এনকাউন্টার
ত্রয়োত্রিংশ পর্ব
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
— 'আমি রবিকে লকাপ থেকে বের করার ব্যবস্থা করতে চাই,প্লিজ না বলবেন না আমায়!' উকিলবাবু কাতর স্বরে অনুরোধ করলেন।
— 'কিন্তু আমার হাতে তো সেরকম টাকা নেই,অভ্র এমনভাবে গোটা শহরে জাল বিছিয়ে রেখেছে,যে ব্যাঙ্কে পর্যন্ত যেতে পারছিনা,রবির মায়ের গায়ের গয়নাগুলো বিক্রি করে যেটুকু টাকার জোগাড় হলও বা,সেই টাকাটাও অভ্র ছিনতাই করাল!'
— 'ছি ছি ছি,ওতটুকু বয়সী ছেলে,গাঁটে গাঁটে কি শয়তানী বুদ্ধি দেখুন শুধু!যাক ছাড়ুন ওর কথা,আমি আমার কথায় আসি।সূর্যদেববাবু,আমায় কোনো টাকা দিতে হবে না আপনাকে,রবিকে আমি নিজের ছেলে জ্ঞান করেই যা করার করব,আপনাকে একটা টাকাও দিতে হবে না এর জন্য।'
— 'আমায় ক্ষমা করবেন উকিলবাবু,তা হয়না।'
— 'কেন হয়না সূর্যদেববাবু?আজ যদি রবি আমার ছেলে হত?আমি কি করতাম না ওর জন্য এটুকু?'
— 'আপনি বুঝছেন না উকিলবাবু,আমি এইভাবে আপনার থেকে এমনিতে সাহায্য নিতে পারি না....'
— 'সাহায্য কেন ভাবছেন আপনি সূর্যদেববাবু?এটা সাহায্য নয়,দয়া নয়,এটা এক ছেলের প্রতি তার বাবার কর্তব্য!'
— 'উকিলবাবু!'
— 'হ্যাঁ সূর্যদেববাবু,রবি সাগরিকা আমার সন্তানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়,আর এই কথাগুলো একটাও আমি বাড়িয়ে বলছিনা।প্লিজ আমার সন্তানের জন্য এটুকু করার অনুমতি দিন আপনি,প্লিজ!'
— 'আচ্ছা বেশ উকিলবাবু,তবে আপনার কথাই রইল কেমন,আপনিই তবে ব্যবস্থা করুন।'
— 'বড্ড খুশি হলাম আমি বিশ্বাস করুন,কাল সকালেই আমি থানায় যাব রবির জামিন করাতে,দেখি অভ্রর ঘাড়ে কটা মাথা আছে রবিকে লকাপে রাখে!'
পরেরদিন সকালেই উকিলবাবু থানায় যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিলেন,বেরোনোর আগে সূর্যদেববাবুকে ফোন করে তিনি জানিয়ে দিলেন,যে বেরোচ্ছেন।কিন্তু বাড়ি থেকে বেরোনোর মুখেই এক বিপদে পড়লেন তিনি।বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নামলেন যেই,হঠাৎ করেই একটা টাটাসুমো এসে থামল তাঁর পাশে,আর গাড়িটা থেকে কিছু দুস্কৃতি নেমেই উকিলবাবুর নাকে রুমাল চাপা দিয়ে অজ্ঞান করে গাড়িটায় তুলে নিয়ে চলে গেল।
— 'অভ্র,উকিলবাবুকে তুলে এনে ভালোই করেছিস,তবে আর ওকে আটকে রাখার দরকার নেই,ছেড়ে দে ওকে!' সন্ধ্যেবেলায় ফ্ল্যাটের সোফায় বসে গ্লাসে মাদক ঢালতে ঢালতে অভিজিৎবাবু হেসে বললেন।
— 'কি যে বলছ তুমি বাবা কিছুই মগজে ঢুকছে না', অভ্র অবাক হয়ে বলল,'উকিলবাবুকে ছেড়ে দেব?কেন বাবা?ওটাকে ছেড়ে দিলে রবির লকাপের বাইরে বেরোনো তো দু'মিনিটের খেলা!ওদিকে রিকাও অনেকটাই সুস্থ হয়ে এসেছে ডক্টর বললেন।এদিকে রবিও যদি বাইরে বেরিয়ে পড়ে,তাহলে ফ্যামিলিসমেত ও আমাদের সবাইকে বাঁশ দেবে!'
— 'হা হা হা,কে বাঁশ দেবে?রবি?' ক্রূর হেসে অভিজিৎবাবু বললেন,'তুই এত বোকা অভ্র,তোকে মাঝে মাঝে আমার ছেলে ভাবতেও লজ্জা করে!আরে রবি জেল থেকে বেরোলে তবে না আমাদের বাঁশ দেবে!ও তো এজন্মে আর মুক্তি পাবেই না!'
_________________________
Subscribe my YouTube channel : Suchandra Chakrabarti
_________________________
— 'মানে?কি বলছ তুমি বাবা?আরে ও যাতে মুক্তি না পায় আমি তো তার জন্যই উকিলবাবুকে....'
— 'উকিলবাবুকে ছেড়ে দে,আজ রাতেই ছেড়ে দে!'
— 'কিন্তু কেন বাবা?'
— 'আহ,শুধু প্রশ্নের পর প্রশ্ন!তুই আগে প্রীতমদের ফোনে বল ওরা যাতে আজ রাত এগারোটাতেই উকিলবাবুকে ছেড়ে দেয়।আগে ফোনটা কর,তারপর আমি বাকি কথা বলব।'
— 'বেশ,বলছি।'
নিমরাজি অভ্র প্রীতমকে ফোন করে বলল রাত এগারোটায় উকিলবাবুকে মুক্তি দিতে,তারপর এসে বসল অভিজিৎবাবুর সামনে।
— 'এইবার বলো তো বাবা,তোমার প্ল্যানটা কি এবার প্লিজ খুলে বলো,আমি টেনশনে মরে যাব নইলে!'
— 'উফ অভ্র রিল্যাক্স!নে,' বলেই মাদকের গ্লাস এগিয়ে দিলেন তিনি অভ্রর দিকে,'একটা বিরাট বড়ো জাল বিছিয়েছি আমি।এতদিন রবি মিত্র বারবার পালিয়ে বেঁচেছে,এবার আর পারবে না!এবার ওকে শেষ হতেই হবে!'
— 'কিরকম বাবা,শুনি শুনি!' অভ্রর চোখদুটো চকচক করে ওঠে।
— 'অভ্র,রবি যে থানায় আছে এখন,ওই থানায় আগে যিনি ও.সি ছিলেন,তাঁকে ট্রান্সফার করার ব্যবস্থা করেছি আমি ওপরমহলের সাথে কথা বলে,আর একজন নতুন ও.সি.কে এনেছি ওই থানায়।নতুন ও.সি.র নাম শিবপ্রসাদ বর্মন।'
— 'হ্যাঁ তো এতে লাভটা কি হবে?যে ও.সি.ই আসুক ওই বজ্জাত উকিল ঠিকই রবিকে বের করেই আনবে,বাঁশ সেই আমরা খাবোই!'
— 'আহ,আগে পুরোটা তো শোন গাধা!না শুনেই বকবক!'
— 'বেশ বলো!'
— 'এই ও.সি.র সম্পর্কে যদি একটু পড়াশুনা করতিস,তাহলে নিজেই সবটা বুঝতে পারতিস,আমায় জিজ্ঞেস করতিস না বোকার মতো।খবরের কাগজেও এনার সম্পর্কে বেশ কয়েকবার লিখেছিল,সেসবও পড়িসনা!'
— 'উরিব্বাস,তাহলে তো বিশাল ব্যাপার!'
— 'হ্যাঁ নয়ত আর বলছি কি!এনার একটা বদনাম আছে,ইনি প্রায়শই আসামীদের এনকাউন্টার করে দেন,একদম ওপরে পাঠিয়ে দেন,বিশেষ করে যদি আসামী রেপিস্ট হয় তাহলে তো কথাই নেই।আসলে রেপিস্টদের প্রতি ওঁর একটা আলাদাই রাগ আছে,ঘৃণা আছে।'
— 'তাই?'
0 মন্তব্যসমূহ