Advertisement

কাহিনী (পঞ্চষষ্টি পর্ব)

কাহিনী
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
পঞ্চষষ্টি পর্ব (অন্তিম পর্ব)



সোনালি আকাশ আর স্মৃতিকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন, 'তোদের দুটিকে ছেড়ে আমি কোথাও যাব না রে!'

____________________________


একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

______________________________


কেটে গেছে বেশ কয়েকটা দিন। আজ সোনালি আর সঞ্জয়ের রেজিস্ট্রি ম্যারেজের অনুষ্ঠান। সোনালি আপত্তি করেছিলেন বিয়েতে, 'তোমার মায়ের যে মত নেই সঞ্জয়!'

— 'মা এতদিন ভুগে ভুগে গত দু'দিন আগে মারা গেলেন যখন সোনালি, উনি আমার হাতদুটো নিজের ওই দুর্বল মুঠোয় নিয়ে কি বলেছিলেন জানো? বলেছিলেন, সোনালি মায়ের মতো মেয়ের সাথে তোর বিয়ে না দিয়ে বড্ড অন্যায় করেছিলাম রে বাবা, সেই অন্যায় আজও আমায় কুরে কুরে খায়। আজ আমিই বলছি, তুই সোনালি মাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিস রে!' সঞ্জয় হেসে জবাব দিয়েছিলেন, 'মায়ের শেষ ইচ্ছে না রেখে আমি কি পারি বলো?'


সম্পন্ন হল ওঁদের আইনি বিয়ে। আকাশ আর স্মৃতি আজ সঞ্জয়কে বাবা বলে ডাকে। আকাশ আজ নিজেকে আকাশ ব্যানার্জী বলে পরিচয় দেয় না, পরিচয় দেয় আকাশ ঘোষাল বলে।


সবটা ঠিকই ছিল, কেবল খাওয়াদাওয়া শেষে হঠাৎ রুমকির মাথাটা কেমন ঘুরে গেল। স্মৃতি এসে ওকে তাড়াতাড়ি ধরল।

— 'আপনি নিশ্চয়ই রুমকিদির ঠিকঠাক যত্ন করেন না সৌনকদা, তাই তো ওনার মাথাটা ঘুরে গেল।'

— 'একটু ভুল বলে ফেললে আকাশ,' স্মৃতি মুচকি হাসল, 'যত্নটা বরং একটু বেশি হয়ে গেছে, তাই না রুমকিদি?'

— 'কাহিনী!' স্মৃতির কান মলে দিল রুমকিদি, 'বড় দিদির সাথে ফাজলামি হচ্ছে, না?'

— 'যাক বাবা, ফাজলামি কোথায় করলাম, আমি তো সত্যিটাই বললাম!'

— 'কি সত্যি স্মৃতি? আমি তো কিছুই বুঝছি না!'

— 'আরে বাবা আকাশ, আমি আর তুমি মাসি মেসো হব খুব তাড়াতাড়ি, বুঝলে?'

— 'আরে সাব্বাশ! সৌনকদা, কনগ্র‍্যাচুলেশনস।'

রুমকির মুখটা লাল হয়ে গেল লজ্জায়, সৌনকও লাজুক হাসি হাসল নিচের দিকে তাকিয়ে।

— 'হয়েছে হয়েছে, আর লজ্জা পেতে হবে না রুমকিদি! দাঁড়াও রান্নাঘর থেকে আচার নিয়ে আসি।'

স্মৃতি আচার খুঁজতে রান্নাঘরে এসেছিল, ওর পেছন পেছন আকাশও যে কখন রান্নাঘরে এসে হাজির হয়েছে তা ও টেরই পায়নি। টের পেল আকাশের গলা শুনে।


— 'এই দিনটা একদিন আমাদের জীবনেও এসেছিল স্মৃতি, মনে পড়ে? কিন্তু আর পাঁচটা কাপলের মতো সুখবর হয়ে নয়, এক আতঙ্ক, লজ্জার খবর হয়ে। সেদিন তোমারও হয়ত আচার খেতে ইচ্ছে হয়েছিল, কিন্তু না, তোমার সামান্য শখ মেটানো তো দূর, সমাজ তোমার কাছ থেকে আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিয়েছিল, রাস্তায় এনে দাঁড় করিয়েছিল তোমায়। কেউ সহানুভূতি দেখায়নি, বরং ছুড়ে দিয়েছে একরাশ অপমান আর তাচ্ছিল্য! আজ আমাদের জীবনে হাজার সুখের বাতি জ্বললেও সেই দিনগুলো যে আমি কখনো ভুলতে পারব না স্মৃতি!' আকাশের চোখে জল এল অজান্তেই।

— 'আমিও ভুলিনি আকাশ দিনগুলো, এও ভুলিনি তুমি প্রতিটা মুহূর্তে কিভাবে আমার পাশে ছিলে, আমার জন্য একা লড়াই করে গেছ গোটা দুনিয়ার সাথে। আকাশ, আমি শুধু একটাই কথা বলব আজ, আই লাভ ইউ, লাভ ইউ সো মাচ!'

আকাশ স্মৃতিকে জড়িয়ে ধরে বলল, 'এতকিছুর মাঝে তোমায় কখনো বলা হয়নি ভালোবাসি, কিন্তু আজ বলছি স্মৃতি। আই লাভ ইউ টু, লাভ ইউ ফরএভার।'


কাহিনী চৌধুরী, শিউলি নস্কর আর স্মৃতি ঘোষালের জীবনের পথচলা এখানেই শেষ নয়, বরং নতুন করে শুরু। তবে সে অন্য কাহিনী। এই কাহিনী আপাতত এখানেই ফুরোলো, আর নটেগাছটি মুড়োলো।


(সমাপ্ত)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ