সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
— 'তোমার অফিসের কাজ দিন দিন বেড়েই চলেছে নম্রতা তাই না?সেজন্য মেয়ের বার্থডের দিনও অফিস থেকে রাত করে ফেরো!সংসারের প্রতিও যে একটা দায়িত্ব,কর্তব্য আছে সেটা ভুলে যাও তাই না তুমি?'
— 'অনিন্দ্য,দেখো না বুঝে শুধু শুধু এত সিনক্রিয়েট কোরো না,ভালো লাগে না একদম!'
— 'সিনক্রিয়েট কি আমি এমনি এমনি করছি নম্রতা?মেয়েটা আমাদের আজ বারোতে পা দিল,কত গেস্ট এসেছিলেন আজ বার্থডে পার্টিতে,শুধু তুমিই ছিলে না,কত মন খারাপ নিয়ে মেয়েটা কেক কাটল সেটা আমি খেয়াল করেছিলাম।তাছাড়া গেস্টরাও সবাই জিজ্ঞেস করছিলেন যে তুমি কোথায়!'
— 'তাই?তা কি বললে তুমি তোমার গেস্টদের?'
— 'কি আবার বলব,বললাম অফিসে ব্যস্ত আছে কাজে!অনেকেই বাঁকা হাসি হাসলেন সেটা শুনে,আর সেটাই স্বাভাবিক!ওঁরা যে কি ভাবলেন কে জানে!'
— 'হুঁ,বুঝতে পারছি,তোমার আসল জ্বালাটা ওখানেই হচ্ছে,কারণ তোমার প্রিয় গেস্টরা আমার সম্পর্কে অনেককিছুই ভেবেছেন,আর কাছের মানুষদের খুশির চেয়ে বাইরের লোকেরা কি ভাবল সেটাই বেশি ইম্পরট্যান্ট তোমার কাছে সারাজীবন,সেজন্যই রিয়্যাক্ট করছ এইভাবে!'
— 'দেখো নম্রতা,বিষয়টাকে অন্যদিকে ঘোরাবার চেষ্টা কোরো না,তাছাড়া শুধু আজ বলে না,গত একমাস ধরেই তোমার অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত সাড়ে ন'টা দশটা বাজছে,এর কারণ কি?'
— 'শোনো,আমি ভীষণ ক্লান্ত,তোমার এত অবান্তর প্রশ্নের জবাবদিহি করতে পারব না এখন,আমি ফ্রেস হতে যাচ্ছি ,বাই!'
নম্রতা ফ্রেস হয়ে শিল্পার ঘরে এল। শিল্পা নিজের মনে ছবি আঁকছিল।বিছানার পাশের টেবিলটায় রঙিন চকচকে কাগজে মোড়া গিফটগুলো রাখা ছিল।নম্রতা এসেই পিছন থেকে শিল্পার চোখদুটো চেপে ধরল দুই হাতে।
— 'কে এসেছে?মাম্মাম?'
— 'হ্যাঁ রে মা,তোর মাম্মাম এসেছে।' শিল্পার চোখের ওপর থেকে হাতদুটো সরিয়ে নিল নম্রতা।
— 'তুমি আজ কেক কাটার সময় ছিলে না কেন?জানো,সবার সাথে আমি কত্ত ছবি তুললাম,শুধু তোমার সাথে ছাড়া,আমি কথাই বলব না আর তোমার সাথে!' অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিল শিল্পা।
— 'শিল্পা মা,তোমার মাম্মাম কত ব্যস্ত মানুষ তুমি তো জানো,তাই না?লক্ষ্মীমেয়েরা এইভাবে রাগ করে,হ্যাঁ?দেখো তো কি এনেছি আমি তোমার জন্য!'
শিল্পা ফিরে তাকাতেই নম্রতা তার হাতে তুলে দিল তার পছন্দের চকোলেট বিস্কুট আর একটা গল্পের বই।গল্পের বই পড়তে বড্ড ভালোবাসে শিল্পা,তাই গল্পের বই হাতে পেয়েই সে জড়িয়ে ধরল মাম্মামকে,'আই লাভ ইউ মাম্মাম' বলেই সে নম্রতার গালে আদর মাখানো চুম্বন এঁকে দিল।
নম্রতা মেয়েকে বুকে টেনে নিয়ে বলল,'আজ তোর বার্থডে পার্টিতে থাকতে পারিনি তো কি হয়েছে,কাল তুই আর আমি সিনেমা দেখতে যাব,কেমন?'
আজকাল নম্রতার আচরণে বেশ অসঙ্গতি লক্ষ্য করছে অনিন্দ্য।গত একমাস ধরে অনিন্দ্যকে কেমন অ্যাভয়েড করছে নম্রতা,দরকার ছাড়া কথাবার্তা বলে না বিশেষ,এমনকি অনিন্দ্যর সাথে এক বিছানায় শোয় না পর্যন্ত,শিল্পার সাথে শোয় নম্রতা।এছাড়া অফিস থেকে প্রায়দিনই রাত করে ফেরা,মাঝেমধ্যেই ফোনে কারোর সাথে নিচু গলায় কথা বলা,এই সবই অনিন্দ্যর মনে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।সে ঠিক করেছে,নম্রতাকে সে চোখে চোখে রাখবে।
একদিন অনিন্দ্য রাতে জল খেতে উঠেছিল,জল খাওয়ার পর সে মেয়ের ঘরে গিয়েছিল,কিন্তু ঘরে গিয়েই সে অবাক।কারণ ঘরে শিল্পা একাই শুয়ে ছিল,পাশে নম্রতা ছিল না।অনিন্দ্য তাড়াতাড়ি বারান্দায় গিয়ে দেখে,নম্রতা বাড়ির বাগান পেরিয়ে চলেছে মেন গেটের দিকে।অনিন্দ্য তাড়াতাড়ি সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামতে লাগল,তারপর দূরত্ব বজায় রেখে অনুসরণ করতে লাগল নম্রতাকে।ও দেখল,রাতের নিস্তব্ধ রাস্তা দিয়ে একা হেঁটে চলেছে নম্রতা,কোনোরকম ভয়ডর নেই তার নিজেকে নিয়ে।পিছন পিছন হেঁটে চলেছে অনিন্দ্য।
প্রায় মিনিট কুড়ি পঁচিশ হাঁটার পর একটা গলির মুখে এসে থামল নম্রতা,ওকে থামতে দেখে অনিন্দ্য লুকিয়ে পড়ল একটা গাছের পেছনে,সেখান থেকেই লক্ষ্য করল,একটা যুবক এল গলির উল্টোদিক থেকে,এসে দাঁড়াল নম্রতার সামনে।সে আসতেই নম্রতা আনন্দে যেন ফেটে পড়ল,তার গাল,কপাল,দু হাত চুম্বনে ভরিয়ে দিতে লাগল নম্রতা,তারপর তাকে বুকে টেনে নিল।
গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে দাঁত কিড়মিড় করতে লাগল অনিন্দ্য, 'আচ্ছা এই ব্যাপার!আমি তো তাহলে ঠিকই সন্দেহ করেছিলাম!গোপন অভিসারে আসা হয় ওনার,আর তাই এমন বেপরোয়া মনোভাব,কোনো ভয়টয় নেই রাতবিরেতে!'
জামার পকেটেই মোবাইলটা ছিল,মোবাইলটা বের করল অনিন্দ্য।মোবাইলে সে দেখল,বারোটা পাঁচ বাজছে।মোবাইলের ক্যামেরাটা অন করেই নম্রতা আর সেই ছেলেটির ছবি তুলে নিল সে বেশ কয়েকটা,তারপর নিজের মনেই গজরাতে লাগল, 'আজ রাত হয়ে গেছে,তাই ছেড়ে দিলাম,কাল সকালে আমি ওর দফারফা করে ছাড়ব!'
এরপর একটা গোলাপ ফুলের তোড়া দিল নম্রতা ছেলেটিকে।
— 'উঁহ,প্রেমিককে আবার গোলাপের তোড়া দেওয়া হচ্ছে!আঁচলে লুকিয়ে যে ফুলের তোড়া এনেছিল তা তো খেয়াল করিনি!তলে তলে এত?'
এরপর অনিন্দ্য দেখল,ছেলেটির হাত ধরে হাঁটছে নম্রতা,অনিন্দ্যও ওদের ফলো করতে লাগল,দেখল,ওরা দুজন একটা অনুষ্ঠানবাড়িতে উঠল,অনুষ্ঠানবাড়িটা আলো দিয়ে সাজানো ছিল।
আর সহ্য করতে পারল না অনিন্দ্য।রাগে গজগজ করতে করতে বাড়ি ফিরে গেল সে।
পরের দিন সকালেই শুরু হল তুলকালাম।অন্যদিনের মতো সেদিনও অফিসের জন্য বেরোচ্ছিল নম্রতা,কিন্তু বেরোবার মুখেই তার পথ আটকে দাঁড়াল অনিন্দ্য।বিরক্ত নম্রতা বলল, 'পথ ছাড়ো আমার,অফিসে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে!'
— 'তুমি কাজে যাও না ফুর্তি করতে যাও সেটা জানতে আমার বাকি নেই!'
— 'যাস্ট শাট আপ অনিন্দ্য!আমাদের একটা বারো বছরের মেয়ে আছে বাড়িতে ভুলে যেও না,মুখের ভাষা ঠিক করো!'
— 'না আমি ভুলিনি যে আমার ঘরে মেয়ে আছে,কিন্তু তুমি?তোমার সে খেয়াল আছে?যদি থাকত তবে মেয়েটাকে একা বিছানায় রেখে পরপুরুষের সাথে ফষ্টিনষ্টি করতে যেতে না রাতবিরেতে!অনিন্দ্য রায়ের স্ত্রী হয়ে কিনা তুমি!ছি ছি!'
— 'ডোন্ট ক্রস ইয়োর লিমিট অনিন্দ্য!' চেঁচিয়ে উঠল নম্রতা, 'যা মুখে আসছে তাই বলে যাচ্ছ?তোমার সাহস কিভাবে হয় আমার চরিত্রের দিকে আঙুল তোলো তুমি!'
অনিন্দ্য নম্রতার হাত ধরে টেনে নিয়ে চলল তাদের বেডরুমে,তারপর ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েই মোবাইলটা বের করে গ্যালারি খুলল,তারপর মোবাইলটা নম্রতার হাতে গুঁজে দিয়ে বলল, 'মেয়ে আছে বলে বাইরে সিনক্রিয়েট করলাম না আর,ঘরে নিলাম এলাম তোমায়,এবার বলো তো,এগুলো কি?তোমার লজ্জা করে না,একটা হাঁটুর বয়সী ছেলের সাথে!ছি ছি ছি!'
নম্রতা ছবিগুলো দেখে আর সবটা শুনে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল,সেই সাথে দু চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল জল।
— 'আজকাল একেবারে দু'কান কাটা হয়ে গেছ না তুমি?লজ্জা,শরম কোনোকিছুরই বালাই নেই না?'
— 'অনিন্দ্য,ছেলেটার নাম অনুরাগ।আগে শুনেছ নামটা কোথাও?'
নামটা শুনে হঠাৎ বাকরুদ্ধ হয়ে গেল অনিন্দ্য।কাঁধে ঝোলানো ব্যাগটা থেকে দুটো ছবি বের করল নম্রতা,তারপর অনিন্দ্যর হাতে দিয়ে বলল,'দেখো তো,এই দুজনকে মেলাতে পারো কিনা!'
অনিন্দ্য ছবিদুটো নিয়ে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল।একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে এক শিশুপুত্র,আর অন্য ছবিতে দেখা যাচ্ছে অনুরাগকে।
নম্রতা চোখের জল মুছে শ্লেষের হাসি হেসে বলল,'আজ থেকে কুড়ি বছর আগের ঘটনার কথা মনে পড়ে তোমার অনিন্দ্য?আমরা দুজনেই কলেজে পড়তাম তখন,তুমি ছিলে আমার সিনিয়র।আমি পড়ি সেকেন্ড ইয়ারে,তুমি থার্ড ইয়ারে।আমাদের প্রেমটা দিন দিন এতটাই গাঢ় হয়ে উঠেছিল যে গঙ্গার পাড় থেকে পৌঁছে গিয়েছিল বিছানায়।আমি সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়লাম,তুমি বললে বাচ্চা নষ্ট করে দিতে,কারণ একটাই,'লোকে কি বলবে!' কিন্তু আমি রাজি হইনি।আমার কোল আলো করে জন্ম নিল পুত্রসন্তান,তুমি আর আমি তার নাম রাখলাম অনুরাগ।কিন্তু আবার সেই 'লোকে কি ভাববে'র কারণ দেখিয়ে তুমি আমায় বাধ্য করালে ওকে অনাথ আশ্রমে রেখে আসতে,নইলে নাকি আমার সাথে তোমার বিয়ে দিতে রাজি হবেন না তোমার বাবা মা।সেদিন কুড়ি বছরের কলেজ পড়ুয়া ছিলাম,বয়স অল্প ছিল,তাই বুদ্ধি,অভিজ্ঞতা সবটাই কম ছিল,তোমাকে হারানোর ভয়ে আমি আমার বুকের পাঁজরকে রেখে এলাম অনাথ আশ্রমে,কতদিন ছেলেটা আমার মায়ের কোল খুঁজেছে,কিন্তু পায়নি।মা বাবা বেঁচে থাকতেও ওকে অনাথ পরিচয়ে বাঁচতে হয়েছে দিনের পর দিন,কারণ 'লোকে কি বলবে!' কান্নায় গলা বুজে আসে নম্রতার,নিজেকে সামলে নিয়ে সে বলে,'তাতেও সইল না তোমার!বিয়ের পর আমি প্রায়ই আশ্রমে যেতাম আমার প্রথম সন্তানকে দেখতে,সেটা 'ভালো দেখায় না' মনে হল তোমার,কারণ এতে নাকি লোকে সন্দেহ করতে পারে!তাই আশ্রমের কিছু লোককে হাত করে ওকে সরিয়ে দিলে অনেক দূরের এক আশ্রমে,তখন অনুরাগের তিন বছর বয়স।এদিকে আমায় বাড়ি এসে বললে,অনুরাগ নাকি আশ্রম থেকে বেরিয়ে পড়েছে খেলতে খেলতে কখন,কেউ খেয়াল করেনি,তারপর থেকেই অনুরাগকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!আমি সেদিনই ছুটলাম আশ্রমে,কিন্তু তোমার কাছে ঘুষ খেয়ে ওরাও একই কথা বলল।আমি তোমায় বললাম,পুলিশে খবর দাও!তুমি বললে,পুলিশকে নাকি অলরেডি সব জানানো হয়ে গেছে,ওরা খুঁজছে অনুরাগকে!'
— 'নম্রতা তুমি....'
— 'এটাই ভাবছ তো,যে সত্যিটা সতেরোটা বছর ধরে আমার কাছ থেকে গোপন রেখেছ তুমি,সেটা আমি কিভাবে জানলাম?অনিন্দ্য,কলেজে আমার এক বান্ধবী ছিল ক্যামেলিয়া,ওর কথা মনে আছে তোমার?ওর মেয়ে দিশা পুলিশ অফিসার হয়েছে আজ।ওর মেয়ের কাছে একদিন সবটা খুলে বলেছিলাম আমি,শুনেই দিশা অবাক,বলল,'সতেরো বছর ধরে তোমার ছেলেকে পুলিশ খুঁজেই চলেছে?কি বলছ তুমি আন্টি!দাঁড়াও আমি দেখব ব্যাপারটা!'
তারপর দিশাই তদন্ত করে সব সত্যিটা খুঁজে বের করেছে।কলকাতার অনাথ আশ্রম থেকে উত্তরবঙ্গের একটা আশ্রমে পাঠিয়ে দিয়েছিলে তুমি ওকে,যাতে আমি আর ওর সন্ধান না পাই!ভেবেছিলে আমি সবটা ভুলে যাব সময়ের সাথে,তাই না?আর এই সত্যিটা আমি জানতে পেরেছি বলেই গত একমাস ধরে তোমায় যথাসম্ভব এড়িয়ে চলি,তোমায় দেখলেই ঘেন্নায় গা গুলিয়ে ওঠে আমার!একজন বাবা কিভাবে এত নীচে নামতে পারে শুধু সমাজের ক'টা লোকের কথায়?জানো অনিন্দ্য,আমার অনুরাগ সবটা শুনে প্রথমে ভীষণ অভিমান করেছিল আমার ওপর,আর সেটাই তো স্বাভাবিক!অনেক কষ্টে ওর অভিমান ভাঙিয়েছি আমি,আমার অনুরাগ এবার থেকে আমার কাছেই থাকবে,এতদিন ওকে ছাড়া বড্ড কষ্টে থেকেছি,কিন্তু আর নয়!আর আজকের দিনের তারিখটা মনে আছে তোমার অনিন্দ্য?আজ চব্বিশে জুলাই,আজ থেকে একুশ বছর আগে আমার অনুরাগ এসেছিল আমার কোলে।শিল্পা জন্মের পর থেকে কত আদর-যত্ন-বিলাসিতায় বড়ো হয়েছে,অথচ আমার আরেক সন্তান?তার এত বছরের জন্মদিনে সামান্য পায়েস টুকু করেও আমি খাওয়াতে পারিনি,তাই ভাবলাম রাত বারোটায় ওকে উইশ করি,আর সেই মতোই আয়োজন করেছিলাম,ভাড়া করেছিলাম অনুষ্ঠানবাড়ি,সেখানে গেস্ট হিসেবে এসেছিল শুধু ক্যামেলিয়া আর দিশা।কেকও আনা হয়েছিল ওখানে।আমার অনুরাগটা বড্ড লাল গোলাপ ভালোবাসে,জানো!তাই ভাবলাম,জন্মদিনের দিন......' চোখ মুছে নম্রতা বলল,'আর তুমি কিনা!ছিঃ!'
— 'আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি নম্রতা!' লজ্জিত মুখে অনিন্দ্য বলল।
- 'তুমি আজ রাগারাগি করছিলে না অনিন্দ্য আমি অফিস থেকে রাত করে ফিরি বলে,কারণটা জানতে চেয়েছো কখনো?চাওনি!আসলে যেদিন থেকে আমি খোঁজ পেয়েছি ওর,অফিস থেকে ফেরার পরেই আমি চলে যেতাম ওর কাছে,প্রাণ ভরে আদর করতাম ওকে,ওর পছন্দের রান্না করে খাওয়াতাম,গল্প করতাম।তবে আর আমার অফিস থেকে ফিরতে দেরি হবে না দেখো,কারণ আজকেই আমি আমার শিল্পাকে নিয়ে এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো।আমি,অনুরাগ আর শিল্পা আজ থেকে একসাথে থাকবো।'
- 'এসব কি বলছো তুমি নম্রতা?শিল্পা সব জানে?'
- 'হ্যাঁ গো,তোমার মনে আছে শিল্পার বার্থডের পরের দিন আমি ওকে নিয়ে বেরিয়েছিলাম?তুমি জানতে আমরা সিনেমা দেখতে যাচ্ছি,কিন্তু আমি শিল্পাকে ওর দাদাভাইয়ের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম।জানো শিল্পাও তার বড় দাদাকে খুব ভালোবাসে,আর অনুরাগও বাসে তার বোনকে।তাই আজ থেকে আমরা তিনজন একসাথে থাকবো,একই বাড়িতে।যে বাড়িতে আমার সন্তানের ঠাঁই হয়না শুধু সমাজের চোখরাঙানির ভয়ে,সেই বাড়িতে যে আমার থাকা সাজেনা।আমরা চললাম,তুমি থাকো লোকদের বলা কথা নিয়ে।একদিন তোমার বয়স হবে,একাকী হয়ে যাবে তুমি,সেদিন কিন্তু তোমার আপনজনেরাই তোমার পাশে থাকবে,নিন্দেমন্দ করা লোকেরা নয়।যেদিন এই সারসত্যটা তুমি বুঝবে,সেদিন ই আমরা ফিরবো আবার,তার আগে নয়।'
(সমাপ্ত)
0 মন্তব্যসমূহ