এল অষ্টমীর প্রিয় সখী রেশমি,যাকে দেখতে একেবারেই তিথির মায়ের মতো।রয়েছে সেই রহস্যময়ী মহিলাও,যাকে তিথি বাগানবাড়ির পুকুরের পাশে দেখেছে,তারপর হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল।এই মহিলার নাম মালতি,অষ্টমীর নিজস্ব পরিচারিকা,যদিও মালতি অষ্টমীকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসে,আর অষ্টমীও তাকে মায়ের মতোই সম্মান দেয়।অনুষ্ঠান শেষ হল ধুমধাম করে,অনুষ্ঠান শেষের পর হেমচন্দ্রবাবু ঘোষণা করলেন,'আমার পর এত বড়ো বাড়ি,সম্পত্তি সামলানোর যোগ্যতা একমাত্র আমার বড়ো মেয়ে অষ্টমীরই রয়েছে।তাই এ সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারী হবে অষ্টমী।'
রাজাবাবুর এই সিদ্ধান্তে সকলে খুব খুশি হলেন,কেবল চামেলী দেবী আর অবিনাশের মুখ কেমন যেন ভার হয়ে গেল,তবুও তারা কৃত্রিম হাসি হাসল।এরপর রাজাবাবু অষ্টমী আর সুকান্তের বিয়ে ঠিক করলেন।বিয়ের কথা শুনে অষ্টমী ভীষণ লজ্জিত হয়ে সেখান থেকে দৌড়ে বাগানবাড়ি চলে গেল।ওর পিছন পিছন সুকান্তও গেল।
— 'আজ যে আমার জন্মদিন,তা কি উপহার এনেছ শুনি আমার জন্য?' অভিমান ভরা গলায় অষ্টমী বলল।
— 'তোমার ঘরে চলো,ওখানেই রাখা আছে উপহারটা',বলেই বাগানবাড়ির দোতলার ঘরটার দিকে ইঙ্গিত করল সুকান্ত।
অষ্টমী ঘরে গিয়ে দেখল,দেওয়ালে একটা ছবি টাঙানো আছে,আর এটা তারই ছবি,সুকান্ত এঁকেছে সযত্নে।
ছবিটা দেখে খুব খুশি হল অষ্টমী,এমন সুন্দর উপহার তাকে মুগ্ধ করে দিল।
— 'দাঁড়াও অষ্টমী,তোমার জন্য আরও কিছু আছে,' বলেই সুকান্ত অষ্টমীর হাতে একটা লাল বেনারসি আর একটা বাক্স তুলে দিল।বাক্সটা খুলে অষ্টমী দেখল,তাতে রকমারি গয়না রয়েছে।
— 'এগুলো তোমার মায়ের বিয়ের শাড়ি আর গয়না অষ্টমী,হেমচন্দ্র বাবু আমাকেই বললেন এগুলো তোমার হাতে তুলে দিতে।'
অষ্টমী সেই শাড়ি আর বাক্সটা বুকে জড়িয়ে নিল,'এগুলোই তো মায়ের স্মৃতি।মা চেয়েছিল,আমার বিয়ের সময় আমি যেন এগুলোই পরি।'
পরবর্তী ভাগ পড়ুন : চতুর্থ পর্ব

0 মন্তব্যসমূহ