Advertisement

এনকাউন্টার (পঞ্চত্রিংশ পর্ব)

এনকাউন্টার 
পঞ্চত্রিংশ পর্ব
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 



রবি এগোতে গিয়েও পিছিয়ে এল হঠাৎ,বলল,'আমি একা যাব স্যার?আমার সাথে কোনো পুলিশ পাঠাবেন না?'

— 'আমি তোমায় বিশ্বাস করি রবি',শিবপ্রসাদবাবু হেসে বললেন,'তুমি যে পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নও তা আমি বুঝেছি,তাই পুলিশ পাঠাচ্ছিনা তোমার সাথে।যাও রবি,যাও আর দেরি কোরো না।'

রবি হালকা হেসে এগোতে লাগল গলিপথ ধরে।শিবপ্রসাদবাবু পিস্তলটা বের করলেন,তাক করলেন রবির দিকে,তারপরেই পিস্তলের বোতামটা টিপলেন।অতর্কিতে গুলিটা পিঠে লাগায় চিৎকার করার সুযোগ পেল না রবি,হালকা 'আহ' শব্দ করেই রাস্তায় লুটিয়ে পড়ল সে।পিঠটা রক্তাক্ত হয়ে গেল তার,একটু ছটফট করেই রবি স্থির হয়ে গেল,চোখের পাতাটা খোলাই রইল,বন্ধ হল না আর।শিবপ্রসাদবাবুসহ কনস্টেবলরা তাড়াতাড়ি ছুটে এলেন রবির দিকে।

_________________________

একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

_________________________

রবির মৃত রক্তাক্ত শরীরটা রাস্তায় পড়ে আছে।গভীর নিশুতি রাতে দূরের হালকা আলো এসে পড়েছিল ওর মুখে।ওই আলোয় দেখা যাচ্ছে,মৃত শরীরের খোলা চোখদুটোতে যেন অনেক প্রশ্ন! সে প্রশ্ন কার উদ্দেশ্যে?হয়তো বা চেনা মানুষের অচেনা রূপটা বেরিয়ে আসার কারণ জানতে চায় চোখদুটো,বা হয়তো সমাজের,আইনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে চায়,বা হয়তো মৃত্যুর কারণটা জানতে চায়.....
শিবপ্রসাদবাবু কনস্টেবলদের দূরে দাঁড়াতে বলে একাই এগিয়ে গেলেন রবির শরীরটার দিকে।চোখদুটো বন্ধ করে দিলেন তিনি,তারপর বেশ কিছুক্ষণ নাকের কাছে হাত রেখে কনস্টেবলদের বললেন,'শ্বাস পড়ছে না।এরপর নাড়ি দেখলেন তিনি,তারপর বললেন,'রবি মিত্র ইজ ডেড,ওর নাড়ি চলছে না।'

— 'এখন কি করবেন স্যার?বডিটাকে মর্গে পাঠাবেন তো?'

— 'না,আমি ওর বডিটা পুড়িয়ে দেব।জানোই তো রেপিস্টদের দেখলে আমার কতটা অসহ্য লাগে,আমি রেপিস্টদের এনকাউন্টার করে তাদের বডিটা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিই,যাতে শেষ চিহ্নটুকুও মুছে যায় পৃথিবী থেকে,যদিও এর জন্য আমায় চাকরিজীবনে কম ঝামেলা পোয়াতে হয়নি,বাট আই ডোন্ট কেয়ার।তোমরা এখন এসো,রবির সাথে শেষ হিসেবটা আমার বাকি,তাই আমিই শেষটা বুঝে নেব,এসো তোমরা।'

কনস্টেবলরা চলে গেল।শিবপ্রসাদবাবু রবিকে জিপে তুলে নিয়ে চললেন শ্মশানের দিকে।

পরেরদিন সকাল হল।মিডিয়া,নিউজপেপারের হেডলাইন হল রবির এনকাউন্টার।শহরজুড়ে বেশিরভাগ মানুষ খুশি হলেন রবির এনকাউন্টারে,কারণ তাঁরা জানতেন সাগরিকার এই অবস্থার জন্য রবিই দায়ী,আর কিছু কিছু মানুষ ঘটনাটার প্রতিবাদ করলেন।সূর্যদেববাবু আর চিন্ময়ী দেবী ভেঙে পড়লেন কান্নায় সব খবর শুনে,ওঁরা ছুটলেন থানায়।থানার সামনে গিয়েই তাঁরা শুরু করলেন চিৎকার-চেঁচামেচি।কনস্টেবলরা আটকাতে গেল তাঁদের,কিন্তু শিবপ্রসাদবাবু কনস্টেবলদের বললেন,'আসতে দাও ওঁদের।আর শোনো,কেউ লাঠি চালাবে না ওঁদের ওপর।'

— 'ওকে স্যার।'

সূর্যদেববাবুরা থানায় ঢুকেই শিবপ্রসাদবাবুর সাথে চরম বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়লেন।

অন্যদিকে থানার কিছু কনস্টেবল ছিল অভিজিৎবাবুর কেনা গোলাম।তাদেরই মধ্যে একজন কনস্টেবল রবির এনকাউন্টারের ভিডিওটা করেছিল পুরোটা শিবপ্রসাদবাবুর চোখ এড়িয়ে।সেই ভিডিওটা সে সেন্ড করেছে অভ্রর মোবাইলে,ভিডিওটা মহানন্দে টিভিতে চালিয়ে দেখছেন অভিজিৎবাবু,তনিমাদেবী আর অভ্র সোফায় বসে,হাতে পপকর্ণ।

— 'উফ এরকম এত্ত রোমাঞ্চকর একটা সিনেমা দেখছি,পপকর্ণ ছাড়া কি জমে বলো বাবা?'

— 'বটেই তো বটেই তো,উফ রোমাঞ্চকর বলে রোমাঞ্চকর!একটা বোঝা যেন ঘাড় থেকে নামল!' অভিজিৎবাবু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন।
হঠাৎই অভিজিৎবাবুর মোবাইলটা বেজে উঠল।হসপিটাল থেকে ফোন এসেছে,ফোনে জানানো হল,সাগরিকার জ্ঞান ফিরেছে,যদিও একটা ঘোরের মধ্যে আছে সে।

অভ্র আর অভিজিৎবাবু সাগরিকাকে দেখতে গেলেন।ডাক্তারবাবু বললেন,'জ্ঞান ফিরেছে ঠিকই,তবে একটা ঘোরের মধ্যে আছে ও।আর কেবলই রবি রবি করছে।আর  যেটা মনে হচ্ছে আমার',চিন্তান্বিত মুখে ডাক্তারবাবু বললেন,'ওষুধের এফেক্টে চোখে একটা ঘুমভাব রয়েছে,সেইজন্য কিছুটা ঝাপসা দেখছে ও,ঠিকমতো চিনতে পারছে না সবাইকে দেখে।'

_________________________

Subscribe my YouTube channel : Suchandra Chakrabarti

_________________________

— 'বাহ,এতো দেখছি শাপে বর গো বাবা!' বলেই হাসিমুখে অভ্র এগিয়ে গেল সাগরিকার দিকে,তারপর ওর কপালে হাত রাখল।

সাগরিকা হেসে বলল,'রবি?রবি এসেছ?'
অভ্র গলাটা একটু পালটে বলল,'হ্যাঁ রে সাগর,তোর রবি কি তোর কাছে না এসে পারে বল্?'

— 'আমায় তোমার কাছে নিয়ে চলো রবি,আমি আমাদের বাড়ি যাব।'

— 'এই তো সাগর,এই যে এখনই বাড়ি যাব আমরা!'

— 'আমরা এখনই যাব?সত্যি রবি?' আনন্দে সাগরিকার চোখদুটো উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

— 'হ্যাঁ রে পাগলী,হ্যাঁ।'

— 'কিন্তু ওকে এখনও কিছুদিন হসপিটালে রাখলে ভালো হয় যে!ও তো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেনি এখনো!' ডাক্তারবাবু বললেন।

— 'না না না,আমি এখানে থাকব না,আমি রবির কাছে যাব!' কাতর স্বরে বলে উঠল সাগরিকা।

— 'আপনি তো দেখছেন ডাক্তারবাবু আমার সাগর আর থাকতে চাইছেনা এখানে,আমি আমার সাগরকে বন্ডে সাইন করে ছাড়িয়ে নিয়ে যাব হসপিটাল থেকে।আমার বাড়িতে তো মা-বাবা আছে,আমি আছি,আমরা সকলে মিলে ওকে দেখাশুনা করব,আপনি চিন্তা করবেন না।'

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ