লেখাদুটি
প্রিয় পাঠক পাঠিকা, আপনাদের জন্য রইল ভিন্ন স্বাদের দুটি লেখা, পড়ে অবশ্যই জানাবেন যে কেমন লাগল।
১)
জবাবদিহি
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
— 'ওই মেয়েটাকে তোর পাশে মানাবে না, ওকে বিয়ে করলে লোকে কি বলবে!'
— 'তুই তোর থেকে কম মাইনের চাকরি করা ছেলেকে বিয়ে করবি! ছি ছি,পাড়াশুদ্ধু লোক যে নিন্দে করবে!'
— 'সায়েন্স নিয়ে পড়ে এত ভালো রেজাল্ট করলি উচ্চমাধ্যমিকে, তুই কিনা বাংলায় অনার্স নিবি? আত্মীয়স্বজনদের মুখ দেখাব কি করে!'
— 'মেয়ে হয়ে রাত দশটায় বাড়ি ফেরার চাকরি করবি? ওরে, তোকে দেখে সবাই যে হাসবে, খারাপ কথা বলবে!'
— 'জানো, আমার বেডরুমে একটা বড়ো আয়না আছে, সেই আয়নার ওপারের মানুষটি সবচেয়ে আপন আমার কাছে। প্রতি রাতে সেই মানুষটার কাছে জবাবদিহি করতে হয় আমায়। আজ যদি লোকের কথা মতো চলতে গিয়ে সেই মানুষটির যাবতীয় ইচ্ছে পায়ে মাড়িয়ে চলে যেতে হয়, আর সেই মানুষটা আমায় প্রশ্ন করে যে 'আমার কি সুখী হওয়ার কোনো অধিকার নেই?', তখন আমি কি জবাব দেব তাকে, বলতে পারো!'
২)
কালবৈশাখী
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
ওই দেখো ওই দূর আকাশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে
কালো মেঘের মেলা, আলোকিত বিকেলেই নেমে এল এক গাঢ় সন্ধ্যে,
ওই যে আসছে ছুটে পাগল ঝোড়ো হাওয়া,
ঠিক যেন বিরহী প্রেমিক, মন যেন তার অভিমানী প্রেমিকার স্মৃতিতে নাওয়া!
গর্জন করে মেঘ, ডাকছে বুঝি তার প্রিয়তমাকে, নাম যার বৃষ্টি,
কিন্তু প্রেমিকারা বড় অভিমানী হয়! আরও বেশ কিছুবার হাঁকডাক করতেই মেঘ, এল সে সেজে ভারী মিষ্টি,
গাছগাছালি মাঠঘাট হল চকচকে সবুজ,ঠিক যেন আয়না,
'আমাকে দাও না মা বৃষ্টিতে ভিজতে!' বাড়ির খোকাখুকুরা ধরেছে অমনি বায়না,
ঠান্ডা বাতাস এসে জুড়িয়ে দিচ্ছিল সকলের মনপ্রাণ, পরিবেশ ছিল কি অপরূপ শান্ত,
জানলার ধারে আনমনা চোখে মনমরা মেয়েটি বসে ভাবছিল, 'প্রকৃতি-নারীর প্রেমিকের মতো আমার মানুষটাও যদি আমার মনের কথা জানত!'
ঘরে ঘরে আজ লুচির গন্ধ, এসেছে যে কালবৈশাখী,
তীব্র দাবদাহে হয়েছিল ক্লান্ত যে শরীরগুলো, আজ তাদের মনেও গুনগুনিয়ে গাইছে গান হাসিখুশি মন পাখি।
0 মন্তব্যসমূহ