অষ্টমী তিথি
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
দ্বিতীয় পর্ব
বসার ঘরে ওরা তখন দিব্যি রূপাবৌদি,অর্থাৎ অবিনাশের স্ত্রীর সাথে খোশগল্পে মশগুল।এক্কেবারে সাধারণ,ছাপোষা একজন মানুষ এই রূপাবৌদি।আচারে ব্যবহারে বোঝাই যায় না যে এত বড় বাড়ির বৌ।
তিথি অবশ্য রূপাবৌদিকে দেখে 'চেনা লাগছে' বলেনি।তবে তিথির এই হাবভাব নিয়ে অস্মিতা চিন্তা প্রকাশ করতেই রূপাবৌদি মজার সুরে বললেন,'হ্যাঁ গো হ্যাঁ,সিনেমা দেখলে আর রহস্য গল্পের বই পড়লে অমনটা হয়,মনে হয় রাজবাড়ি মানেই তার অনেক ইতিহাস,গুপ্তধন এসব আছে।তিথি মনে হয় ওইসব গল্প এতটাই মন দিয়ে পড়েছে যে ওর এসব শিরায় শিরায় মিশে গেছে।'
এরকম কথা শুনে সবাই হেসে উঠল,তিথিও।বেমালুম ভুলেই গেল তার সমস্যার কথা।
'এরপর মুড অফ থাকলেই তোমার কাছে আসব,কেমন বৌদি?'এতক্ষণে তিথিকে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল অস্মিতা আর ঝুম্পা।
— 'সে আর বলতে হয় ভাই,যখন ইচ্ছা হবে চলে এসো আমার কাছে।'
— 'ওমা ওমা,খেতে দাও না গো,বড্ড খিদে পেয়েছে।'একটা বছর নয় দশের ছেলে এসে রূপাবৌদির আঁচল ধরে টানতে লাগল।
ওদের বুঝতে অসুবিধা হল না যে এ হল রূপাবৌদি আর অবিনাশদার ছেলে।
— 'ওর নাম সত্যেন্দ্র,আমরা সতু বলে ডাকি।'রূপাবৌদি বললেন।
পরদিন সকালে কুমুদিনী আর রূপা ওদের নিয়ে গেল রাজাবাবুর কাছে,অর্থাৎ কুমুদিনী আর অবিনাশের বাবা হেমচন্দ্র চৌধুরীর কাছে।উনি সর্বদাই বিছানায় শুয়ে থাকেন,বিছানা ছেড়ে ওঠার ক্ষমতা ওনার নেই।
— 'বাবা,এই দেখো,অস্মি এসেছে,আর ওর দুই বন্ধুই এসেছে।'
অনেক কষ্টে রূপা আর কুমুদিনীর সাহায্যে উঠে বসলেন হেমচন্দ্রবাবু।
একে একে অস্মিতা ঝুম্পা তিথি তাঁর সামনে এল।তিথিকে দেখেই হেমচন্দ্রবাবু এক অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলেন।তাঁর চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল,প্রচন্ড চেষ্টা করতে লাগলেন কি একটা বলতে,কিন্তু বিফল হলেন।
— 'কি হয়েছে বাবা?কোনো কষ্ট হচ্ছে?'রূপা আর কুমুদিনী ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
তখনই ঘরে এল অবিনাশ আর রাণীমা চামেলীদেবী।অবিনাশ তিথিদের বাইরে ডেকে এনে বলল,'বাবার আবার কি হল কে জানে!শোন তোরা তিথিকে বাবার ঘরে আনিস না আর।'
— 'কেন অবিনাশদা,এতে তিথির কি দোষ?'
— 'আরে দোষ নয়,বাবা মাঝে মাঝেই ওরকম মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে কাউকে দেখে। কিছু কিছু মুখের আদল হয়ত বাবার কষ্টের কারণ হয়।'
— 'মানে?'
— 'অত মানে বুঝতে পারবি না তোরা।বাবার মাথার ঠিক নেই,কখন যে কি করে আমরাও বুঝি না।হয়ত কোনো কারণে তিথিকে দেখে অস্বাভাবিক আচরণ করছে বাবা,এর কারণ আমাদেরও অজানা।'
— 'আচ্ছা ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি,'তিথি বলল,হেমচন্দ্রবাবুকে দেখে তিথির নিজের খুব আপনজন বলে মনে হল,কিন্তু সকলের সামনে সে কিছুই বলল না,কারণ অস্মিতা এমনিতেই তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করছে,আর রাজবাড়ির অন্যান্য রাও বিষয়টা ভালো চোখে নাও দেখতে পারে।
— 'তিথি,তুমি কিন্তু কিছু মনে কোরো না কেমন,আসলে ওনার মাথার ঠিক নেই কিনা....'অবিনাশ বলল।
— 'না না,কিছু মনে করিনি অবিনাশদা।'
— 'তোমরা বরং পুজোমন্ডপে চলো এখন,মায়ের হাতে অস্ত্রশস্ত্র দেওয়ার কাজ একটু পরেই শুরু হবে।'
কুমুদিনী সকলকে নিয়ে পুজোমন্ডপে গেল।
স্বাভাবিকভাবেই পুজোমন্ডপ,প্রতিমা এসবও তিথির খুব পরিচিত মনে হল,কিন্তু সে সবটা গোপন করল,ঠিক করল এর উত্তর তাকে নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে।
— 'আজ পঞ্চমীর সন্ধ্যে থেকেই তো লোকজন রাজবাড়ির ঠাকুর দেখতে আসা শুরু করবে,তিথিকে ওরা দেখলে যদি আবার গোল বাঁধে....'আশঙ্কিত চামেলীদেবী বললেন 'কিছু একটা ব্যবস্থা কর অবি।'
— 'তুমি কি এতটাই বোকা মনে করো আমায় মা!'অবিনাশ বলল,'আমার সব ভেবে রাখা আছে মা,তুমি অত ভেবো না।'
সন্ধ্যা নামতেই কুমুদিনী রূপা আর তিন বন্ধু নতুন জামা কাপড় পরে সেজেগুজে বেরোল পুজোমন্ডপের উদ্দেশ্যে,কিন্তু হঠাৎ ওদের পথ আটকাল অবিনাশ,'কুমু আর রূপা তোমরা পুজোমন্ডপে এসো,কিন্তু অস্মিতা তোরা পরে আসিস।
— 'কেন অবিদা?'
— 'দেখ অস্মি,তুই না হয় এখানে আগে এসেছিস,কিন্তু ঝুম্পা তিথি ওরা তো আসেনি,প্রতিমা তো পরেও দেখতে পারবি,কিন্তু আর একটু দূরেই আমাদের একটা বাগানবাড়ি আছে,ওখানে ওদের নিয়ে যা তুই।রাতে ওই বাড়ির আলাদাই সৌন্দর্য।'
তিথিও তার মনে আসা নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চায়,তাই সে খুব সহজেই রাজি হয়ে গেল।
অস্মিতা বাগানবাড়ি ঘুরে দেখাতে লাগল।যথারীতি এই বাড়িটাও খুব চেনা লাগল তিথির।চারপাশে বিশাল বাগান,নানারকম ফুলফলের গাছ,আর বাগানের মাঝখানে তিনতলা বাগানবাড়ি।
— 'বুঝলি ঝুম্পা,তিথি',অস্মিতা বলল,'শুনেছি এই বাগানবাড়িতে বেশি থাকতেন এই বাড়ির বড়ো মেয়ে অষ্টমীদি।উনি রাজবাড়ির থেকে এই বাড়িতে থাকতে বেশি পছন্দ করতেন।এই বাড়ির দোতলার একটা ঘর ছিল,সেই ঘর থেকে গোটা বাগানটা দেখা যেত,শুনেছি সেই ঘরেই উনি থাকতেন আর লেখালেখি করতেন মাঝেসাঝে।'
— 'অস্মি,ওই ঘরটা আমায় দেখাতে পারবি?'
— 'হ্যাঁ কেন পারব না,চল না।'
ঘরটা তালাবন্ধ।অস্মিতা বলল,'এই ঘর অষ্টমীদি মারা যাওয়ার পর থেকেই বন্ধ।গত পঁচিশ বছরে এ ঘর কেউ খোলেনি।এর চাবি কোথায় তাও কেউ জানে না।'
তিথি ভালো করে ঘরটা দেখতে থাকে।সে ভাবে যদি একবার ঘরটা খোলা যেত,অনেক প্রশ্নের সে উত্তর পেত।
সেই রাতে তিথি এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখল।সে দেখল বাগানবাড়ির ছাদে এক যুবতী ভেজা চুল মেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে,পরনে তার ঝলমলে শাড়ি,পায়ে নূপুরের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে চলাফেরায়।কিন্তু অদ্ভুতভাবে কিছুতেই তার মুখ দেখা যাচ্ছে না।হঠাৎই কারা যেন তাকে ডাকল,আর সে সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামতে লাগল,নূপুরের ঝুম ঝুম শব্দে গোটা বাগানবাড়ি ভরে গেল।হঠাৎই ঝুম্পার ডাকে ঘুমটা ভেঙে গেল তিথির।স্বপ্নটা শেষ হওয়ার আগেই ঘুমটা ভেঙে যাওয়ায় বেশ বিরক্ত হল তিথি,কারণ সে ভেবেছিল স্বপ্নটা থেকে হয়ত কিছু উত্তর পেলেও পাওয়া যেত।
— 'ভাই,সাতটা বাজে।ষষ্ঠীর দিন কোথায় তাড়তাড়ি উঠবি তোরা তা নয় পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছে!'
অস্মিতা আর তিথি ঘুম ভেঙে ফ্রেস হতে গেল।
ষষ্ঠীর দিনটাও ভালোই কাটল।কিন্তু এইদিন সন্ধ্যেবেলায় আর অবিনাশ আর রাণীমাকে বিব্রত হতে হল না,কারণ তিথি নিজে থেকেই পুজোমন্ডপে গেল না,সে ঠিক করল বাগানবাড়ি আবার যাবে,তবে এবার একা।তার যেন মনে হচ্ছে ওই বন্ধ ঘরটাতেই সব রহস্য লুকিয়ে আছে।
তাই একটু ঘুরে বেড়ানোর নাম করে সে একাই বাগানবাড়ি ঘুরে দেখতে লাগল।এদিকে তেমন কেউ আসেনা বললেই চলে।বাগানবাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটা পুকুর আছে।সন্ধ্যেবেলায় তিথি সে পুকুর পাড়ে গিয়ে বসল।অনেকক্ষণ আনমনা হয়ে বসে থাকল সেখানে তিথি।সে উঠতে যাবে হঠাৎ দেখে এক মাঝবয়সী মহিলা তার পাশে বসে আছে।
চমকে উঠল তিথি।এই মহিলাকে আগে কখনো এবাড়িতে দেখেনি সে।আর এ হঠাৎ এলই বা কোথা থেকে!
তিথি কিছু বলতে যাওয়ার আগেই সে বলে উঠল,'হারানো মানুষ যদি ফেরাও,তবে স্মৃতি কেন ফেরাও না প্রভু!এ তোমার কেমন বিচার!'
— 'মানে!কি বলতে চাইছেন আপনি?'
— 'আমি কিছু বলব না গো দিদিমণি।তোমার মনের ভেতর থেকে উঠে আসা প্রশ্ন গুলোর উত্তর যে তোমাকেই খুঁজে বের করতে হবে!'
— 'কে তুমি?আর আমার মনের ভেতর কি প্রশ্ন তা তুমি কিকরে জানলে?'
— 'ওই যে বললুম,উত্তর তোমাকেই খুঁজতে হবে!তুমি ঠিক পথেই এগোচ্ছ দিদিমণি।'বলেই সেই মহিলা উঠে পড়ল,'আর সেও ফিরবে দিদিমণি,তুমি সব ফিরে পাবে।'মহিলাটি চলে গেল।
তিথি তাকে আটকাবার জন্য যেই পিছন ঘুরল,দেখল কেউ কোত্থাও নেই!মহিলাটি যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।
— 'এ কি এত তাড়তাড়ি এ কোথায় চলে গেল!'তিথি অবাক হয়ে বাগানবাড়ির ভেতর ঢুকল প্রশ্নের উত্তর পাবার আশায়।
সেই বন্ধ ঘরের সামনে গিয়ে সে দাঁড়াল।ও শুধু ভাবছিল দরজাটা খুলবে কিভাবে,এর চাবির সন্ধান কেউ জানে না।অগত্যা বাগানে পড়ে থাকা কিছু ইঁট পাটকেল এনে সে চেষ্টা করল দরজাটা খোলার,কিন্তু বিফল হল বারবার।হঠাৎই অস্মিতা কোথা থেকে হাজির হল,'কিরে এখানে এতক্ষণ ধরে কি করছিস?ওদিকে রাজবাড়ির সবাই তোকে খুঁজছে।কি যে করিস না তুই সত্যি।'
বাধ্য হয়েই অস্মিতার সাথে রাজবাড়িতে ফিরতে হল তাকে।মনে আক্ষেপ রয়েই গেল তার দরজাটা খুলতে পারল না বলে।
সেইরাতেও সেই চেনা স্বপ্নটা আবার এল ঘুমন্ত তিথির চোখে।সেই রহস্যময়ী যুবতীর আনাগোনা,কারোর ডাকে নূপুরের রিনিরিনি শব্দে সিঁড়ি ভেঙে নীচে নামা।তবু যুবতীর মুখটা এখনও দেখতে পায়নি সে।সে দেখল স্বপ্নে,যুবতীকে অষ্টমী বলে ডাকছেন এক মহিলা,সেই মহিলা আর কেউ নন,রাণীমা চামেলীদেবী।চামেলীদেবীরও বয়স যথেষ্ট কম,মাঝবয়সী মহিলা বলেই মনে হচ্ছে তাঁকে।চামেলীদেবী তাকে তৈরি হতে বলছেন,কারণ আজ তার জন্মদিন,আর একটু পরেই রাজবাড়িতে অনুষ্ঠান শুরু হবে।চামেলীদেবীর পাশেই একটি ষোলো সতেরো বছরের ছেলে দাঁড়িয়ে আছে,মুখটা খুব চেনা,সে যুবতীকে বড়দি বলে ডাকছে।
একটু পরেই ঝলমলে শাড়ি-গয়না পরে যুবতীর রাজবাড়িতে প্রবেশ।গোটা রাজবাড়ি সেজেছে আলো আর ফুলে।রাজবাড়ির আঙিনা জুড়ে একটি বছর দেড়ের মেয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে,আর আধো আধো গলায় সকলকে ডাকছে।সব মিলিয়ে এক অসাধারণ পরিবেশ।এর মাঝেই হঠাৎ হেমচন্দ্র বাবুর প্রবেশ।তিনি পরম স্নেহে কাছে ডেকে নিলেন অষ্টমীকে।হঠাৎই এক ডাক এল পিছন থেকে,'আমায় ছাড়াই সব শুরু করে দিলেন আপনারা?আমায় দেখছি সবাই ভুলে গেছে।'
ডাকে সকলে ফিরে তাকিয়ে দেখে একটি যুবক,পরনে ধুতি পাঞ্জাবি আর চোখে চশমা।যুবকের মুখ দেখামাত্র চমকে ঘুম ভেঙে গেল তিথির।আরে এতো কলকাতায় তাদের পাশের বাড়ির সেই ছেলেটা,নাম অনিন্দ্য,যার সাথে দিবারাত্র তিথির কোন্দল বাধে।যদিও তিথির মা রেশমি তাকে অত্যন্ত স্নেহ করেন।কিন্তু কেন যে ওই ছেলে মায়ের প্রিয়পাত্র তা আজও বুঝে উঠতে পারেনি তিথি।এই ছেলে তার স্বপ্নে কিভাবে এল?তাও এই বেশে?এই রাজবাড়ির সাথে ওর কি সম্পর্ক?সবচেয়ে বড়ো কথা হল একটিবারের জন্যও অষ্টমীর মুখটা সে দেখতে পেল না।নানারকম প্রশ্ন তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে,উত্তরগুলো সে যেন ধরেও ধরতে পারছে না!পাগল পাগল লাগছে তার নিজেকে।জল খাবার জন্য সে উঠল,হঠাৎই মাথাটা কেমন ঘুরে উঠল তিথির,মাটিতে বসে পড়ল ও।চোখের সামনেটা অন্ধকার হয়ে উঠল আর ভেসে উঠল কয়েকটা অস্পষ্ট মুখ।একটা মেয়ে গোঙাতে গোঙাতে ছুটে পালানোর চেষ্টা করছে,কিন্তু পারছেনা,তার ঝলমলে শাড়ি রক্তে লাল হয়ে গেছে,আর পিছনে কারা যেন হাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছুটে আসছে,'কোথায় পালাবি?'বলতে বলতে।
হঠাৎই মেয়েটার গায়ে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠল,চিৎকার করে মেয়েটি একটা পুকুরে ঝাঁপ দিল।
এই পর্যন্ত দেখেই আঁৎকে উঠল তিথি,হুঁশ ফিরল তার।কিন্তু সে যা দেখল সমস্তটাই খুব আবছা।কিন্তু এসব কেন দেখল ও?একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে না পেতেই আবার হাজারো প্রশ্নের সম্মুখীন হল সে।ঠিক করল,আজ যে করেই হোক বাগানবাড়ির বন্ধ দরজাটা সে খুলবেই।চাবির সন্ধানটাও পেতেই হবে তাকে।কিন্তু বাড়ির কাউকে এ বিষয়ে কিচ্ছুটি জানতে দিলে হবেনা।এটুকু বুঝতে তার অসুবিধা হলনা,যে চাবিটা বাড়িতেই কোথাও আছে।এইসব ভেবে তিথি ফ্রেস হতে গেল।অস্মিতা আর ঝুম্পা তখনও ঘুমুচ্ছে।রাণীমার ঘরের পাশ দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ কিছু কথা কানে এল তিথির।কথাগুলো শোনার জন্য আড়ি পাতল সে।শুনল,রাণীমা অবিনাশকে বলছেন,'দ্যাখ অবি তুই যাই বলিস আমার ওই মেয়েটাকে সুবিধার ঠেকছে না।পঁচিশ বছর আগে ও কি বলেছিল মনে আছে তোর?'
— 'হ্যাঁ ওইসব কথা ধরেই বসে থাকো তুমি!ওসব গল্পে হয়,বাস্তবে হয়না,বুঝলে!'
— 'সে যাই হোক,ওই চাবিটা তুই কিন্তু সাবধানে রাখিস।ওই চাবিটার হদিস কেউ জানেনা।'
— 'আর জানতেও পারবে না মা,এমন জায়গায় রেখেছি।বাগানবাড়ির পুকুরের কাছে যে বটগাছটা আছে ওরই কাছে পুঁতে রেখেছি।এমনিতেই বাগানবাড়ি কেউ তেমন যায় না,আর গেলেও ওখানে কে খুঁজবে বলো?'
তিথি ভাবল,এ কোন্ চাবির কথা বলছে ওরা?যে চাবি ও খুঁজছে সেই চাবি?খুব সন্তর্পণে সেখান থেকে চলে গেল তিথি।
পরবর্তী ভাগ পড়ুন : তৃতীয় পর্ব

0 মন্তব্যসমূহ