Advertisement

এনকাউন্টার (চতুর্ত্রিংশ পর্ব)

এনকাউন্টার 
চতুর্ত্রিংশ পর্ব
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 


— 'হ্যাঁ রে,আসলে ওঁর মেয়েকে গ্যাংরেপ করে খুন করা হয়েছিল।ওঁর একমাত্র সন্তান ছিল ওঁর মেয়ে,বাসন্তী বর্মন।মেয়েটি যখন ক্লাস টেনে পড়ত,একদিন টিউশন থেকে ফিরতে রাত হয়ে গিয়েছিল,আর সেই রাতেই একদল বখাটে ছেলে ওকে গ্যাংরেপ করে খুন করে।ঘটনাটা আজ থেকে প্রায় নয়-দশ বছর আগের,খবরের কাগজের প্রথম পাতাতেই বেরিয়েছিল খবরটা,আমার আজও মনে আছে।শোনা যায়,মেয়ের খুনীদের প্রত্যেককে উনি এনকাউন্টার করে শেষ করে দিয়েছিলেন,আর তারপর থেকেই রেপিস্টদের প্রতি ওঁর আলাদাই একটা রাগ আছে,ঘৃণা আছে,আছে এনকাউন্টারের অদম্য ইচ্ছে।আর তাই তো....'

— 'আর তাই তুমি ওপরমহলে কথা বলে ওনাকে রবি যে থানায় আছে সেখানে ট্রান্সফার করার ব্যবস্থা করলে!উরিব্বাবা,তুমি তো দেখছি আমার থেকেও এক কাঠি ওপরে ভাবছ!'

_________________________

একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

_________________________

— 'হ্যাঁ রে পাগল,ওইজন্যই তো তুই ছেলে,আর আমি বাবা।এতে সাপও মরবে,আর লাঠিও ভাঙবে না।আমাদের কিছুই করতে হবে না,যা করার শিবপ্রসাদ বাবুই করবেন,রবি খালাস হবে,আমরাও শান্তিতে ঘুমোতে পারব।এই রবি আর ওর বাপ-মায়ের জন্য টেনশনে আমার রাতে ঘুমই হত না,শেষমেশ কাঁটাটা সরবে রাস্তা থেকে।'

— 'সত্যিই বাবা,আমিও ওর জন্য শান্তিতে বাঁচতে পারছিলাম না এতদিন,এবার শান্তি পাব!'

— 'আর আমি শিবপ্রসাদবাবুকে সবটা বলেছি,যে রবি কিভাবে সাগরিকাকে বিয়ের দিন ভুলিয়ে ভালিয়ে হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে,নৃশংস অত্যাচার চালিয়ে ওকে আধমরা করে ছেড়েছে,এমনকি ওনাকে হসপিটালেও নিয়ে গেছি সাগরিকার অবস্থা দেখানোর জন্য।কি বলব অভ্র,আমি জানিস দেখলাম কিভাবে রাগে ফুঁসছেন উনি সাগরিকার অবস্থা দেখে,রবিকে আর উনি বাঁচতে দেবেন না!আর আমি তো ওইজন্যই বলছি,রাত এগারোটাতেই উকিলবাবুকে ছেড়ে দে,কারণ শিবপ্রসাদবাবু রাগের মাথায় নিজের মনেই বলছিলেন,'যে একটা অসহায় মেয়ের এই অবস্থা করেছে,তাকে আজ রাত দশটা পার করতে দেব না!'

— 'বাবা এখন বাজে আটটা,তার মানে আর দু'ঘন্টা,তারপরেই....'

— 'তারপরেই আমাদের শত্রুটা চিরতরে বিদায় নেবে আমাদের জীবন থেকে।উফ,সেই কবে থেকে তোর পেছনে পড়েছে হাত ধুয়ে!'

— 'এই তোমরা বুঝেশুনে কথা বলো', অভিজিৎবাবুর স্ত্রী তনিমাদেবী এসে বললেন,'রবি জেলে,কিন্তু ওর মা-বাবা তো বাইরে আছে,ওরা চোট পাওয়া বাঘের মতো ক্ষেপে আছে তোমাদের ওপর ভুলে যেও না!আবার কোথা দিয়ে কিসব ক্যামেরা-ট্যামেরা ফিট করবে,তারপর আবার ফাঁসবে তোমরা!'

— 'উফ তনিমা তুমি এত টেনশন করো!' অভিজিৎ বাবু হেসে বললেন,'এখন ওসব করার কথা ওদের মাথাতেই আসবে না,আগে তো ছেলেকে জেল থেকে বের করুক,তারপর না!'

— 'হ্যাঁ মা,তুমি এত চাপ নিও না,লেটস এনজয়!' অভ্র হেসে বলল,'আজ তোমার প্রিয় মাটন বিরিয়ানি অর্ডার করেছি,এই ডেলিভারি বয় এল বলে,এত টেনশন নিও না তো!'

ঘড়ির কাঁটা চলতে লাগল সময়ের স্রোতে ভেসে।ঘন্টার কাঁটা যেই দশ ছুঁল,ওমনি শিবপ্রসাদবাবু রবির সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন,বললেন,'সাগরিকার অবস্থা খুব খারাপ,হয়ত আর বেশিক্ষণ বাঁচবে না,শেষবারের মতো একবার দেখতে চাও ওকে?'

— 'স্যার এসব কি বলছেন আপনি?আমার সাগর এভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে না,আমি এক্ষুণি ওর কাছে যেতে চাই!'

— 'হ্যাঁ আমিও তো সেজন্যই এলাম তোমায় হসপিটালে নিয়ে যেতে,আর দেরি কেন?চলো এখুনি রওনা দেওয়া যাক।' বলেই শিবপ্রসাদবাবু একজন কনস্টেবলকে ডাকলেন লকাপের তালা খুলে দেওয়ার জন্য,তারপর রবিকে জিপে তুলে চললেন কিছু কনস্টেবল সাথে নিয়ে হসপিটালের পথে।

কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই জিপ হসপিটালের রাস্তা ছেড়ে একটা নির্জন রাস্তা ধরল।রবি অবাক হয়ে বলল,'এ কি এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন কেন?এটা তো হসপিটালের রাস্তা নয়!'

_________________________

Subscribe my YouTube channel : Suchandra's Gaming

_________________________

— 'তুমি ভুল করছ রবি',শিবপ্রসাদবাবু বললেন,'এটা হসপিটালে যাওয়ার শর্টকাট রাস্তা,আসলে হাতে বেশি সময় নেই বুঝতেই তো পারছ।' বলেই শিবপ্রসাদবাবু কনস্টেবলদের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসি হাসলেন,কনস্টেবলরাও পালটা হাসি হাসল।
রবি আর কথা বাড়াল না।জিপটা যে রাস্তা ধরেছিল সেই রাস্তাটা আস্তে আস্তে আরও নির্জন আর অন্ধকারারচ্ছন্ন হতে লাগল।রাস্তার চারপাশটা ঢেকে যেতে লাগল জঙ্গলে।এইভাবে প্রায় মিনিট দশেক জিপটা চলার পর হঠাৎ থেমে গেল একটা সরু গলির মুখে এসে।তারপর শিবপ্রসাদবাবু সহ কনস্টেবলরা জিপ থেকে নামলেন,নেমেই রবিকে বললেন,'নেমে এসো রবি।'

— 'স্যার এখানে থামলেন কেন?হসপিটাল তো পৌঁছায়নি এখনো!'

— 'আহ আগে তো তুমি নামো রবি,তারপর বলছি।'
রবি আর কিছু না বলে জিপ থেকে নামল।শিবপ্রসাদবাবু বললেন,'এই যে গলির মুখে জিপটা থামল,এই গলি দিয়ে সোজা হেঁটে গেলেই বড় রাস্তায় উঠবে।তারপর বড় রাস্তায় উঠে ডানদিকে ঘুরে মাত্র দু'মিনিট হাঁটলেই হসপিটাল,বুঝলে?এই সরু গলি দিয়ে তো জিপ যাবে না,তাই তোমায় পায়ে হেঁটেই যেতে হবে গলিটা,কেমন?'

— 'অনেক ধন্যবাদ স্যার।আপনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ থাকব।'

— 'ঠিক আছে ঠিক আছে রবি,আর ধন্যবাদ দিয়ে দেরি করো না,বেশি সময় নেই সাগরিকার হাতে,তুমি যাও।'

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ