Advertisement

নতুন জন্ম

নতুন জন্ম
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী



— 'আমিও চাই না তুমি আমার জন্য নিজের জীবনটা শেষ করে ফেলো এত কম বয়সে।' ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলল স্বচ্ছতোয়া, 'তুমি একজন সুস্থ মানুষ অর্ক, কেন সেই মানুষটার জন্য তুমি নিজের সারাটাজীবন সাদা কালো করে রাখবে যে মাত্র মাস ছয়েক বাদেই এই দুনিয়া থেকে বিদেয় নেবে বরাবরের মতো?'

কাঁদতে কাঁদতে হাঁপিয়ে গিয়েছিল স্বচ্ছতোয়া। কোনোরকমে হাত বাড়িয়ে ইনহেলারটা নিয়ে নেওয়ার পর শ্বাসকষ্টটা একটু ধরল। নিজেকে সামলে নিয়ে ও বলল, 'তুমি দ্বিতীয় জীবন শুরু করো অর্ক। শ্রেয়ার সাথেই করো। আমি জানি তোমাদের দুজনের গোপন সম্পর্কের কথা। সমাজের আর পাঁচজন তোমাকে চিটার বলতে পারে, তোমাদের সম্পর্কটাকে বলতে পারে পরকীয়া, কিন্তু আমি তা বলব না। কেন বলব অর্ক? কোন্‌ পুরুষমানুষ চায় একটা বোকা, ইমোশনাল রুগ্ন মেয়ের সাথে সারাজীবন থাকতে? শ্রেয়া কত স্মার্ট, কত সহজে সবরকম সিচুয়েশন হ্যান্ডেল করতে পারে, আমার মতন ন্যাকা তো নয়! শরীরও যথেষ্ট সুস্থ। ওরকম একজন মেয়েকেই তো সব পুরুষ চায় নিজের জীবনে! আমার মতো বোঝা কে ই বা চায়? ঈশ্বরও বোধহয় তাই চেয়েছেন, আর তাই তো এই বোঝাটাকে বরাবরের মতো দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন উনি। আমি শুধু...'
স্বচ্ছতোয়ার কথা শেষ হওয়ার আগেই অধৈর্য অর্ক বলল, 'সবই তো জানো, বোঝো, তারপরও এত মেলোড্রামার কি কোনো দরকার আছে?' 
স্বচ্ছতোয়া সহসা হাউমাউ করে কেঁদে উঠে অর্কর হাতদুটো নিজের কাঁপা রুগ্ন হাতদুটোতে নিল। 
— 'আমি যে ক'টা দিন বেঁচে আছি অর্ক, প্লিজ সেই কয়েকটা দিন তুমি আমার সাথে থাকো! আমি চলে গেলে তারপর না হয় শ্রেয়াকে বিয়ে করো! আজ তুমি আমাকে যতই অপছন্দ করো অর্ক একদিন তো তুমি আমাকে ভালোবেসেছিলে! বুকে টেনে নিয়েছিলে আমাকে, একগুচ্ছ গোলাপ হাতে এনে লাজুক হেসে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলে! সেই অনুভূতি তো একতরফা ছিল না অর্ক! আমিও তো তোমায় নিজের সবটা দিয়ে ভালোবেসেছি! না হয়ে সেই সোনালি দিনগুলোর কথা মনে করে আমি যে ক'টা দিন বেঁচে আছি, সেই শেষ সময়টুকু তুমি আমার কাছে থাকো! যে মানুষটার হাত থেকে একদিন সিঁথি রাঙিয়েছি, সেই মানুষটাকেই আজ অন্য কারোর সিঁথি রাঙাতে দেখতে পারব না যে অর্ক! এখনও যে বেঁচে আছি আমি!' 
— 'আচ্ছা?' রাগী স্বরে বলে উঠল অর্ক, 'তোমার ইচ্ছা ইচ্ছা, আর আমার ইচ্ছার কোনো মূল্য নেই? আর শ্রেয়া? ওর কি কোনো মান সম্মান নেই? ওরও পরিবার আছে, তারাও চায় খুব তাড়াতাড়ি আমাদের বিয়েটা হোক। শুধু শুধু তোমার মতো একজন ভবিষ্যতহীন মানুষের জন্য কেন আমি এতগুলো মানুষের জীবন এলোমেলো করব?' 
স্বচ্ছতোয়া আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু অর্ক আর দাঁড়াল না। গটগটিয়ে হেঁটে বেরিয়ে গেল ও। 

  কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল স্বচ্ছতোয়া। দুর্বল শরীরে কাঁদতে কাঁদতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল, তা ও নিজেই বুঝতে পারেনি। 

 ঘুমের মধ্যে এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখল ও। ও দেখল চারিদিকে নানা রঙের আলো জ্বলছে। নাকে ভেসে আসছে রজনীগন্ধার গন্ধ। তবে কি ঘুমের মধ্যেই ও পাড়ি দিল মৃত্যুর ওপারের দেশে? ভাবলেশহীন মুখে ও এগিয়ে চলল। কিন্তু যতই এগোচ্ছে, আস্তে আস্তে কানে মৃদু সানাইয়ের শব্দ আসছে কেন? 
ও যতই এগিয়ে চলল, ততই সানাইয়ের শব্দ ক্রমশ গাঢ় হতে লাগল। কানে এল মন্ত্রোচ্চারণের শব্দ। 

 আরও কিছুটা এগোতেই ওর হাত পা যেন পাথর হয়ে গেল। অর্ক আর শ্রেয়া বর কনের সাজে বসে আছে বিয়ের পিঁড়িতে। সদ্যবিবাহিত কনে শ্রেয়ার মাথায় জ্বলজ্বল করছে সিঁদুর। স্বচ্ছতোয়ার অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি সকলের চোখেমুখে ছড়িয়ে দিল একরাশ বিরক্তি। শ্রেয়া সহসা রেগে মেগে উঠে পড়ল। এগিয়ে এল স্বচ্ছতোয়ার দিকে। 
— 'অদ্ভুত নির্লজ্জ মেয়ে তুমি সত্যি স্বচ্ছ! এতকিছুর পরেও তুমি বেঁচে আছো? কিভাবে আছো? এত কঠিন প্রাণ তোমার বাপরে! তোমার জায়গায় যদি আমি থাকতাম না, তাহলে কবেই! যাক ছাড়ো, এসব তোমাকে বলে কোনো লাভ নেই। আপাতত অর্কর সামনে তুমি কোনোদিন এসো না। আর আমাদের নতুন সংসারে তোমার ওই অলুক্ষুণে ছায়াটাও প্লিজ পড়তে দিও না! চলে যাও, প্লিজ চলে যাও স্বচ্ছ! গেট লস্ট!' 

 চমকে ঘুম ভেঙে উঠে পড়ল স্বচ্ছতোয়া। সত্যিই তো! এই পরিবারে কেউ তাকে চায় না। কেন সে জোর করে অর্ককে আটকে রাখতে চাইছে? কোনো মানুষকে কি সত্যিই এভাবে ধরে বেঁধে আটকানো যায়? আর আটকাবে না স্বচ্ছতোয়া। বিছানায় কাছটায় গোল টেবিলটায় ডিভোর্স পেপার রাখাই ছিল। অর্কই ওটা এনে রেখেছিল। স্বচ্ছতোয়াকে বারবার বলেছিল সই করে দিতে, কিন্তু ও দেয়নি। ভেবেছিল, এইভাবে বুঝি ছয় মাস কাছে রাখতে পারবে নিজের ভালোবাসাকে। 

 কোনোরকমে উঠে দাঁড়াল ও। সুদৃশ্য কলমদানিটা থেকে একটা কলম তুলে নিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে সইটা করে সকলের অলক্ষ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল ও। আজ যেদিকে দু চোখ যায় চলে যাবে ও। অর্কর কাছে আর কিছুতেই ফিরবে না। 

 রাস্তা দিয়ে রোগিনী চলতে লাগল টলোমলো পায়ে। অতীত দিনের রঙিন দিনগুলোর কথা মনে উঁকি দিচ্ছিল কেবলই। অর্ক ওকে চোখে হারাত একসময়। কিন্তু এমন সুখী দাম্পত্যে কালসাপ হয়ে বিষাক্ত ছোবল মারল এই ফুসফুসে ক্যান্সার। প্রথমদিকে স্বচ্ছতোয়াকে অর্ক বুকে আগলে রাখত, যত্ন করত, তারপর একসময় সেই যত্ন, আকুলতা বদলে গেল সহানুভূতিতে, তারপর সেই সহানুভূতি বদলে গেল কেবলই কর্তব্যে, আর সেখান থেকেই জন্ম নিল বিরক্তি, অবহেলা। দাম্পত্যের মোটা ফাটল গলে অনায়াসে প্রবেশ করল তৃতীয় ব্যক্তি। অর্কই অবশ্য তাকে হৃদয়ের দরজা খুলে বরণডালা হাতে আপ্যায়িত করেছিল। 

 হাঁটতে হাঁটতে একসময় শ্বাস বন্ধ হয়ে এল স্বচ্ছতোয়ার, চোখের দৃষ্টি হয়ে উঠল ঝাপসা, মাথাটাও ভোঁ ভোঁ করতে লাগল, তবুও ও হেঁটেই চলল। ফুটপাত থেকে কখন যে বড় রাস্তার মাঝখানে উঠে পড়েছে ও, খেয়ালই নেই। 

 জ্ঞান হারানোর আগের মুহূর্তে ও দেখতে পেল, একটা বড় সাদা গাড়ি এগিয়ে আসছে ওর দিকে, তারপরেই সবটা অন্ধকার। 

সেদিনের পর থেকে নিখোঁজ হয়ে গেল জলজ্যান্ত মেয়েটা। কেউ তার খোঁজখবর পায়নি। নেওয়ার চেষ্টাও করেনি বোধহয় কেউ সেইভাবে। ছ'মাস বাদে যার অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে এই পৃথিবী থেকে, তাকে কে ই বা নিজের ব্যক্তিগত জীবন, কাজকর্ম ছেড়ে হা পিত্যেশ করে খুঁজতে বেরোতে যাবে?

স্বচ্ছতোয়া ডিভোর্স পেপারে সাইন করে দেওয়ায় অর্ক আর শ্রেয়ার বিয়েতে কোনো বাধা রইল না। অর্কর পরিবারের সকলেও চেয়েছিল, শ্রেয়ার সাথে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়েটা হোক অর্কর। ফলত খুব শীঘ্রই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হল দুজনে। একসময় যে অন্য একটি মেয়ে এই বাড়িতে বৌ হয়ে ছিল অনেকগুলো দিন, সবাই ভুলেই গেল সেকথা। আর যারা ভোলেনি, তারা স্বচ্ছতোয়ার যাবতীয় স্মৃতি মুছে দিল বাড়ির প্রত্যেকটি কোণা থেকে। 

কেটে গেছে তিন বছর। অর্ক আর শ্রেয়া আগে যে কোম্পানিতে চাকরি করত, এখন সেই কোম্পানি ছেড়ে দিয়েছে ওরা। অন্য এক কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিয়েছিল ওরা, সেই কোম্পানিতে মাস মাইনে আগের কোম্পানির প্রায় দ্বিগুণ৷ দুজনেই পেয়ে গেল নতুন কোম্পানিতে চাকরি। 
 
 আজ অফিসে প্রথম দিন। ইন্টারভিউয়ের দিন এসেই চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল দুজনের। আগের কোম্পানির বিল্ডিং এর কাছে কিছুই না। যেমন বিশালায়াতন, তেমনই সুসজ্জিত চারিদিক। চোখ চাওয়াচাওয়ি করল ওরা। পায়ে পায়ে হেঁটে চলল বসের কেবিনের দিকে। দুজনেরই হাতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার। 

 কিন্তু কেবিনের সামনে এসেই থমকে দাঁড়াল ওরা। ওদের পথ আটকে দাঁড়াল বসের পিএ। 
— 'ম্যামের কাছে যাচ্ছেন যে, পারমিশন আছে?' 
— 'না মানে...আমরা...আজ নতুন...এই অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার...' আমতা আমতা করতে লাগল দুজন। 
— 'ম্যামের সাথে যখন তখন দেখা করা যায় না। তার জন্য পারমিশন নিতে হয়। আছে আপনাদের পারমিশন?' 
ওরা মাথা নেড়ে জানাল, 'না।' 
— 'দাঁড়ান। আমি আসছি।' 
পিএ মেয়েটি ঘরের ভেতরে গেল। পাঁচ মিনিট কিছু কথাবার্তা হল। বেরিয়ে এসে মেয়েটি বলল, 'ম্যাম আপনাদের ভেতরে ডাকছেন। যান।' 

 ঘষা কাচের সুদৃশ্য দরজা ঠেলে পায়ে পায়ে ভেতরে ঢুকল ওরা। একজন যুবতী বসে আছে চেয়ারে। তার পরনে দামী শাড়ি, বাঁ হাতে ব্র‍্যান্ডেড ঘড়ি, ডান হাতে নকশা কাটা সোনার ব্রেসলেট। হাতে থাকা ইংরেজি পত্রিকা মুখ আড়াল করে রয়েছে তার। 
চকিতে টেবিলের নেমপ্লেটের দিকে চোখ গেল অর্কর। সেখানে লেখা, এস. গুপ্তা। 
শ্রেয়া অর্ককে হালকা ঠেলা মারল। চোখের ইশারায় বলল, 'এইভাবেই কি দাঁড়িয়ে থাকবে?' 
অর্ক বলতে শুরু করল, 'ম্যাম, আমরা আজ জয়েন করেছি।' 
মুখ থেকে পত্রিকা না সরিয়েই যুবতী বলতে লাগল, 'জানি। মিস্টার অর্কদীপ চ্যাটার্জী আর মিসেস শ্রেয়া চ্যাটার্জী। রাইট?' 
শ্রেয়া মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। কিন্তু অর্কর সারা হাত পা জুড়ে যেন বিদ্যুৎ তরঙ্গ খেলে গেল। এই নারীকন্ঠ তার বড্ড চেনা! 
এবার পত্রিকা থেকে মুখ তুলল যুবতী। তাকে দেখে মাথা ঘুরে গেল অর্ক আর শ্রেয়া দুজনেরই। এ কাকে দেখছে ওরা? 

 দুজনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আজ থেকে তিন বছর আগে হারিয়ে যাওয়া রুগ্ন সেই মেয়েটি। অর্কর প্রাক্তন স্ত্রী স্বচ্ছতোয়া। 

 কিন্তু আজ তো তার শরীরে বিন্দুমাত্রও রোগের চিহ্ন নেই। চোখেমুখে ফুটে উঠেছে চাকচিক্য, সেই রোগা শীর্ণ চোখের কালি পরা মেয়েটির আজ ভরা যৌবন যেন উপচে পড়ছে। চেহারায় দেখা দিয়েছে এক অন্যরকম গ্লো। সিঁথিতে জ্বলজ্বল করছে এক চিলতে সিঁদুর। সেদিনের মতো আজ সে আর দুঃখী নয়, তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে বুঝি এই বিশ্বচরাচরের সবচেয়ে সুখী নারী। 
শ্রেয়া নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিস্ফারিত চোখ মেলে। অর্কর মুখ দিয়ে অজান্তেই বেরিয়ে আসে, 'স্বচ্ছ!' 
— 'শাট আপ!' স্বচ্ছতোয়ার হুঙ্কারে চমকে ওঠে দুজন, 'সাহস হয় কিভাবে বসকে তার নাম ধরে সম্বোধন করতে? কল মি ম্যাম!' 
পরিস্থিতি কঠিন বুঝে শ্রেয়া বলে ওঠে, 'সরি ম্যাম! ও ভুল করে ফেলেছে! দ্বিতীয়বার আর কখনো এই ভুল হবে না!' 
— 'মাথায় থাকে যেন কথাটা! তোমাদের মতো হাজারো ক্যান্ডিডেট নিজেদের সিভি হাতে লাইন দিয়ে আছে এই কোম্পানিতে একটা চাকরির আশায়। কাজেই! দ্বিতীয়বার এই একই ভুল হলে রেজিগনেশন লেটারটা রেডি রাখবে।' 
— 'উই আর এক্সট্রিমলি সরি ম্যাম।'
— 'ইটস ওকে। নাও গেট লস্ট!' 

 দ্বিধাগ্রস্ত অর্ককে নিয়ে কোনোরকমে কেবিন থেকে বেরিয়ে এল শ্রেয়া। 
— 'আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না শ্রেয়া। স্বচ্ছতোয়া এখনও বেঁচে আছে? আর এখানে কিভাবে?'
— 'আমিও কিচ্ছু বুঝতে পারছি না অর্ক।' 

সেই সময়েই হঠাৎ এগিয়ে আসে কয়েকজন যুবক যুবতী। ওরা এই অফিসের স্টাফ। 
— 'হ্যালো অর্ক, হ্যালো শ্রেয়া। ওয়েলকাম টু দিস নিউ অফিস। বাই দ্য ওয়ে, ম্যামের সাথে দেখা করেছো?'
— 'হুম।' কাষ্ঠহাসি হেসে বলল শ্রেয়া।
— 'ম্যাম ভীষণ ভালো মানুষ জানো। খুব ডাউন টু আর্থ। আমাদের সাথে একেবারে বন্ধুর মতো মেশেন, বিপদে আপদে আমাদের পাশে দাঁড়ান, মনেই হয় না উনি আমাদের বস। কর্পোরেটে এমন মানুষকে বস হিসেবে পেতেও ভাগ্য লাগে।' 
— 'যা বলেছ।' তাল মেলাল অন্য একজন স্টাফ।
— 'স্যার, মানে এই কোম্পানির মালিক অধিরাজ গুপ্তা, ম্যামকে চোখে হারান। ওনাদের প্রেম কাহিনীটা কোনো সিনেমার চেয়ে কম কিছু নয়।' 
— 'প্রেম কাহিনী?'
— 'হ্যাঁ গো। আজ থেকে বছর তিনেক আগে একদিন এক বিজনেস মিটিং সেরে স্যার যখন বাড়ি ফিরছিলেন নিজে ড্রাইভ করে, হঠাৎ এক রুগ্ন অসুস্থ মেয়ে স্যারের গাড়ির সামনে পড়ে। তড়িঘড়ি মেয়েটিকে নিয়ে হসপিটালে যান স্যার। জানতে পারেন, মেয়েটি ক্যান্সারে আক্রান্ত, হাতে সময় মাত্র পাঁচ ছয় মাস। নিজের মাকে ক্যান্সারে হারিয়েছিলেন স্যার, কিন্তু চ্যালেঞ্জ করলেন, এই মেয়েটির পরিণতি মায়ের মতো হতে দেবেন না। বিদেশে ছুটে গেলেন তিনি রোগাক্রান্ত মেয়েটিকে নিয়ে। সেখানকার অন্যতম নামকরা হসপিটালে ভর্তি করা হল মেয়েটিকে। চিকিৎসকদের দক্ষতা এবং স্যারের সেবাগুণে মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরে এল মেয়েটি, মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে।' 
— 'সেই মেয়েটিই আজ এই অফিসের বস, তাই তো?'
— 'একদম অর্ক। এই গল্পটা স্বচ্ছতোয়া ম্যামের জীবনের গল্প। ম্যামের বর্তমান জীবন যতটা ঝাঁ চকচকে দেখছো তোমরা, ওনার অতীত জীবন কিন্তু...'
— 'একদমই স্মুথ ছিল না।' 
— 'একদম। কোন্‌ এক হতচ্ছাড়া চিটারের পাল্লায় পড়েছিলেন উনি। কিন্তু তুমি জানলে কি করে? আচ্ছা, তার মানে আমাদেরও আগে অন্য কারোর মুখ থেকে সবটা শুনেছো তুমি, না?' 
মুখ চাওয়াচাওয়ি করে হাসতে লাগল যুবক যুবতীরা। শ্রেয়া কটমটিয়ে তাকাল অর্কর দিকে। 

(সমাপ্ত)











 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ