Advertisement

আসব আবার ফিরে

আসব আবার ফিরে
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 


— 'বাজে ছেলে একটা, আবার আমার প্রিয় বান্ধবীটাকে কষ্ট দিয়েছিস তুই?' রূপম আসতেই ঝাঁঝিয়ে উঠল নিবেদিতা।
— 'কাপলের মধ্যে যখন ঝগড়া হয় তখন যে থার্ড পার্টিকে তার মাঝখানে ঢুকতে নেই তুই সেটা জানিস না নিবেদিতা?'
— 'দুদিনের ছোকরা, তোর সাহস তো মন্দ নয়! জানিস আমি আর মোনা কত ছোটোবেলা থেকে বেস্টফ্রেন্ড একে অপরের? ওর মন কেমন আছে সেটা ওর আগে আমি বুঝতে পারি, বুঝলি দুদিনের বয়ফ্রেন্ড!'

মোনালিসা আর রূপম একে অপরকে ভালোবাসে, আর নিবেদিতা মোনালিসার বেস্টফ্রেন্ড সেই প্রাইমারি স্কুল থেকে। হাইস্কুল, কলেজও এক দুই বেস্টফ্রেন্ডের।কলেজে ওদের আলাপ হয় রূপমের সাথে, মোনালিসা আর রূপম দুজনেই দুজনকে পছন্দ করত, কিন্তু বলতে পারেনি। সকলের কাছে 'উড়নচন্ডী' নামে পরিচিত নিবেদিতাই মিলিয়ে দিয়েছিল ওদের, সম্পর্কে গিয়েছিল দুজন। এরপর থেকে কখনো রূপমের ওপর অভিমান হলেই মোনালিসা এসে গোমড়া মুখে বসে থাকত নিবেদিতার কাছে, আর নিবেদিতা সবটাই বুঝে যেত, তারপর ঝগড়া লাগত নিবেদিতা আর রূপমের।

— 'সবসময় যে ঝগড়া করিস এত মোনালিসার হয়ে, তুই কি ওর বডিগার্ড?' 
— 'হ্যাঁ তাই রূপম, আমি ওর বডিগার্ড, এনি প্রবলেম?'

ওদের দুজনের ঝগড়া দেখে হেসে লুটোপুটি খেত মোনালিসা, অজান্তেই মনটা ফুরফুরে হয়ে যেত ওর।
এইভাবেই দিব্যি কাটছিল ওদের দিন, হঠাৎই এল এক বিপর্যয়। মোনালিসার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ল। ডাক্তার বললেন, 'লাস্ট স্টেজ, হাতে আর মাত্র তিন মাস সময় আছে তার।'
ওর মৃত্যুসজ্জায় উপস্থিত ছিল নিবেদিতা আর রূপম দুজনেই, আর দুজনে ওর দুটো হাত ধরে ভীষণ কাঁদছিল। মোনালিসা নিবেদিতা আর রূপমের হাত দুটো মিলিয়ে দিয়ে বলল, 'কাঁদছিস কেন তোরা? আমি কি একেবারের জন্য যাচ্ছি নাকি? তোরা দুটিতে বিয়ে করিস, সুখী হোস, আমি আবার ফিরব তোদের মাঝে, দেখিস!'

নিবেদিতা আর রূপমের বিয়ের দুবছরের মাথায় ওদের একটি কন্যাসন্তান জন্মাল। নিবেদিতা সেই সন্তানকে বুকে টেনে নিয়ে বলল, 'আমি ওর নাম রাখলাম মোনালিসা।'

(সমাপ্ত) 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ