Advertisement

খুনী (দ্বিতীয় পর্ব)


 খুনী

সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

দ্বিতীয় পর্ব

 — 'ধুর মশাই রাখুন তো!কে জানতে চেয়েছে আপনার বংশ পরিচয়?এসব আসলে প্রমিতার সম্পত্তির ভাগ পাবার জন্য নোংরা খেলা আর কিছুই না!অবশ্য ওর মতো মেয়ের কাছ থেকে আর কিই বা আশা করা যায়!'

— 'এই মুখ সামলে!'সিদ্ধার্থর কলার টেনে ধরল আর্য,'এতক্ষণ আমার সম্বন্ধে খারাপ কথা বলছিলেন,কিচ্ছু বলিনি।কিন্তু প্রমিতার নামে একটা বাজে কথা বললে আমি ছেড়ে দেব না আপনাকে!'

 — 'তোমার সাহস তো মন্দ নয়!' শোভনবাবু এসে আর্যর হাত থেকে সিদ্ধার্থকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললেন,'আমাদের বাড়ি এসে আমাদেরই ছেলের গায়ে হাত তুলছ?'

 — 'বাবা,'এতক্ষণে মুখ খুলল প্রমিতা,'তুমিও দাদার কথাই সমর্থন করো?তুমি আর মা ও ভাবো যে আমি সম্পত্তির লোভেই...'

— 'তা নয়ত আর কি মা!এতদিন পর অন্য কোনো ফেরার কারণ তো দেখি না!' প্রমিতার মা বললেন।

 — 'প্রমিতা আমায় ক্ষমা করো,আমিই জোর করে তোমায় এখানে নিয়ে এসেছিলাম,ভেবেছিলাম সত্যিই তোমার মা বাবাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব,কিন্তু এই মানুষগুলো তোমার কষ্ট কমানোর বদলে বাড়িয়ে দিচ্ছেন উত্তরোত্তর।'আর্য প্রমিতার হাতটা ধরল,'চলো এক্ষুণি এখান থেকে,তোমায় সুখী রাখতে আমি একাই যথেষ্ট,আর কাউকে প্রয়োজন নেই,কাউকে না!'

 আর্য প্রমিতাকে নিয়ে সেই মুহূর্তে রায়চৌধুরী বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল।

 এদিকে ওরা বাড়িতে ফেরার পরই আর্যর ফোনে একটা ফোন এল।এক অচেনা পুরুষকন্ঠ।সে বলল,'মা খুব অসুস্থ,হাসপাতালে ভর্তি,তাই কয়েক মাস আপনাদের ফ্ল্যাটে কাজে যেতে পারবে না।তাই যে কয়েকদিন মা অনুপস্থিত থাকবে,সেই দিন গুলোয় যাতে আপনাদের কোনো অসুবিধা না হয় সেজন্য সুরভি যাবে আপনাদের ফ্ল্যাটে।'

 আরতি ওদের ফ্ল্যাটে কাজের জন্য আসে।কিন্তু এইমাত্র যে ফোন করেছিল,সে আরতির ছেলে বলে নিজেকে পরিচয় দিল,আর বলল,আরতি অসুস্থ হওয়ায় তার ভাইঝি সুরভি আসবে ওদের ফ্ল্যাটে কাজের জন্য।

  আর্য আর প্রমিতা ভেবেছিল আরতিকে দেখতে যাবে,কিন্তু আরতির ছেলে বলল,'মা এখানে নয়,আমাদের বাড়ি মালদার এক হসপিটালে ভর্তি।কলকাতা থেকে এতদূর আপনারা আসতে পারবেন?'

 — 'হুম কেন পারবনা?কোন্ হসপিটালে আরতিদি আছে তার নামটা বলো।'

— 'আচ্ছা বেশ,হাসপাতালের নাম হল এ.কে. দাস হসপিটাল।'

 এই ফ্ল্যাটে আসার পর থেকেই আরতি এখানে কাজ করে।ওর আসল বাড়ি মালদায়,কলকাতায়  একটা বস্তিতে বিধবা আরতি দুই ছেলে রঘু আর শ্যামকে নিয়ে থাকে।আর্য ঠিক করল,একদিন ও আর প্রমিতা মালদার ওই হসপিটালে যাবে।

  পরেরদিন সকালে যথারীতি সুরভি এসে হাজির ওদের ফ্ল্যাটে।মেয়েটা বড় শান্ত গোছের,প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কথা বলেনা,মন দিয়ে কাজকর্ম করে।প্রমিতার বেশ ভালো লেগেছে ওকে।

 এদিকে আর্য আর প্রমিতা ঠিক করে,সামনের শনিবারেই ওরা মালদা যাবে।সেইমতো রওনাও দিল দুজনে,কিন্তু মালদা যেই নামল,ওমনি আরতির ছেলের ফোন এল,'দাদাবাবু,মাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়েছে কালই দুপুরে।ভীষণ ব্যস্ততার মধ্যে জানাতে পারিনি আপনাদের।'

 — 'ও,আরতিদি এখানে নেই?দেখো কান্ড,আমরা এদিকে মালদায় দাঁড়িয়ে আছি এখন', আর্য হেসে ফেলল,'যাই হোক,তাহলে কাল তোমাদের বাড়ি গিয়ে দেখে আসব আরতিদিকে।'

 — 'আচ্ছা দাদাবাবু,তাই আসবেন।'

 পরেরদিন ওরা আরতির বাড়ি গেল।হঠাৎ লো প্রেসার হয়ে যাওয়ায় হসপিটালে ভর্তি হতে হয়েছিল ওকে।

— 'আরতিদি,কেমন আছ?'

 আরতি তখন বিছানায় শুয়ে ছিল।কিন্তু অদ্ভুত ভাবে ওর আর ওর দুই ছেলের মুখে কেমন যেন একটা ভয়-দুশ্চিন্তার ছাপ ছিল,মুখে জোর করে হাসি এনে আরতি বলল,'ভালোই আছি গো দাদাবাবু,বৌদিমণি।তোমরা কেমন আছ?'

— 'আমরাও ভালোই।তোমার জন্য ফল এনেছি আরতিদি,লো প্রেসার তো তোমার,'বলেই ফলগুলো আর্য আরতির ছেলে রঘুর হাতে দিল।এই রঘুই ফোন করেছিল আর্যকে।

— 'তবে যাই বলো,তোমার ভাইঝিকে কিন্তু আমার বেশ পছন্দ হয়েছে আরতিদি,'প্রমিতা হেসে বলল।

— 'ভাইঝি!' অবাক হয়ে গেল আরতি,'আমার ভাইঝি?'

— 'হ্যাঁ গো,তোমার ভাইঝি,সুরভি।কি মিষ্টি একটা মেয়ে গো!'

— 'সুরভি!' আরতি যেন আগের চেয়েও বেশি অবাক হয়ে গেল।

— 'আরে মা,সুরভিকে চিনতে পারছ না?ওই যে ছোটমামার মেয়ে,ভুলে গেলে?'

— 'ওহ,সুরভি সুরভি,এইবার মনে পড়েছে,'আরতি হাসল,'দেখেছ ভুলেই গেছিলাম সুরভির কথা।'

— 'আসলে তোমার শরীর ভালো নেই তো,তাই এমন হচ্ছে বোধহয়,'রঘু বলল।

— 'হুম আমারও সেটাই মনে হয়,'আর্য বলল,'বেশ এখন তাহলে আমরা আসি।'

 আর্যরা নিজের বাড়িতে ফিরে গেল।কিন্তু বাড়িতে ফিরেই একটা অদ্ভুত কান্ড দেখে বেশ অবাক হয়ে গেল দুজনে।ডাইনিং টেবিলে একটা ফুলদানি রাখা ছিল,ফুলদানিটা মাটিতে পড়ে চুরমার হয়ে গেছে।

 — 'একি এটা ভাঙল কিভাবে?'

 — 'সেটাই তো ভাবছি প্রমিতা।জানালা দরজাও তো আমরা বন্ধ করেই গিয়েছিলাম,কাজেই হাওয়ায় পড়ে যাওয়ার তো কথা নয়,কিভাবে ভাঙল এটা?'

— 'তাহলে কি বাড়িতে কেউ ঢুকেছিল?কিন্তু সেটাই বা কিভাবে সম্ভব,'প্রমিতা বলল,'আমরা তো লক করে গিয়েছিলাম,চাবিও আমাদের কাছেই ছিল।'

— 'কি জানি,কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।চলো আমরা এক কাজ করি,গোটা ফ্ল্যাটটা ভালো করে দেখি,সব জিনিস জায়গা মতো আছে কিনা!'

— 'হুম চলো।'

 গোটা ফ্ল্যাটটা ওরা তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখল,কিন্তু কোথাও সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়ল না।

 এরপর প্রমিতা আলমারিটা খুলল চেক করার জন্য,আর চেক করতে গিয়ে একটা রুমাল মেঝেতে পড়ে গেল।রুমালটা তুলতে গিয়ে প্রমিতা দেখল,কি যেন একটা চকচক করছে আলমারির তলায়।তাড়াতাড়ি টর্চ নিয়ে এসে দেখে,একটা আংটি পড়ে আছে আলমারির তলায়।


 তাড়তাড়ি আর্যকে ডেকে এনে আংটিটা দেখাল প্রমিতা,'এটা কি তোমার?'

 — 'কই না তো?'

 — 'সে কি এটা তোমার আমার কারোরই না,তাহলে আলমারির তলায় এটা এল কিভাবে?'

— 'তাহলে কি সত্যিই কেউ ঢুকেছিল ফ্ল্যাটে?এটা কি তারই আংটি?'

— 'আমারও তাই মনে হচ্ছে জানো!'

— 'তাহলে তো এই আংটিটা থানায় জমা দিতে হবে,'চিন্তিত মুখে আর্য বলল।

— 'হুম,তাই করো তাহলে।'

হঠাৎ কলিংবেলের শব্দ।দরজাটা খুলে প্রমিতা দেখল,সুরভি এসেছে।

 — 'একি সুরভি তুমি?এই সন্ধ্যেবেলায়?'

— 'বৌদি,আমি আসলে আমার আংটিটা ফেলে গেছি গো,তাই নিতে এলাম।'

— 'ও,আলমারির তলায় যেটা পড়ে ছিল ওটা তোমার আংটি?'

— 'হ্যাঁ গো বৌদি,ঘর মোছার সময় কখন যে আঙুল থেকে খুলে আলমারির ভেতর চলে গেছে টেরই পাইনি!'

— 'আচ্ছা দাঁড়াও,নিয়ে আসি আংটিটা,'প্রমিতা আংটিটা আনতে গেল।কিন্তু হঠাৎ ও দেখল,আংটির ওপর ইংরেজিতে 'আর' অক্ষরটা ডিজাইন করা আছে।

— 'কিন্তু সুরভি,তোমার নাম তো ইংরেজির এস দিয়ে শুরু,এটায় আর লেখা যে!'

— 'আসলে বৌদি,ওটা মায়ের আংটি,মায়ের নাম রুমির আর দিয়ে ওটা বানানো হয়েছিল,'সুরভির চোখ ভিজে গেল,'মা মারা যাওয়ায় আগে ওটা আমায় দিয়ে গিয়েছিল।'

 — 'আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি সুরভি,তোমাকে এই প্রশ্নটা করা আমার উচিত হয়নি,'প্রমিতা লজ্জিত হয়ে পড়ল।

— 'না না বৌদি,তুমি কিকরে জানবে গো!'চোখের জল মুছে সুরভি বলতে লাগল,'জানো তো আমাদের আর্থিক অবস্থা এত খারাপ ছিল না যে অন্যের বাড়ি কাজ করতে হত,আমার যখন আট বছর বয়স,মাকে মারণ রোগ ক্যান্সারে ধরল।আর তারপরেই আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়লাম!'

 — 'এত ভেঙে পড়ো না সুরভি,দেখো একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।'সুরভির কাঁধে হাত রেখে প্রমিতা বলল।

— 'সেই আশাতেই তো বেঁচে আছি গো বৌদি!যাই হোক এখন আসি কেমন?'

— 'আচ্ছা এসো।'

 বাড়ির সব কাজের দায়িত্ব সুরভি নিলেও কফি করার দায়িত্বটা আর্য কারোর সাথে ভাগ করে নিতে রাজি নয়,কারণ প্রমিতা ওর হাতের কফি খেতেই ভালোবাসে।সুরভি মাঝে মাঝে হেসে বলে,'দাদাবাবু,এক আধদিন আমার ওপরও ভরসা করতে পারো।কফিটা আমি অতটাও খারাপ বানাই না।'

 — 'তুমি খারাপ বানাও সেটা তো বলিনি সুরভি,'আর্যও মজার সুরে বলে,'আসলে সবটাই ম্যাডামের পছন্দ।'

— 'ধুর,কি যে বলো তুমি!' প্রমিতা লজ্জিত হয়ে পড়ে,'সুরভির সামনে এসব কেউ বলে!'

— 'তবে যা ই বলো বৌদি,'সুরভি স্মিত হেসে বলে,'ভাগ্য করে বর পেয়েছ গো তুমি।' প্রমিতাও সায় দেয় ওর কথায়।

 এইভাবে বেশ কয়েকটা দিন কেটে গেল।একদিন সন্ধ্যেবেলায় প্রমিতা আবার আর্যর ঘরে এসে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল,আর খুব হাঁপাতে লাগল।

 — 'ব্যস,ম্যাডামের আবার ছেলেমানুষি শুরু হল,'আর্য হাসতে থাকে,'এই মেয়েটা আর বড়ো হবে না কোনোদিন।'

— 'আর্য আমি সত্যি বলছি আজ বিশ্বাস করো,এতদিন আমি মিথ্যে অভিনয় করেছি অসুস্থতার,কিন্তু আজ সত্যিই...'

— 'থাক হয়েছে,আমি কালই তোমার নামটা অস্কারের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করছি,'বলেই আর্য হাসতে হাসতে ঘর থেকে চলে গেল।

— 'আ আ আর্য,বিশ্বাস করো আমার সত্যি কষ্ট হচ্ছে...' প্রমিতা রীতিমতো গোঙাতে লাগল,'বুকের ভেতরটা বড্ড জ্বলছে!'

 কিন্তু আর্য ওর কথায় কোনো পাত্তা না দিয়েই হাসতে হাসতে ল্যাপটপের সামনে বসে পড়ল।আগের দিনগুলোর মতোই আজও প্রমিতার মুখ থেকে রক্ত পড়তে লাগল,'আর্য,আজ অন্তত আমায় বিশ্বাস করো!'

 আর্য ওকে তুলে বিছানায় বসিয়ে দিল,তারপর আবার কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।প্রমিতা বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারল না বিছানায়,লুটিয়ে পড়ল বালিশের ওপর।ওর মুখ থেকে রক্ত পড়ে বিছানা বালিশ লাল হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।

 —'বৌদি যখন এত করে বলছে,তখন একবার কথাটা শোনোই না দাদাবাবু,'সুরভি ভীষণ চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ল।

— 'আরে ছাড়ো তো তোমার বৌদির কথা!এসব ওর দুষ্টুমি ছাড়া কিছুই নয়!কিন্তু এবার আর আমি কিছুতেই বোকা হব না,এটা বলে দাও তোমার বৌদিকে।'

 সুরভি এরপর আর কিছু বলেনি।সন্ধ্যে হয়ে যাওয়ায় ও আর্যদের ফ্ল্যাট থেকে রওনা দিয়েছে নিজের বাড়ির দিকে।

 অন্যদিকে আর্য কান দেয়নি প্রমিতার এসব কথায়,আর সুমনকেও ফোন করেনি।এভাবেই প্রায় দু-তিনঘন্টা কেটে গেল,তবু প্রমিতা বিছানা ছেড়ে এতটুকু নড়ল না।আর্য ল্যাপটপ বন্ধ করে প্রমিতাকে ডাকতে গেল।

— 'প্রমিতা,ওঠো,ডিনার করে নেবে চলো।'

তবু প্রমিতার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না।

— 'প্রমিতা,দুষ্টুমি কোরো না,ওঠো না!আমার খিদে পেয়েছে,চলো না ডিনারটা করে আসি।'

 তবু ওপাশ থেকে কোনো উত্তর এল না।আর্য এবার প্রমিতার কপালে হাত ছোঁয়াতেই চমকে উঠল।প্রমিতার গা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেছে।এবার ভীষণ ভয় পেয়ে গেল আর্য।জল এনে ওর চোখেমুখে ছেটাল,তবু কোনো কাজ হল না।বাধ্য হয়েই সুমনকে ফোন করল ও।

 — 'হ্যালো আর্য বল্।'

— 'ভাই,প্রমিতার আজ মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল,আমি পাত্তা দিইনি,আর তারপরেই এখন ওর গা হাত পা কেমন যেন ঠান্ডা...'

— 'আর্য আবার?আমি কতোবার তোকে বলব যে আমার জীবনে অনেক কাজকর্ম আছে,তোদের ছেলেমানুষি দেখার কোনো ইন্টারেস্ট নেই,তবুও কেন বিরক্ত করিস?'

—'সুমন ছেলেমানুষি নয় রে,আমি সত্যি বলছি...'

— 'রাখ তো! প্লিজ ইয়ার,ডোন্ট ডিসটার্ব মি,আই অ্যাম বিজি নাও,যেদিন সত্যি প্রমিতা অসুস্থ হবে সেদিন আমায় ফোন করিস,তার আগে নয়।বাই।' বলেই ফোন কেটে দিল সুমন।

 — 'হ্যালো সুমন,ফোনটা রাখিস না প্লিজ...'

 ততক্ষণে সুমন ফোন কেটে দিয়েছে।

 আর্য নিরুপায় হয়ে প্রমিতাকে গাড়িতে তুলে নিজেই ড্রাইভ করে চলল সুমনের বাড়ি।

 বাড়িতে কলিংবেলের শব্দ হতেই সুমনের স্ত্রী রিয়া এসে দরজাটা খুলল।

— 'এ কি আর্যদা,তুমি?আর প্রমিতার কি হয়েছে?'

— 'সব বলব,আগে সুমনকে ডেকে দাও প্লিজ।'

— 'আচ্ছা দাঁড়াও,এক্ষুণি ডাকছি ওকে।'

 সুমন এসেই ওদের দেখে বেশ বিরক্ত হল,'ভাই ফোনে ইয়ার্কি করেও আশ মেটেনি তোদের,এখন সটান বাড়িতে চলে এলি?'

— 'ভাই বিশ্বাস কর,' অসহায় আর্য এবার কান্নায় ভেঙে পড়ল,'প্রমিতা সত্যিই অসুস্থ,ওর হাত পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেছে,হাজার ডাকাডাকিতেও উঠছে না।'

 আর্যর কান্না দেখে সুমন বুঝল,ব্যাপারটা সিরিয়াস।ও তাড়তাড়ি প্রমিতাকে বেডে শুইয়ে দিতে বলল।তারপর স্টেথোস্কোপ সহকারে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল ওকে।

 — 'আর্য কথাটা তোকে কিভাবে বলব বুঝতে পারছি না,বাট...'

— 'কি হয়েছে প্রমিতার?বল্ না সুমন!'

— 'প্রমিতা আর আমাদের মধ্যে নেই,ও মারা গেছে।'

— 'কি আবোলতাবোল বকছিস সুমন!' আর্য চিৎকার করে উঠল,'প্রমিতা না হয় ছেলেমানুষ,কিন্তু তুই তো তা নস,তাহলে কেন এরকম বাজে ইয়ার্কি মারছিস?'

— 'ইয়ার্কি নয় আর্য,'সুমন মাথা নিচু করে বলল,'আমি যা বলছি ঠিকই বলছি!'

— 'না আমি তোর কথায় বিশ্বাস করিনা,আমি অন্য ডক্টরের কাছে নিয়ে যাব প্রমিতাকে,ওর কিচ্ছু হবে না দেখিস!'

— 'আর্য!'সুমন ওকে সামলানোর চেষ্টা করল,'পাগলামি করিস না ভাই,ওর পালস নেই,ও মারা গেছে,তুই যেখানেই যাস না কেন সবাই একই কথা বলবে তোকে।'সুমন বুকে টেনে নিল শোকার্ত বন্ধুকে।


পরবর্তী ভাগ পড়ুন : তৃতীয় পর্ব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ