Advertisement

দুটো ঝগড়ুটের গল্প

দুটো ঝগড়ুটের গল্প
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী



জীবনে অনেক দ্বন্দ্ব দেখেছি, কিন্তু এদের ঝগড়ার কাছে সব যেন ফানুস হয়ে কোন্ দিকে উড়ে যায়। ঝগড়ায় এদের জুড়ি মেলা ভার।হ্যাঁ, জানতে ইচ্ছা করছে সবার যে এই বিখ্যাত ব্যক্তিরা কারা তাই তো? এরা হল শরীর আর মন। মনটার কত উৎসাহ, আজ এখানে যাব, কাল ওখানে যাব, আজ এতগুলো ফুচকা খাবো, কাল অমুক রেস্টুরেন্ট কাটলেট খাবো। 


_________________________

একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

_________________________


আর শরীর খালি চোখ রাঙায়, ব্ল্যাকমেল করে, কিরে আগের বারের কথা একেবারেই ভুলে গেছিস বুঝি? ব্যস, মনও অমনি গুটিয়ে গেল। তো সেইজন্যেই এতদিন শরীরের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল মনটার ওপর, কিন্তু ইদানীং সে বড়ো বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে, শরীরকে আর সে মানবে না। অনেক হল। কিন্তু শরীরটাও কম ষড়যন্ত্রকারী নয়, সেও উঠেপড়ে লেগেছে, মনকে হারাতেই হবে, নয়তো যে আর মান থাকে না! তাই জীবনে প্রথম সাগরদর্শনের সময়টাকেই মোক্ষম সময় ভেবে নিল মনের ওপর আঘাত হানার, নাক-গলা-বুক চেপে বসার জন্য নিজের চিরসখা সর্দিকাশি-ঠান্ডাকে রীতিমতো শাঁখ বাজিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে এনেছে, মনের আত্মবিশ্বাস সে ভাঙতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ! 



কিন্তু ও ভুলে গেছে সারাজীবন কেউই পড়ে পড়ে মার খায়না! মনেরও তাই হয়েছে। তাই সব অসুস্থতাকে পায়ে পিষে ও এগোবে আজ, ওই বিশাল নীলের দিকে, আর তার লক্ষ্য থাকবে ওই সীমারেখায়, যেখানে অনন্ত দুই নীল মিশেছে সমস্ত সীমা ভুলে, ওই সীমাহীন নীলের বিষে তার চিরশত্রুর বিষকে উপড়ে ফেলবে এটুকুই যে তার আশা।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ