খুনী
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
প্রথম পর্ব
— 'আর্য,আমার বড্ড কষ্ট হচ্ছে গো!মনে হচ্ছে বুকের ভেতরটা যেন জ্বলে যাচ্ছে!প্লিজ বাঁচাও আমায়!' প্রমিতা এসেই আর্যর কোলে লুটিয়ে পড়ল।
— 'হ্যাঁ সেই তো!বড্ড কষ্ট হচ্ছে না তোমার?' বলেই আর্য হাসতে হাসতে প্রমিতাকে দু হাতে তুলে বিছানায় বসিয়ে দিল।
— 'আর্য,আমি সত্যি বলছি বিশ্বাস করো!আমার বড্ড কষ্ট হচ্ছে,প্লিজ হসপিটালে নিয়ে চলো না আমায়!'
আর্য কিছু না বলে হাসতে লাগল।
হঠাৎই প্রমিতার মুখ থেকে রক্ত পড়তে লাগল।
— 'আর্য আমার মুখ থেকে রক্ত পড়ছে,তুমি দেখতে পাচ্ছো না!'প্রমিতা এবার হাঁপাতে লাগল।
— 'সত্যি বলছি প্রমিতা,কি দারুণ অভিনয়টাই করতে পারো তুমি!কেন যে হলিউডে চান্স পেলে না তাই ভাবি,'আর্য হাসতে লাগল,'ওতে কিছু হবে না ম্যাডাম,দাঁড়াও আমি কফি বানিয়ে আনছি,সব ঠিক হয়ে যাবে।'বলেই আর্য হাসতে হাসতে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।
এরপর গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে আর্য কফির ট্রে হাতে ঘরে হাজির,'এই যে প্রমিতা,ওঠো।কফি এনেছি।'
কিন্তু প্রমিতার তখনো ঘুম ভাঙছে না।চোখ বন্ধ করে চুপচাপ পড়ে আছে বিছানায়,আর মুখ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।
— 'অনেক অভিনয় করেছ ম্যাডাম,এবার ওঠো।ধন্য তুমি!কেন যে তোমার নামটা অস্কারের জন্য নমিনেটেড হল না তাই ভাবি!' বলেই আর্য সস্নেহে প্রমিতার মাথায় হাত বোলাতে লাগল।কিন্তু প্রমিতা কিছুতেই উঠছে না,আর বিছানার চাদরটা রক্তে রাঙা হয়ে যাচ্ছে।এবার সত্যি আশঙ্কিত হয়ে পড়ল আর্য।তাড়াতাড়ি প্রমিতার মাথাটা নিজের কোলে নিয়ে দেখল,ওর মুখ বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।নাকের কাছে আঙুল নিয়ে গিয়ে দেখল,নিশ্বাস পড়ছে না।তাড়াতাড়ি নিজের ডাক্তার বন্ধু সুমনকে ফোন করল আর্য।সুমন আর্যর কথা শুনে বিরক্তি প্রকাশ করল।
— 'দেখ আর্য,মানছি তুই আমার বন্ধু,তাই বলে সবসময় ইয়ার্কি ভালো লাগে না।আমি এখন পেশেন্ট দেখছি।ফোন রাখ!' বলেই ফোন কেটে দিল সুমন।
হঠাৎই প্রমিতা হাসতে হাসতে উঠে বসল।এসব তার অভিনয় ছিল।মুখ থেকে যে তরলটা গড়িয়ে পড়ছিল,সেটা রক্ত নয়,রক্তের মতোই দেখতে একটা রেড ফুড কালার,আর নিশ্বাসটাও সে ইচ্ছা করেই বন্ধ করে রেখেছিল।
— 'দেখেছো মেয়ের কান্ড!' বলেই আর্য হাসতে লাগল,'জানতাম এসব তোমার দুষ্টুবুদ্ধি!তবে এই নিয়ে চার চারবার তুমি আমায় বোকা বানালে,আর সুমনটাও খামোখা রেগে গেল আমার ওপর!'
— 'ও নিয়ে তুমি ভেবো না ডিয়ার,'প্রমিতা বলল,'সুমনদা কে আমি সরি বলে দেব খন,কিন্তু আগে বলো তো তুমি রাগ করোনি তো আমার ওপর?'
— 'না করিনি,কিন্তু পরের বার এই একই জিনিস দেখলে আমি কিন্তু আর বিশ্বাস করব না বলে দিলাম,সে তুমি আমার হাতে পায়ে ধরলেও না',বলেই প্রমিতার গালদুটো আলতো করে টিপে দিল আর্য।
আর্য-প্রমিতার সংসারে শুধু দুটি মানুষ,স্বামী আর স্ত্রী।প্রমিতার সাথে আর্যর পরিচয় অফিসে।আর্য ছিল প্রমিতাদের বস।প্রমিতা যথেষ্ট বুদ্ধিমতী মেয়ে বলে আর্যর চোখে প্রথম থেকেই বেশ প্রিয় ছিল ও।সেই নিয়ে অফিসে বেশ কানাঘুঁষোও চলত।তবে আর্য সেসবে কান দিত না,কারণ তার চেয়ে সাত বছরের ছোট প্রমিতাকে ও স্নেহের চোখেই দেখত,আর প্রমিতা ছিল বিবাহিতা।হঠাৎ একদিন প্রমিতার হাতে একটা কাটা দাগ দেখতে পায় আর্য।আর্য বারবার ওকে জিজ্ঞেস করা সত্ত্বেও প্রমিতা বিষয়টা এড়িয়ে যায়।এরপর একদিন কপালে একটা গভীর ক্ষত নিয়ে অফিসে আসে প্রমিতা।সেদিন আর্য আর প্রমিতার কোনো ওজর আপত্তিতে কান দেয়নি,অফিস ছুটির পর প্রমিতার হাত টেনে ধরেছিল।
— 'কিছু হয়নি স্যার,ও তো এমনি পড়ে গিয়ে...'
— 'মিথ্যে বোলোনা প্রমিতা।এটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে কোনো ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এটা হয়েছে,পড়ে গিয়ে নয়।'
— 'না স্যার,আমি তো বলছি এটা পড়ে গিয়েই...'
— 'প্রমিতা,আমার বয়স বত্রিশ বছর,কচি খোকা নই।কি হয়েছে বলো সত্যিটা!আমার মনে হচ্ছে তুমি কোনো বিপদে আছ!'
— 'আপনি ঠিকই ধরেছেন স্যার!'বলেই জীবনের সব সত্যিটা প্রকাশ করে দিল সে।প্রমিতার স্বামী রাজেশ রোজ ড্রিঙ্ক করে এসে মারধোর করে প্রমিতাকে।অফিসে চাকরি করা নিয়েও ভীষণ আপত্তি তার।প্রমিতা চোখের জল আটকাতে পারল না কথাগুলো বলতে গিয়ে।
— 'এত কষ্ট সয়ে কেন পড়ে আছ জানোয়ারটার কাছে!'আর্যর মাথায় আগুন চড়ে গেল,'বাপের বাড়িতে কেন ফিরে যাচ্ছ না?'
— 'ও বাড়িতে ঢোকার রাস্তা যে বন্ধ হয়ে গেছে স্যার,'প্রমিতা হতাশ গলায় বলল,'বাড়ির অমতে পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম রাজেশকে,সেদিনই বাবা আমায় ফোন করে বলেছিল,ও বাড়িতে আমি সবার কাছে মৃত।'
প্রমিতা অসহায়ের মতো কাঁদতে লাগল,'জানেন স্যার,কেউ নেই যে আমায় একটু বোঝে!মাঝে মাঝে মরে যেতে ইচ্ছে হয়!'
— 'কে বলেছে প্রমিতা কেউ তোমায় বোঝে না?ওই নরকে আমি তোমায় আর ফিরতে দেব না।' বলেই প্রমিতার হাতদুটো নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরল আর্য।
আর্য এরপর পাশে দাঁড়াল প্রমিতার।রাজেশের সাথে ডিভোর্স হল প্রমিতার।রাজেশও ডিভোর্স দিতে বিশেষ আপত্তি করেনি,কারণ সে অন্য গার্লফ্রেন্ড যুগিয়ে ফেলেছে ততদিনে।
এরপরই বিয়ে হল আর্য-প্রমিতার।যদিও প্রমিতাকে আর্যর মা-বাবা একেবারেই পছন্দ করেন না,কারণ জিজ্ঞেস করলে বলেন,'মেয়েটাকে সুবিধার মনে হয়না রে বাবু!'
আর্য সেজন্য বাড়ি ছেড়ে একটা ফ্ল্যাটে থাকে প্রমিতাকে নিয়ে।মা বাবার কাছে সে মাঝে মধ্যেই যায়,তবে তাঁদের কাছে স্থায়ীভাবে থাকে না,কারণ কোনো অবস্থাতেই প্রমিতার হাত ছাড়বে না আর্য,সে নিজের কাছে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
অন্যদিকে আর্যর মা বাবাও মাঝে মাঝে আসেন আর্যর ফ্ল্যাটে,কিন্তু পুত্রবধূকে এড়িয়ে চলেন,হয়ত আর্য তার দ্বিতীয় স্বামী বলেই।প্রমিতা যত্ন আত্তির কোনো ত্রুটি করেনা শ্বশুর শাশুড়ির,তবু তাদের মনের কাছাকাছি যেতে পারেনি আজও।অন্যদিকে আর্য প্রমিতাকে একেবারেই কষ্ট দিতে রাজি নয়,কারণ এমনিতেই জীবনে কম আঘাত পেতে হয়নি তাকে,অন্যদিকে নিজের মা বাবার কাছে ফেরার রাস্তাও বন্ধ।এজন্য প্রমিতাকে পছন্দ না করলেও মুখে সেরকম কিছুই বলেন না আর্যর মা বাবা,কারণ আর্য প্রমিতার সম্বন্ধে কোনো নেগেটিভ কথা সহ্য করেনা।তবুও মাঝে মধ্যে প্রমিতার চোখ দিয়ে দু-এক ফোঁটা জল বেরিয়েই যায়,'এজন্মে আমার আর মা বাবার স্নেহ পাওয়া হল না বলো আর্য?'
— 'মা বাবা যে কেন তোমায় মেনে নিতে পারেননি আমি সত্যিই বুঝিনা।তুমি তো কম করোনা ওঁদের জন্য!'
— 'নিজের মা বাবার কাছে তো কোনোদিনই ফিরতে পারব না,ভেবেছিলাম তোমার মা বাবাকেই....কিন্তু সেই সুখ বোধহয় আমার কপালে নেই!'
প্রমিতার চোখের জল একেবারেই সহ্য করতে পারে না আর্য।চোখের জল মুছিয়ে বুকে টেনে নেয় ওকে,'আর কেউ তোমায় ভালোবাসুক,আর নাই বাসুক,আমি সারাজীবন তোমার পাশে থাকব প্রমিতা,কখনও একা ফেলে চলে যাব না!'
— 'সত্যি তো আর্য,কোনোদিনও আমার হাত ছাড়বে না তো!'
— 'ছেড়ে দেওয়ার জন্য তো হাত ধরিনি প্রমিতা!'
প্রমিতা একটু ছেলেমানুষ গোছের।আর্য ভালোবাসার পাশাপাশি যথেষ্ট স্নেহও করে প্রমিতাকে,তাই ওর ছেলেমানুষিগুলো বেশ উপভোগই করে সে।এই যেমন কিছুদিন হল নতুন এক ছেলেমানুষি শুরু করেছে প্রমিতা।একদিন আর্য ল্যাপটপে মুখ গুঁজে বসে আছে,হঠাৎই প্রমিতা অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে গেল।আর্য ব্যস্ত হয়ে ওর কাছে যেতেই দেখল,ওর মুখ থেকে রক্ত পড়ছে।তাড়তাড়ি নিজের স্কুল জীবনের বন্ধু সুমনকে ফোন করে সে,সুমন বর্তমানে শহরের নামকরা ডাক্তার।সুমন বন্ধুর ফোন পেয়েই তাড়তাড়ি ওদের ফ্ল্যাটে চলে আসে।কিন্তু এসেই ওরা হকচকিয়ে যায়।ওরা দেখে,প্রমিতা খাটের ওপর বসে হাসছে।সেই দেখে ওদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে ব্যাপারটা পুরোটাই প্রমিতার ছেলেমানুষি ছাড়া আর কিছুই নয়।সুমন মনে মনে বিরক্ত হলেও মুখে হাসি নিয়েই ফিরে যায় নিজের চেম্বারে,আর আর্য হাসতে থাকে।
এরপর এই ঘটনা আরও বেশ কয়েকবার ঘটিয়েছে প্রমিতা।কিছু ক্ষেত্রে আর্য বুঝতে পেরেছে,যে এটা শুধুই মজা,কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে বুঝতে পারেনি,যেমন আজকের ঘটনাটা।প্রমিতা নিশ্বাস বন্ধ করে রেখেছিল,তাই সে কিছুক্ষণের জন্য আশঙ্কিত হয়ে পড়েছিল,তাই বাধ্য হয়ে সুমনকে ফোন করেছিল।কিন্তু সুমন শুনে বুঝেছে আসল ব্যাপারটা,তাই বিরক্ত হয়ে ফোন কেটে দিয়েছে।
আর্য-প্রমিতা বেশ সুখেই আছে,তবুও মাঝেমধ্যেই মা বাবার কথা বলে প্রমিতা।এজন্য আর্য ঠিক করল একদিন প্রমিতার বাপেরবাড়িতে তাকে নিয়ে যাবে,একবার চেষ্টা করবে যদি ওবাড়ির মানুষেরা প্রমিতাকে মেনে নেন।
কলিংবেল বাজতেই একজন মাঝবয়সী মহিলা এসে দরজা খুললেন,'কাকে চাই?'
— 'শোভনবাবু আছেন?'
— 'হ্যাঁ আছেন,আপনারা একটু বসুন,কত্তাবাবুকে খবর দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।'
প্রমিতা বনেদী পরিবারের মেয়ে,খুব রক্ষণশীল তাদের পরিবার।প্রেম করে বিয়ে তাঁরা একেবারেই পছন্দ করেন না,সেই কারণেই প্রমিতা বাধ্য হয়েছিল কলেজ জীবনের প্রেমিক রাজেশের সাথে পালাতে।এসমস্ত প্রমিতার মুখ থেকেই শুনেছে আর্য।ও বলেছে,বাবা অন্য জায়গায় ওর বিয়ে ঠিক করেছিলেন।বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও প্রমিতার কোনো কথা কানে তোলেননি তিনি,তাই বাধ্য হয়েই আশীর্বাদের আগের দিন এক কাপড়ে রাজেশের হাত ধরে বাড়ি ছেড়েছিল সে।
— 'তোমার বাবা মা ই কিন্তু রাজেশকে সঠিক চিনেছিলেন,সেজন্যই ওকে মেনে নেননি,'প্রমিতার মুখে সবটা শুনে বলেছিল আর্য,'আসলে আমাদের কিসে ভালো হবে সেটা বোধহয় সবচেয়ে বেশি ভালো মা বাবা ই বোঝেন।'
এই কথা শুনে হয়ত মনে মনে কিছুটা ক্ষুন্ন হয়েছিল সে,'হুম তা ঠিক বলেছ জানো,হয়ত সেজন্যই তোমার মা বাবাও আমাকে মেনে নিতে পারেননি,'বলেই শ্লেষের হাসি হেসেছিল সে।
— 'আমি তা বলতে চাইনি প্রমিতা,প্লিজ আমায় ভুল বুঝোনা!'প্রমিতার গালদুটো নিজের হাতের তালুতে রেখে সে বলেছিল,'আমিও যে কি করি,না বুঝে তোমায় কষ্ট দিয়ে ফেললাম।মা বাবা আমাদের ভালোটা বোঝেন বটে,কিন্তু সব সিদ্ধান্তই যে ওঁরা ঠিক নেন সেটা নয়।'
প্রমিতাদের বাড়িতে একটা বড়ো ডাইনিং স্পেস আছে,ওখানেই একটা সোফায় বসে ওয়েট করছিল আর্য-প্রমিতা।কিছুক্ষণ পরই শোভন রায়চৌধুরী এবং তাঁর স্ত্রী উর্মিলাদেবী এসে হাজির হলেন সেখানে।ওঁরা প্রমিতার বাবা মা।
আর্য কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল,কিন্তু প্রমিতাকে দেখেই ভীষণ রেগে গেলেন ওঁরা,শোভনবাবু রাগী গলায় বললেন,'ও কেন পা রেখেছে এ বাড়িতে?ও তো মৃত এ পরিবারে সকলের কাছে,আর মৃত মানুষকে আর ফিরতে নেই,তা কি ও জানেনা!'
— 'আমি আসতে চাইনি বাবা,'প্রমিতা মাথা নিচু করে বলল,'আর্য তোমায় বারবার বলেছিলাম তবু তুমি সেই নিয়ে এলে আমায় এখানে!'
— 'কে তোমার বাবা?আমার ছোট মেয়ে প্রমিতা দু বছর আগে মারা গেছে,আমি তার বাবা ছিলাম,তোমার কেউ নই আমরা এখন!'
— 'আঙ্কেল আমি সবটাই বুঝতে পারছি,'আর্য শান্তভাবে বলল,'কিন্তু আপনারা যেমন কষ্ট পেয়েছেন প্রমিতার কাজে,ও ও কিন্তু কম কষ্ট পায়নি এই দুটো বছর।রাজেশ ওকে পশুর মতো মারত,হাতে কপালে আঘাতের চিহ্ন লুকিয়ে ও রেগুলার অফিস আসত,কখনও কাউকে কিছু বলেনি এ ব্যাপারে।আমি যদি সেদিন ওকে না চেপে ধরতাম,তাহলে হয়ত আজও ওকে ওই পশুটার বাড়িতেই থাকতে হত,'দীর্ঘশ্বাস ফেলে আর্য বলতে লাগল,'আপনারা তো ওর মা বাবা,স্নেহের চেয়ে কি অভিমানটাই বড়ো হল আপনাদের কাছে?'
— 'শোনো এসব কথা বলে কোনো লাভ নেই।আমাদের বাড়িতে একটা নিয়ম কানুন আছে,সেই নিয়ম যারা মানে না,তাদের এবাড়িতে ঠাঁই হয়না।'শোভনবাবু বললেন,'আর তুমি কে?'
আর্য সমস্তটাই খুলে বলল প্রমিতার মা বাবাকে।
— 'উরিব্বাস,তুই তো গভীর জলের মাছ রে,' এক যুবকের প্রবেশ সেখানে,'বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করলি,আবার দু বছর যেতে না যেতেই বরও পালটে ফেললি!'
— 'চুপ করুন,প্রমিতার সম্বন্ধে এই ধরণের কথা বলার সাহস আপনার হয় কিভাবে?কে আপনি?'
— 'আমি সিদ্ধার্থ,এবাড়ির বড়ো ছেলে,প্রমিতার দাদা।আর প্রমিতার সম্বন্ধে কি বলব সেটা আপনার কাছ থেকে শিখব নাকি মশাই!আসলে এসব বানানো গল্প,আমাদের এত সম্পত্তি দেখে ওই রাজেশ ব্যাটার লোভ হয়েছে,তাই মিথ্যে গল্প ফেঁদে আপনাকে পাঠিয়েছে!কিছু বুঝিনা যেন আমরা,যত্তসব!'
— 'আপনাদের সম্পত্তি নিয়ে আমার বা প্রমিতার বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট নেই,'আর্য রাগান্বিত হয়ে পড়ল এবার,'আমি নিজেও বনেদী পরিবারেরই ছেলে,সেটা জানেন!'
পরবর্তী ভাগ পড়ুন : দ্বিতীয় পর্ব

0 মন্তব্যসমূহ