Advertisement

খুনী (তৃতীয় পর্ব)


 

খুনী

সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

তৃতীয় পর্ব

 আস্তে আস্তে শোকটা সামলে উঠল ঠিকই আর্য,কিন্তু এটুকু বুঝতে ওর বাকি ছিল না যে প্রমিতার মৃত্যুটা একেবারেই অস্বাভাবিক।সুমনের স্ত্রী রিয়ার এক মাসতুতো ভাই পুলিশ অফিসার,তার নাম সৌরভ।সে রাতেই ফোন করা হল সৌরভকে।প্রমিতার মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হল।আর্যদের বাড়িটাও পুলিশ সার্চ করল ভালোভাবে।কিন্তু রান্নাঘরে এক অদ্ভুত ব্যাপার নজরে পড়ল পুলিশের।দেখা গেল,রান্নাঘরের সব জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা রয়েছে,কিন্তু দুটো কফির কাপ না ধুয়েই নামানো রয়েছে বেসিনে।এই দুটো কাপেই আগের দিন সন্ধ্যেবেলায় কফি খেয়েছে আর্য-প্রমিতা।কফি বানিয়েছিল আর্য।সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কাপদুটোও ফরেন্সিক ডিপার্টমেন্টে পাঠানো হল।

 — 'এই কাপদুটো এভাবে না ধোয়া অবস্থায় পড়েছিল কেন আর্যবাবু?'সৌরভ জিজ্ঞেস করল।

— 'আমি জানিনা সৌরভ বাবু বিশ্বাস করুন,এসব কাজ তো সুরভি করে,ও কেন ধুয়ে রাখেনি ও ই জানে।'

 —'সুরভি?কে সুরভি?'

 আর্য আরতির অসুস্থ হওয়া থেকে শুরু করে সবটা খুলে বলল।

 কিছুদিন পর ফরেন্সিক রিপোর্টগুলো এল।

 — 'আপনার অনুমান ঠিকই ছিল আর্যবাবু,'সৌরভ বলল,'প্রমিতাদেবীর মৃত্যুটা মোটেও স্বাভাবিক নয়।কিন্তু আর্যবাবু,সমস্তটা খতিয়ে দেখলে আঙুলটা যে আপনার দিকে উঠছে!'

 — 'আমার দিকে?মানে?'

— 'আজ্ঞে হ্যাঁ আর্যবাবু,প্রমিতাদেবীর পাকস্থলীতে এক মারত্মক বিষ পাওয়া গেছে,যে বিষ মানুষের শরীরে গেলে আধঘন্টার মধ্যেই তার মৃত্যু ঘনিয়ে আসবে।আর ওই একই বিষ রান্নাঘরে দুটো কফির কাপের মধ্যে একটা কাপে পাওয়া গেছে,যে কাপ থেকে প্রমিতাদেবী কফি খেয়েছিলেন।তার মানে এখান থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে  ওই কফির মাধ্যমেই ওনার শরীরে বিষটা গেছে,আর আপনি নিজেই প্রমিতাদেবীর যেদিন মৃত্যু হল বলেছিলেন,যেহেতু উনি আপনার হাতের কফি ভালোবাসেন,তাই কফি বানানোর দায়িত্বটা আপনি কারোর কাঁধেই দেননি কোনোদিন,আর ওইদিনও সন্ধ্যেবেলায় কফি আপনিই বানিয়েছিলেন,তাহলে এর অর্থ কি হয় আপনিই বলুন।'

 — 'এ আপনি কি বলছেন?আমি প্রমিতাকে খুন করব?আমি?' আর্য স্তম্ভিত হয়ে পড়ল।

— 'প্রমাণ তো তাই বলছে আর্যবাবু,আর শুধু সেটাই নয়,সেদিন প্রমিতাদেবী বারবার আপনাকে বলা সত্ত্বেও আপনি ওনাকে হসপিটালে নিয়ে যাননি,ফেলে রেখেছিলেন বাড়িতে।'

 — 'কিন্তু এ অসম্ভব সৌরভ,'সুমন বলল,'আর্য প্রমিতাকে অসম্ভব ভালোবাসত।ও কখনো একাজ করতে পারেনা।আর ও কেন প্রমিতার কথায় কান দেয়নি সেটা আমি বুঝিয়ে বলছি,'সুমন প্রমিতার ছেলেমানুষির ব্যাপারে সব বলল।

— 'দেখো সুমনদা আমি সবটাই বুঝতে পারছি,কিন্তু মনে হওয়া দিয়ে যে আইন চলে না,আইন চলে প্রমাণের ওপর বেস করে।'

— 'আচ্ছা বেশ,প্রমাণ অনুযায়ী ব্যাপারটা দাঁড়াল যে আমিই কফিতে বিষ মিশিয়ে প্রমিতাকে মার্ডার করেছি,তাহলে তো নিজেকে বাঁচানোর জন্য আমার কাপদুটো ওইভাবে বেসিনে না ফেলে রেখে ভালো করে ধুয়ে রাখা উচিত ছিল তাই না?'আর্য বলতে লাগল,'কারণ অপরাধী সবসময় প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করবে।'

 — 'এক্স্যাক্টলি!'সুমন বলে উঠল।

 — 'হুম এটা ঠিকই।আচ্ছা আর্যবাবু,আরতি অসুস্থ হবার পর ওর এক আত্মীয়া সুরভি আপনাদের বাড়ির কাজে লেগেছিল রাইট?'

— 'হুম সৌরভবাবু,কিন্তু প্রমিতা মারা যাওয়ার পর থেকে ও আর কাজ করতে আসেনি,এমনকি ফোনেও পাচ্ছিনা।'

— 'তাহলে তো ওই মেয়েটির উদ্দেশ্য খুব একটা সুবিধের নয়,'সৌরভ বলল,'মেয়েটির ফোন নাম্বারটা দিন,ওর লোকেশন ট্রেস করব আমরা।'

— 'হ্যাঁ সৌরভ ওই মেয়েটি মনে হয় ইচ্ছাকৃত ভাবেই কফির কাপদুটো ধোয়নি,যাতে প্রমিতার খুনের জন্য আর্য দোষী সাব্যস্ত হয়।'

— 'একদমই তাই,আমরা তাহলে বাইরের কাউকেই জানতে দেবনা যে আমরা বুঝে গেছি আর্যবাবু দোষী নন,' সৌরভ বলল,'আমাদের অপরাধীর কাছে দেখাতে হবে যে আমরা ওদের দেখানো ভুল পথেই চলছি।'

 — 'একদম,সেটাই করো।'সুমন বলল।

 কিন্তু কোনোভাবেই সুরভির লোকেশন ট্রেস করা গেল না।

 — 'মনে হচ্ছে সিম খুলে ফেলে দিয়েছে সুরভি,' চিন্তিত মুখে বলল সৌরভ, 'অগত্যা আমাদের আরতির বাড়ি যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।'

 সৌরভ এরপর দলবল নিয়ে আরতির বাড়ি গেল,তবে পুলিশি পোশাকে নয়,সাধারণ পোশাকে,যাতে আসল অপরাধী অ্যালার্ট না হয়ে যায়।

 — 'আরতিদেবী,আপনার কোনো ভয় নেই,'সৌরভ বলল,'অপরাধী কিচ্ছু জানতে পারবে না,আর ক্ষতিও করতে পারবে না,'সৌরভ সবটা খুলে বলল আরতি আর ওর দুই ছেলেকে।

 এবার আরতিও সবটা স্বীকার করল,'আমার কিছুই হয়নি গো পুলিশবাবু,এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সবটাই সাজানো ছিল।একদিন আমি যখন কাজ সেরে বাড়ি ফিরছি,হঠাৎ কিছু লোক আমায় ঘিরে ধরল।ওদের মুখ আমি দেখতে পাইনি,কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল।হঠাৎ ওদের মধ্যে একজন চাকু বের করল।তা দেখেই ভয়ে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল।লোকগুলো আমায় বলল আমি যেন ওদের কথামতো চলি,না হলে আমার ঘরবাড়ি সব পুড়িয়ে দেবে,এমনকি আমাকে আর আমার দুই ছেলেকেও শেষ করে দেবে।'

 — 'কি করতে বলেছিল ওরা?'

— 'ওরা বলেছিল,আমাকে অসুস্থ হওয়ার অভিনয় করে এক মাস আর্যবাবুদের ফ্ল্যাটে কাজ করতে না যেতে।আমার বড় ছেলে রঘুও ওদের ভয়েই ফোনে মিথ্যে কথা বলেছিল দাদাবাবুদের,বলেছিল আমি মালদার হাসপাতালে ভর্তি।কিন্তু আমার কিছুই হয়নি।এরপর ওদের কথাতেই দাদাবাবু বৌদিমণি যেই আমায় দেখতে মালদা পৌঁছাল,অমনি আবার রঘুকে দিয়ে ওরা ফোন করে বলাল,যে আমাকে মালদার হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়েছে,আর এখন আমি এই বস্তিতেই আছি,নিজের বাড়িতে।'

— 'আর আপনার ভাইঝি সুরভি?'

— 'বিশ্বাস করুন,আমার কোনো ভাইঝিই নেই,আর সুরভি নামের কাউকেই আমি চিনিনা,কিন্তু ওই লোকগুলোর ভয়ে আমরা দাদাবাবুদের মিথ্যে বলতে বাধ্য হয়েছিলাম।'

— 'আচ্ছা,অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আরতিদেবী,আজ আপনি আমাদের যে কত বড় হেল্প করলেন নিজেও জানেন না!'

— 'বিশ্বাস করুন পুলিশ বাবু,আমি লোকগুলোর ভয়ে অনেক মিথ্যে গল্প বলেছি দাদাবাবুদের,কিন্তু কখনো ভাবিনি যে আমাদের মিথ্যের জন্য বৌদিমণি এভাবে শেষ হয়ে যাবে,'আরতি কেঁদে ফেলল,'অমন ফুলের মতো মানুষটাকে ওরা মেরে ফেলল!'

 — 'চিন্তা করবেন না,অপরাধীরা শাস্তি পাবেই,'সৌরভ বলল,'আচ্ছা,প্রমিতাদেবীর মৃত্যুর জন্য কোনোভাবে কি আর্যবাবুকে আপনার সন্দেহ হয়?'

— 'ছি ছি ও কথা যে শোনাও পাপ গো,'আরতি জিভ কাটল,'দাদাবাবুর মতো মানুষ হয়না,বৌদিমণি ওনার চোখের মণি ছিল গো!'

— 'আচ্ছা ধন্যবাদ।আসি।' সৌরভরা চলে গেল।

 — 'ধুর,সেরকম কোনো ক্লু ই পাচ্ছিনা,' হতাশ সৌরভ টেবিল চাপড়ে বলল,' কিভাবে যে অপরাধী পর্যন্ত পৌঁছব সেটাই বুঝতে পারছি না!'

— 'এ কি বলছ সৌরভ?তুমি এভাবে হতাশ হলে আমরা কি ভাবে শান্ত থাকি বলোতো!' চিন্তান্বিত সুমন বলল।

 অন্যদিকে খবরাখবর পেয়ে আর্যর মা বাবাও এসেছেন।

— 'তোমরা শুনে খুশিই হবে মা,' শ্লেষের হাসি হাসল আর্য,'যাকে পছন্দ করতে না আর তার মুখ দেখতে হবে না কোনোদিন তোমাদের,ও সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে।'

— 'বাবু!মানছি আমরা মেয়েটাকে সেভাবে কাছে টেনে নিতে পারিনি,তাই বলে আমরা তো অমানুষ নই!' 

— 'তোর মা ঠিকই বলছে রে বাবু,এখন আমাদের কি যে খারাপ লাগছে,লজ্জায় শেষ হয়ে যাচ্ছি,কেন যে মেয়েটার মনে দুঃখ দিলাম!'

— 'এসব বলে এখন আর কি লাভ বাবা,হাজার অনুতাপ করলেও তোমাদের বৌমা আর ফিরবে না,' প্রমিতার বাঁধানো ছবিটা বুকে জাপটে ধরে আর্য বলল,'তোমাদের কথা ও বড্ড বলত জানো,আসলে নিজের মা বাবাকে তো পায়নি,তাই কাঙালের মতো তোমাদের স্নেহ চাইত বারবার...'

— 'আমরা যে পাপ করেছি তাতে নরকেও ঠাঁই হবে না বাবু,'আর্যর মা শাড়ির আঁচলে চোখ মোছেন,'কিন্তু বাবু,বৌমার মা বাবা এলেন না?মেয়ের মৃত্যুসংবাদ শুনেও আসেননি ওনারা?'

— 'ওনাদের ফোন করিনি মা,বেঁচে থাকতে যাঁরা প্রমিতাকে কথায় জ্বালায় বিদ্ধ করেছেন,তাঁদের ওর মৃত্যুসংবাদ জানারও কোনো অধিকার নেই!'

— 'সবই মানছি বাবু,'আর্যর বাবা বললেন,'তবুও একবার খবরটা ওনাদের দে,যতই হোক মেয়েটার মা বাবা তো ওনারা!'

 মা বাবার অনুরোধে শেষ পর্যন্ত ফোনটা করল আর্য রায়চৌধুরী বাড়িতে,কিন্তু ফোনটা কেউই ধরল না,বেজে বেজে কেটে গেল।

 — 'জানিনা ওনারা আদৌ কেমন মা বাবা,'আর্য উত্তেজিত হয়ে পড়ল,'একটা ছোট্ট ভুলের জন্য যাঁরা মেয়েকে মৃত বলেন,তাঁদের থেকে আর কিই বা আশা করা যায়!'

 — 'স্ট্রেঞ্জ!প্রমিতার বাপের বাড়িতে ফোন করে পেলেন না!' সৌরভ বলল,'কেমন যেন সন্দেহের গন্ধ পাচ্ছি।আমাদের তাহলে রায়চৌধুরী বাড়িতে যেতে হবে।'

 সৌরভ,সুমন,আর্য আর কিছু পুলিশ চলল রায়চৌধুরী বাড়ির উদ্দেশ্যে,তবে পুলিশি পোশাকে নয়,সাধারণ পোশাকে।

 — 'উরিব্বাস,এ তো রাজবাড়ি!'সুমন বলে উঠল।

— 'হুম,'সৌরভ বলল।

 কলিংবেল বাজিয়ে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়াতে হল তাদের।একজন বৃদ্ধ মানুষ এসে দরজাটা খুললেন।

 — 'আপনারা কারা?'

 — 'এ কি আপনি কে?আগের বার যখন এসেছিলাম আপনাকে তো দেখিনি!' বিস্মিত আর্য বলল।

— 'সে কি বলছিস রে আর্য! তুই এনাকে আগে এসে দেখিসনি!'

 — ' না রে!'

 — 'সেতো আমিও আপনাদের দেখিনি,বৃদ্ধ মানুষটি বলল,'কি চাই এখানে আপনাদের?'

 — 'রায়চৌধুরী বাবুকে ডাকুন!'

 — 'রায়চৌধুরী বাবু?আপনি কি সিদ্ধার্থ দাদাবাবুর কথা বলছেন?ওনাকে এখন কোথায় পাবেন,উনি তো কবে থেকে মার্কিন মুলুকে থাকেন গো পরিবার নিয়ে,কলকাতা আসেনই না তেমন!'

— 'কি?কি বলছেন টা কি আপনি! সিদ্ধার্থ বাবু বিদেশে থাকেন?আরে এই তো সেদিনই আমি আর প্রমিতা এলাম,একমাসও হয়নি,প্রমিতার দাদা সিদ্ধার্থর সাথে কথাও হল আমাদের!'

 — 'কি পাগলের মতো বলছেন আপনি?সিদ্ধার্থ বাবু আজ দশ বছর হল দেশে ফেরেননি,আর প্রমিতা বলতে আপনি কার কথা বলছেন?প্রমিতা রায়চৌধুরী?এবাড়ির ছোটমেয়ে?'

 — 'হ্যাঁ,আমি ওরই হাজব্যান্ড।'

 — 'মানে?কে মশাই আপনি?প্রমিতা দিদিমণিও দেশের বাইরে থাকে,জাপানে বিয়ে হয়েছে দিদিমণির,যদিও জামাই এদেশেরই।দিদিমণিও আজ পাঁচ বছর হল এদেশে আসেননি,আমি তার বরকে চিনি।আর আপনি কে মশাই,কোত্থেকে এসে নিজেকে প্রমিতা দিদির বর বলে দাবি করছেন!'

 — 'দেখুন আপনার কোথাও একটা ভুল হচ্ছে,প্রমিতা আমারই স্ত্রী,আর সে কলকাতাতেই থাকত,জাপানে নয়,আর কিছুদিন হল সে মারা গেছে।'

 — 'কি আবোলতাবোল বকছেন বলুন তো আপনি?মাথা কি একেবারে গেছে আপনার?এই তো কালই দিদিমণি ফোন করেছিল আমায়।আসলে আমি এই এতবড় বাড়ির কেয়ারটেকার কিনা,কাজ ঠিকঠাক করি কিনা সেজন্যই আরকি...'

 — 'এসব উনি কি বলছেন রে সুমন?আমি যে কিছুই বুঝতে পারছি না!'

— 'আমারও সব হিসেব গরমিল হয়ে যাচ্ছে রে আর্য,আচ্ছা আপনি একবার শোভনবাবুকে ডেকে দিন,উনি এলেই সবটা পরিষ্কার হয়ে যাবে!'

— 'কত্তাবাবু?ওনাকে কোথায় পাবেন আপনারা,উনি যে বছর পনেরো আগে মারা গেছেন গো,আর কত্তামা ওনার মারা যাওয়ার বছর দুয়েক আগে মারা গেছেন গো!'

 — 'সুমন আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না ইনি কি বলছেন,এই সেদিনই,একমাস আগেই আমি আর প্রমিতা এলাম,শোভনবাবু,ওনার স্ত্রী,সিদ্ধার্থ সবার সাথেই কথা বললাম,আর ইনি এসব কি বলে যাচ্ছেন!'

 — 'আর্যবাবু,দাঁড়ান,' ওকে থামিয়ে দিয়ে সৌরভ প্রমিতার ছবি বৃদ্ধ লোকটিকে দেখাল,'দেখুন তো ইনিই প্রমিতা রায়চৌধুরী তো?এবাড়ির ছোটমেয়ে?'

 — 'কই না তো!' বৃদ্ধ মানুষটি অবাক হয়ে গেলেন,'এই মেয়েটাকে আমি জীবনেও দেখিনি,চিনিও না এ কে!এ আমাদের দিদিমণি কেন হবে!'

 — 'কি বলছেন টা কি মশাই তখন থেকে,'আর্য এবার উত্তেজিত হয়ে পড়ল,'ড্রিঙ্ক করেছেন নাকি?'

 — 'আর্যবাবু,দাঁড়ান।'সৌরভ বলল,'আমরা এই বাড়িটা ঘুরে দেখতে চাই একটু!'

 — 'আজ্ঞে না,আপনাদের মোটেও সুবিধার মনে হচ্ছে না,তখন থেকে কিসব উল্টোপাল্টা কথা বলে চলেছেন!'

  সৌরভ পকেট থেকে আইডেন্টিটি কার্ডটা বের করে দেখাল।সে পুলিশ দেখে খানিকটা থতমত খেয়ে গেল বৃদ্ধ, 'আচ্ছা আসুন ভেতরে,আমি আপনাদের গোটা বাড়ি ঘুরিয়ে দেখাচ্ছি।'


পরবর্তী ভাগ পড়ুন : চতুর্থ পর্ব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ