Advertisement

এনকাউন্টার (পঞ্চদশ পর্ব)

এনকাউন্টার 
পঞ্চদশ পর্ব
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 


 বাড়ি ফিরেই আর এক দফা অবাক হওয়ার পালা রবির।বাড়িতে ফিরে সে দেখে,অভ্রর বাবা অভিজিৎ বাবু এসেছেন তাঁদের বাড়িতে,আর রবির মা-বাবা বড্ড খাতির করে চা মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন তাঁকে।রবি বাড়িতে ঢুকেই অভিজিৎবাবুকে দেখে যথেষ্ট বিরক্ত হল,কারণ ওর বুঝতে বাকি ছিল না যে অভিজিৎবাবু সবটাই জানেন,মেনকার মেডিকেল রিপোর্ট পালটে দিয়েছেন উনিই টাকার জোরে।এমনকি এটাও রবির বুঝতে বাকি ছিল না যে মেনকাকে সকলের সামনে অভ্র ফ্ল্যাটের মেড বলে পরিচয় দিলেও আসলে সে অভ্রর শয্যাসঙ্গিনী ছাড়া আর কিছুই নয়,এবং এ সমস্ত কিছু অভিজিৎবাবুরও জানা।ছেলেকে শাসন করা দূরে থাক,তিনি প্রশ্রয় দেন শুধুই নিজের গুণধর পুত্রসন্তানটিকে।
 রবিকে দেখেই সূর্যদেববাবু খুশিতে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না,আর চিন্ময়ীদেবী বুকে টেনে নিলেন তাকে,তারপর কান্নায় ভেঙে পড়লেন,রবির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,'আমি জানতাম আমার রবিকে ওরা আটকে রাখতে পারবে না!নির্দোষ মানুষকে কোনো আইনেই আটকে রাখা যায় না!'
 অভিজিৎবাবু সায় দিলেন চিন্ময়ীর কথায়,বললেন,'সত্যিই তো তাই বৌদি,আমাদের রবির মতো হীরের টুকরো ছেলে ক'টা হয় বলুন?'
 রবি বিরক্তিমুখে বলে উঠল,'আপনি এখানে?'
 অভিজিৎবাবু বললেন,'হ্যাঁ রবি,তুমি যে আমার আর একটা ছেলে,তোমার বিপদের দিনে আমি আসব না,তা কি হয়?'
 
_________________________

একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

_________________________

— 'রবি,উনিই তো তোর জামিনের ব্যবস্থা করলেন রে!'সূর্যদেব বাবু খুশিমুখে বললেন।
 
— 'হুম জানি!' রবি রাগীস্বরে বলল।
 
চা টা খাওয়া শেষ করে অভিজিৎবাবু উঠলেন,'বৌদি,আজ উঠি গো আমি।তা রবি বাবা,তোকে ওরা কোনোভাবে অ্যাবিউজ করেনি তো?'
 
রবি বাঁকা হাসি হেসে বলল,'কি যে বলেন আঙ্কেল,আপনি থাকতে,অভ্র থাকতে আমাকে কেউ অ্যাবিউজ করবে,তা কি সম্ভব বলুন?'
অভিজিৎবাবু রবির বাঁকা কথার অর্থ বুঝলেন।তিনিও ঈষৎ হেসে বললেন,'বটেই তো বটেই তো!তা অভ্রর সাথে কথা হয়েছে নিশ্চয়ই তোমার?'

_________________________

Subscribe my YouTube channel : Suchandra's Gaming

_________________________

— 'হ্যাঁ হয়েছে।'

— 'আচ্ছা বেশ খুব ভালো।আমি এলাম তবে সূর্যদেববাবু।' নমস্কার করে অভিজিৎ বাবু বেরিয়ে গেলেন।আর সূর্যদেববাবু আর চিন্ময়ীদেবী অভিজিৎবাবু আর অভ্রর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন।রবি অবাক হয়ে ভাবল,শুধু সাগরিকাই নয়,তার মা বাবার মনে পর্যন্ত থাবা বসিয়েছে অভিজিৎ বাবু আর অভ্রর নিপুণ অভিনয়!একরাশ হতাশা নিয়ে নিজের ঘরে চলে গেল রবি।
 প্রায় একসপ্তাহ পর শহরে ফিরে গেল রবি।যদিও ফিরতে তার এতটুকুও ইচ্ছে করছিল না,তবু মা বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে ফিরতেই হল তাকে।সূর্যদেববাবু আর চিন্ময়ী দেবী তাকে পৌঁছে দিলেন হোস্টেল পর্যন্ত,তারপর তাঁরা ফিরে গেলেন।রবি সেদিন বড্ড ক্লান্ত ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে,তাই ও ভাবল পরের দিন কলেজ যাবে।রবির ঘরে যে দুজন রুমমেট থাকে জয়দীপ আর সোমরাজ ওরা হোস্টেলে নেই।রবি চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়ল ওর বিছানায়।ক্লান্ত শরীরে ঘুম নেমে আসতে বেশিক্ষণ সময় লাগল না।কিন্তু একটু পরেই ফোনের রিংটোন বাজার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল তার।ফোনটা মাথার কাছেই ছিল,ঘুমচোখে উঠে ফোনটা ধরতে গিয়ে দেখে সাগরিকা ফোন করেছে।রবি ফোনটা ধরল।
 
— 'হ্যালো রবিদা?'
 
— 'হ্যাঁ সাগরিকা বল।'
 
— 'রবিদা একটা রিকোয়েস্ট করব তোমায়?রাখবে?'
 
— 'কি রিকোয়েস্ট?'
 
— 'রবিদা,তুমি প্লিজ এই মাস টায় কলেজ এসো না,প্লিজ!'
 
— 'আমি তো কথা দিয়েছিলাম তোকে সাগরিকা,যে তোর সামনে আমি কোনোদিনও যাব না,তারপরও ভরসা করতে পারলি না?' রবি ম্লান হেসে বলল,'এত অবিশ্বাস করিস আমায়?'
 
— 'অবিশ্বাস নয় রবিদা,' সাগরিকা ব্যস্ত হয়ে বলল,'তুমি আমার কথাটা বোঝার চেষ্টা করো,প্লিজ ভুল বুঝোনা আমায়!'
 
— 'হা হা হা!' অট্টহেসে রবি বলল,'যে মানুষকে পৃথিবীর সবাই ভুল বোঝে,তার সাধ্য কি সে অন্য মানুষকে ভুল বোঝে?'
 
— 'রবিদা আমি জানি তুমি কেন এরকম বলছ,কিন্তু প্লিজ রবিদা তুমি এখন কলেজে এসো না।এখানে একটা বড়ো কন্সপিরেসি চলছে তোমার বিরুদ্ধে।তুমি এলে আরও বেশি জলঘোলা হবে রবিদা।'
 
— 'এতদিন তো শহরের বাইরে ছিলাম সাগরিকা,তবুও কি কন্সপিরেসি কিছু কম হয়েছে?আমি কাল কলেজ যাব,যা হয় দেখা যাবে।তুই এত চিন্তা করিস না সাগরিকা।'
 
— 'অভিমান করেছ রবিদা?'
 
— 'অভিমান?'আবারও একদফা হাসে রবি,'রেপিস্ট,মলেস্টরের আবার অভিমান করা সাজে নাকি?'
 
— 'রবিদা প্লিজ!' সাগরিকা ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
 
— 'তুই ভাবিস না সাগরিকা,আমি কাল কলেজে যাব।কতদিন এভাবে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াব রে?যুদ্ধের মাঠে যে নামতেই হবে আমায়।এখন রাখি।'

— 'হ্যালো রবিদা হ্যালো হ্যালো....'
 
রবি ততক্ষণে ফোন রেখে দিয়েছে।যে সাগরিকা কয়েক সপ্তাহ আগেই তাকে যাচ্ছেতাই ভাবে অপমান করল,সে আজ ওকে ফোন করে কলেজ আসতে বারণ করছে।এটা অভ্ররই আরেক চাল বলে মনে হল রবির।হয়তো সাগরিকাকে দিয়ে তাকে কলেজে আসা থেকে আটকাতে চায় অভ্র,চায় রবি পড়াশোনা থেকে অনেক দূরে সরে যাক।হাতে না মেরে এবার ভাতে মারার চেষ্টায় নেমেছে হয়তো অভ্র।
  পরেরদিন সকালে রেডি হয়ে কলেজের পথে পা বাড়ায় রবি।কিন্তু কলেজে গিয়েই রবি হতবাক।সে দেখে কলেজের গেটে একদল ছাত্রছাত্রী দাঁড়িয়ে আছে,তাদের কারোর হাতে কালো পতাকা,কারোর হাতে প্ল্যাকার্ড।কোনো প্ল্যাকার্ডে লেখা,'রবি মিত্র গো ব্যাক!' কোনো প্ল্যাকার্ডে লেখা,'রেপিস্ট,মলেস্টার রবি মিত্রকে এই কলেজে মানায় না,অবিলম্বে তাকে বের করে দেওয়া হোক এই কলেজ থেকে।'কেউ কেউ লিখেছে,'নারীভক্ষক রবি মিত্রকে রাস্টিকেট করে দেওয়া হোক,যাতে এই অমানুষটা আর কোনো মেয়ের সর্বনাশ না করতে পারে।'

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ