চেনা অচেনা
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
প্রথম পর্ব
অফিস থেকে ফিরেই দিয়া তাড়তাড়ি মা বাবাকে চা করে দিয়ে নিজে খেতে বসল।আজ যে খুব তাড়া আছে ওর,তুহিনের সাথে সিনেমা দেখতে যাবে।তুহিন স্কুল শিক্ষক,আর দিয়া বেসরকারি অফিসে কর্মরতা।তাই তুহিন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারলেও দিয়ার বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা পার হয়ে যায়।আজ একটু তাড়াতাড়ি ফেরার চেষ্টা করেছিল দিয়া,তবুও কাজের চাপে সেই সাতটা পার হয়েই গেল।
দিয়ার সাতাশ বছরের জন্মদিনে তুহিনের দেওয়া নীল শাড়িটা পরল দিয়া।সাথে টিপ,হালকা লিপস্টিক,আর চুলে খোঁপা।তুহিন পুরোনো ঘরানার মানুষ,মেয়েদের আধুনিক পোশাক পরিচ্ছদ পরা তার পছন্দ নয়,এমনকি জিন্স টপ পরাও নয়।তাই দিয়াও তুহিনকে ভালোবেসে নিজের বহু পছন্দের ড্রেস তুলে রেখে দিয়েছে,বা কাউকে দিয়ে দিয়েছে।শাড়ি আর সালোয়ারকামিজেই দিব্যি মানিয়ে নিয়েছে মেয়েটা।তা সত্ত্বেও কখনো কখনো ব্লাউজের পিঠ একটু বড়ো হলে,বা ওড়না সরে গেলে তুহিন বেশ বিরক্ত হয়,'নিজের পোশাকটাও কি সামলাতে পারোনা?ভুলে যেওনা,লজ্জাই মেয়েদের সৌন্দর্য।'
তুহিনকে বড্ড ভালোবাসে দিয়া,তাই তার এই ধরণের কথাগুলোও দিয়া হাসি মুখেই মেনে নেয়।
কানে লম্বা দুল,চুলে খোঁপা,আর পিন আপ করে শাড়ি পরে বেরিয়ে পড়ল দিয়া।তুহিন অনেকক্ষণ ধরেই ওর জন্য অপেক্ষা করছিল,দিয়া যেতেই বিরক্ত হয়ে বলল,'সময়ে পৌঁছাতে খুব অসুবিধা হয় তোমার,তাই না?'
— 'তুহিন,কি করব বলো,আমি অফিস থেকে তাড়তাড়িই ফিরতে চেয়েছিলাম,কিন্তু এত কাজ এসে গেল...'
— 'হ্যাঁ হ্যাঁ অনেক কাজ তো তোমার!তো এত কাজ করে মাস মাইনে কত পাও?সেই তো হাতে গোনা কয়েকটা টাকা!'
— 'কি করব বলো তুহিন!সবাই তো তোমার মতো ব্রিলিয়ান্ট হয়না,যে বড়ো চাকরি পাবে!'অভিমানের সুরে বলল দিয়া।
স্টুডেন্ট হিসেবে তার রেজাল্ট দিয়ার থেকে ভালো এবং ভালো চাকরি করার কারণে বেশ অহংকার তুহিনের।মাঝে মাঝেই সে দিয়াকে অপমান করে,ব্যঙ্গ করে।
— 'হুম ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট তো আর চাইলেই হওয়া যায় না,'তাচ্ছিল্যের সুরে বলল তুহিন,'তার জন্য ব্রেন থাকতে হয়,ব্রেন।সেটা কি আর যার তার থাকে!'
যার তার বলতে যে সে দিয়াকেই বোঝালো এটা দিয়ার বুঝতে বাকি ছিল না।আসলে মেয়েরা তার মুখে মুখে কথা বলবে এটাই তুহিনের অপছন্দের,সেটা ভালো মতই জানে দিয়া।তাই আর কথা বাড়াল না সে।কথা ঘুরিয়ে দিল,'উফ,খালি বকবক,আমায় কেমন লাগছে বললে না তো!'
— 'ও এটা তো সেই শাড়িটা,যেটা তোমার জন্মদিনে দিয়েছিলাম।বাহ,দারুণ মানিয়েছে।এবার জন্মদিনে একটা সালোয়ার কামিজ দেব,কেমন?'
দিয়ার পছন্দ অপছন্দ কোনোদিন জানতে চায়নি সে,বরং বুঝিয়েছে,তার পছন্দই দিয়ার পছন্দ।
— 'আচ্ছা বেশ,তাই দিও।এখন চলো,নইলে সিনেমা শুরু হয়ে যাবে যে!'
দিয়া তুহিনের হাতটা ধরল,আর ওরা এগিয়ে গেল সিনেমাহলের দিকে।
সিনেমা শেষ হতে হতে রাত দশটা বাজল।'আজ রাত হয়ে গেছে,চলো ডিনারটা রেস্টুরেন্টেই করে নিই।'তুহিন বলল।
— 'আচ্ছা বেশ।তাহলে বাড়িতে ফোনে জানিয়ে দিই যাতে মা বাবা আমার জন্য না খেয়ে বসে না থাকে।'
— 'ওকে।'
খাওয়ার পর দিয়া বলল,'বিলটা আজ আমি দিই না তুহিন,প্লিজ!সবসময় তো তুমিই দাও।'
— 'আরে না না তা কেন?আমিই দিচ্ছি,তোমায় দিতে হবে না।'
— 'তুহিন সিনেমার টিকিটের টাকাটাও আমায় দিতে দিলে না,এখন ডিনারের বিল টা তো আমি দিই!'
— 'দিয়া তুমি ভালো করেই জানো যে আমি মেয়েদের টাকায় কোনো কিছু করতে পছন্দ করিনা,কেন কথা বাড়াচ্ছ?'
— 'কেন তুহিন?আমার টাকা কি তোমার নয়?তুমি সব সময়ই বলো যে তোমার সব কিছু আমার,তাহলে উল্টোটা নয় কেন?'
— 'তুমি বড্ড তর্ক করো জানো তো!তুমি যে চাকরি করো সেটাই আমার মা পছন্দ করেন না,নেহাত আমি আধুনিক মানসিকতার,তাই মাকে অনেক কষ্টে বুঝিয়েছি।'
— 'ঠিক আছে ঠিক আছে,অত কথার দরকার নেই,তুমিই পে করো।'
মাঝে মাঝে বড্ড ক্লান্ত লাগে দিয়ার।তুহিন কি সত্যিই ওকে ভালোবাসে,না শুধুই জোর খাটাতে চায়,অধিকার ফলাতে চায়।দমবন্ধ দিয়ার মাঝে মাঝে মনে হয়,এই সম্পর্ক থেকে ওর বেরিয়ে আসা উচিত,কিন্তু তুহিনের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা ওকে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে দেয় না।
খাওয়ার পর যখন ওরা হেঁটে অটোস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল,তখন রকে বসে থাকা কিছু বখাটে ছেলে দিয়াকে দেখে টোন কাটল,'আরে দেখ দেখ!মামণি রাতদুপুরে কেমন শাড়ি পরে টিপ পরে বেরিয়েছে।এক্কেবারে বৌ বৌ লাগছে।তা মামণি আমাদের মধ্যে কাউকে বিয়ে করো না গো,হেব্বি ভালোবাসবো,'বলেই শিষ দিল তারা।
দিয়া প্রচন্ড রেগে গিয়ে ওদের কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল,তুহিন হ্যাঁচকা টানে তাকে টেনে নিয়ে এল ওখান থেকে।রাগী স্বরে বলল,'দেখছ তো কেন আমি তাড়তাড়ি আসতে বলি!রাতবিরেতে মেয়েমানুষের রাস্তায় না বেরোনোই ভালো।কিন্তু তুমি বুঝলে তো!'
— 'বাহ তুহিন,হোয়াট অ্যা লজিক!তোমার মতে পোশাক মেয়েদের বিপদের কারণ,তাই তোমার মতে সভ্য পোশাকই আমি পরি,তবুও কেউ অসভ্য আচরণ করলে সেটা আমার দোষ তাই না?'
— 'শোনো এসব জ্ঞান গল্পে ভালো লাগে,বাস্তবে না,ওকে!'
— 'কিন্তু তুহিন,সেদিন সকালে যখন আমি অফিস যাচ্ছিলাম বাসে,এক মাঝবয়সী কাকু আমায় ব্যাডলি টাচ করছিল,তখন তো রাত ছিল না!তাহলে সেটাকে কি বলবে!'
— 'দেখো খাবার যেমন খোলা রাখলে মাছি এসে বসে,তেমন মেয়েরাও স্বেচ্ছাচারিতা করলে এসব একটু আধটু ঘটে।'
— 'স্বেচ্ছাচারিতা?কোন্ টা স্বেচ্ছাচারিতা তুহিন?আমার চাকরি করাটা?'
— 'দেখো গুরুজনেরা তো ভুল কিছু বলেন না!আমি যথেষ্ট আয় করি তো,তুমি ওই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাড়ির বাইরে কাজ করে কি এমন আয় করো শুনি?আর মায়ের বয়স হচ্ছে,বিয়ের পর ঘরদোর সংসার ফেলে তুমি যদি অফিসে ছোটো,তাহলে রান্নাটা কে করবে?'
— 'কেন,তুমি বেশি আয় করো বলে অনেক কথাই তো শুনি দিনরাত।একটা রান্নার লোক রাখতে পারবে না?'
— 'ও হ্যালো,আমি আম্বানির ভাই নই যে ব্যাঙ্কে দশ কোটি টাকা রাখা আছে।আর মা সারাজীবন নিজেই রান্না করেছেন,কোনো লোক টোক ছিল না।তুমি কোথাকার পটের বিবি যে...'
— 'দেখো তুহিন,তুমি শুধু শুধু তিলকে তাল করছ।আমি শুধু কথার কথা বলেছি মাত্র।আমি অফিস সামলেও ঠিক রান্না করতে পারব।যাই হোক,বাই।'
তুহিনের জন্য আর অপেক্ষা করল না দিয়া।অটোতে উঠে পড়ল একাই।
তুহিন বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করল,কিন্তু দিয়ার আজ বড় বিশ্রামের প্রয়োজন।প্রতিদিনের এত অপমান,ঠাট্টা,কথায় কথায় মেয়েদের ছোট করা আর মেনে নিতে পারছিল না সে।কিছুদিন অন্তত তুহিনের থেকে ব্রেক নেওয়ার ভীষণ প্রয়োজন তার।
বারবার ডাকার পরও দিয়া তুহিনের ডাকে সারা না দিয়েই অটোয় বসল,আর অটো ছেড়ে দিল।তুহিন নিজের মনেই গজগজ করে উঠল,'লোকে যে বলে মেয়েমানুষের বুদ্ধি থাকে হাঁটুর নীচে,কিছু ভুল বলে না দেখছি!কাজের বেলায় অষ্টরম্ভা,এদিকে রাগ দেখো!'
বিরক্ত তুহিন অন্য একটা অটোয় চেপে বসল।
অন্যদিকে দিয়ার অটো ছেড়ে দিল।অটোয় দিয়া ছাড়াও আরও তিনজন ছিল,সকলেরই স্টপেজ দিয়ার আগে,দিয়ার স্টপেজ সবার শেষে।
অক্টোবরের রাত।ফাঁকা রাস্তা পেয়ে বেশ জোরেই চলছিল অটো।রাতের মায়াবী হাওয়া এসে চোখেমুখে লাগছিল দিয়ার।রাতের প্রায় ফাঁকা রাস্তার দিকে তাকিয়ে কেমন অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিল দিয়া।প্রথম স্টপেজে একজন যাত্রী নামলেন,অটো হঠাৎ থামায় সম্বিৎ ফিরে এল দিয়ার।বড্ড হতাশ লাগছিল ওর।তুহিন কি কোনোদিনও ওকে বুঝবে না?কেবল দোষারোপই করে যাবে?যদি দিয়ার কোনো গুণই ওর চোখে না পড়ে তাহলে প্রোপোজ করেছিল কেন?নাকি আটবছর পর আর তাকে মনে ধরছে না তুহিনের?অজান্তেই চোখে জল এল দিয়ার।
কলেজে তুহিন দু'বছরের সিনিয়র ছিল দিয়ার থেকে।সেখানেই তার সাথে পরিচয় হয়েছিল দিয়ার।তুহিন বরাবরই পড়াশুনায় ভালো,কলেজের টপার ছিল সে।দিয়া অতটা ভালো না হলেও খুব খারাপও ছিল না।ক্লাসে এইটথ বা নাইনথ র্যাঙ্ক করত সে।তুহিন সেটা নিয়েও কম শোনায়নি তাকে,এও বলেছে,'সবাই টপারকেই মনে রাখে,অন্যদের নয়।'
অথচ সম্পর্ক শুরুর আগে তুহিন এমন ছিল না।তখন সে বারবার বলত,'নাম্বার ডাজ নট ডিফাইন অ্যা স্টুডেন্ট,তাই মার্কস একটু কম এলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই।'
সিনিয়র দাদার মুখে এধরনের কথা শুনে মনে মনে তুহিনকে শ্রদ্ধা করতে শুরু করে দিয়া।ভেবেছিল,টপার,তবু অহংকারের ছিটেফোটাও নেই।তুহিনেরও ধীরে ধীরে ভালো লাগতে শুরু করে দিয়াকে।নোটস আদানপ্রদান,পড়া বুঝতে দুজনে লাইব্রেরি যাওয়া থেকে শুরু করে কবে যে ভালোবাসায় পৌঁছল সম্পর্কটা,কেউই টের পায়নি।
কলেজ পাস করে তুহিন ইউনিভার্সিটিতে হায়ার স্টাডিসের জন্য গেল,আর তার দুবছর পর কলেজ পাস করে দিয়া একটা বেসরকারি সংস্থায় জয়েন করল।
এতদিন পর্যন্ত সমস্ত কিছু ঠিকঠাকই চলছিল।দিয়া চাকরিটা পাওয়ার পর তুহিন ওকে অভিনন্দন জানিয়েছিল,নিজের হাতে কেক বানিয়ে খাইয়েছিল।
ইউনিভার্সিটিতেও টপ করল তুহিন,গোল্ড মেডেলিস্ট হল সে।আর তারপর থেকেই কেমন যেন অহংকার বাড়তে লাগল তুহিনের।যদিও তখন কথায় কথায় এতটা অপমান করত না তুহিন দিয়াকে।এরপর স্কুলে চাকরিটা পেল তুহিন।আর তারপর থেকেই অহংকার আকাশছোঁয়া হয়ে গেল তুহিনের।আর শুধু অহংকারই নয়,ও যে মেয়েদের নিচুনজরে দেখে সেটাও বিশ্রীভাবে প্রকাশ পেতে লাগল।যদিও দিয়া বিশ্বাস করে,এক মিনিটে কোনো মানুষ বদলায় না।তুহিন এমনই ছিল,শুধু প্রকাশ পায়নি মাত্র।
চোখের জলটা রুমাল দিয়ে মুছে ফেলল দিয়া।একটু আগে তৃতীয় যাত্রীও নেমে গেছে নির্দিষ্ট স্টপেজে।দিয়া একাই আছে অটোতে।হাতঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দিয়া দেখে,সাড়ে দশটা বাজছে।এত দেরি হয়ে গেল,মা বাবা হয়ত চিন্তা করছে।বাবাকে একটা ফোন করতে যাবে হঠাৎ সে দেখে অটোওয়ালা এক অচেনা সরু গলিতে ঢুকে পড়ল।
— 'দাদা,এ কোন্ দিকে যাচ্ছেন?আমার স্টপেজ তো এদিকে নয়!'
— 'এদিকে শর্টকাট হবে দিদি,তাই নিয়ে যাচ্ছি।'
— 'দরকার নেই দাদা,আপনি সোজা রাস্তা দিয়েই চলুন।এই রাস্তাটা চেনা লাগছে না।'
অটোওয়ালা দিয়ার কথায় কানই দিল না।উলটে স্পিড আরও বাড়িয়ে দিল অটোর।অটোওয়ালার মতলব ভালো নয় বুঝতে পেরে প্রাণপনে চিৎকার করতে লাগল দিয়া,'কেউ আছেন?প্লিজ বাঁচান!'
— 'চেঁচাও,চেঁচাও,যত পারো চেঁচাও।এই নির্জন রাস্তায় তোমায় কেউ বাঁচাতে আসবে না।'
সত্যিই রাস্তাটা একদমই নির্জন।কোনো উপায় নেই দেখে দিয়া তার শাড়ির আঁচলটা দিয়ে পিছন থেকে অটোওয়ালার গলা চেপে ধরল সর্বশক্তি দিয়ে।অটোওয়ালা এবার অটো থামাতে বাধ্য হল।এক মুহূর্তও নষ্ট না করে অটো থেকে নেমে ছুটতে লাগল দিয়া।
— 'পালিয়ে কতদূর যাবি?আমার হাত থেকে বাঁচবি ভাবছিস?'অটোওয়ালা ধাওয়া করল দিয়াকে।
সারাদিনের পরিশ্রমে ক্লান্ত,মানসিকভাবে বিধ্বস্ত দিয়া বেশিদূর যেতে পারল না,শাড়িতে পা জড়িয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ল সে রাস্তায়।
অটোওয়ালা একমুখ পৈশাচিক হাসি নিয়ে এগিয়ে আসতে লাগল তার দিকে।প্রাণপণে চিৎকার করতে লাগল দিয়া।
হঠাৎই রাস্তায় পাঁচ ছয়টা তরুণ এসে দাঁড়াল।দিয়ার চিৎকার শুনে তাদের আর বুঝতে বাকি রইল না ঘটনাটা।ছেলেগুলো সকলেই ক্যারাটে শেখা,উপরন্তু দলে ভারী।খুব সহজেই অটোওয়ালাকে কুপোকাত করে দিল তারা।ওদের মধ্যেই একজন এগিয়ে এসে দিয়াকে বলল,'আমি আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দেব,তবে একবার আপনাকে থানায় যেতে হবে,কারণ অন্যায়টা যে আপনার সাথেই হয়েছে।'
— 'ওকে,'দিয়া সায় দিল।
— 'দেশটা দিন দিন উচ্ছন্নে যাচ্ছে।মেয়েদের কি এতটুকুও সুরক্ষা নেই রাস্তাঘাটে?'ছেলেটা নিজের মনেই বিড়বিড় করল।
দিয়া জিজ্ঞেস করল,'আপনারা কারা?'
— 'আমার নাম আবীর।ওরা আমার বন্ধু।আমাদের একটা ব্যান্ড আছে,আমি গান করি,ওরা বাজায়।আজ একটা শো ছিল।আপনি?'
— 'আমি দিয়া,দিয়া সেন।'
— 'আচ্ছা বেশ।এখন আপাতত থানায় চলুন,তারপর আমি আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দেব।'
পরবর্তী ভাগ পড়ুন : দ্বিতীয় পর্ব

0 মন্তব্যসমূহ