Advertisement

এনকাউন্টার (ত্রয়োদশ পর্ব)

এনকাউন্টার 
ত্রয়োদশ পর্ব
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 


 বেশ কয়েকটা দিন রবি বাড়িতেই থাকবে ঠিক করেছে,তারপর নিজেকে একটু সামলে নিয়ে আবার ফিরবে চেনা ছন্দে।সেদিন দুপুরে খেয়ে ওঠার পর রবি চিন্ময়ীর কোলে শুয়েছিল,আর চিন্ময়ী রবির কপালে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন।রবি বলল,'বাড়িতে এলে আর শহরে ফিরতে ইচ্ছে হয় না মা।আচ্ছা মা,আমি যদি আর কখনো শহরে না ফিরি?যদি তোমার কোলেই এভাবে মাথা রেখে শুয়ে থাকি?বড়ো শান্তি পাই মা তোমার কোলে।'
 — 'সেকথা বললে কি হয় বাবা?আমার আর তোর বাবার যে বড়ো আশা,তুই জীবনে বড়ো হবি,তারপর একটা বাড়ি বানাবি,তারপর সেই বাড়িতে তুই,আমি,তোর বাবা থাকব,আর তুই মায়ের আদর খাবি তখন শুধুই।কেমন বাবা?'
 — 'হ্যাঁ মা,আমিও যে সেই স্বপ্নটা দেখি,তোমাদের ভালো রাখব ভবিষ্যতে এটুকুই তো চাওয়া আমার।'
 হঠাৎই দরজায় কলিং বেলে শব্দ।রবির বাবা বললেন,'কি গো,দরজাটা খোলো না!'
 — 'উফ,কতদিন পর ছেলেটা আমার শুয়েছে আমার কোলে,আমি এখন একদম উঠব না,স্বয়ং ভগবান এলেও না!তুমিই খোলো গে যাও!'
 — 'হ্যাঁ সেই ভালো,সদ্যজাত শিশুটাকে কোলে নিয়ে বসে থাকো!'

_________________________

একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

_________________________

 — 'মায়ের কাছে সন্তান চিরকাল শিশুই থাকে বুঝলে!যাও আর রসিকতা কোরো না তো,দরজাটা খোলো যাও!'
 — 'এই যে যাই!'
 সূর্যদেব বাবু দরজাটা খুললেন।খুলতেই তিনি দেখেন পুলিশ এসেছে।বিস্মিত সূর্যদেব বাবু প্রশ্ন করলেন,'কাকে চাই?'
 — 'রবি মিত্র কে আছেন বাড়িতে?'
 — 'আমার ছেলে।কিন্তু তাকে কি দরকার আপনাদের?'
 — 'দরকারটা যার সাথে,তার সাথেই না হয় বুঝে নিতে দিন।রত্ন ছেলের জন্ম দিয়েছেন বটে আপনি!যাই হোক,ছেলেকে ডেকে দিন।'
 সূর্যদেব বাবুর ডাকে রবি আর চিন্ময়ী দুজনেই বাইরে আসেন।তাকে দেখেই পুলিশদের মধ্যে যিনি ও.সি.,তিনি এগিয়ে এসে বললেন,'আপনার বিরুদ্ধে রেপ আর মলেস্টেশনের অভিযোগ এসেছে মিস্টার রবি মিত্র,থানায় যেতে হবে আপনাকে।'
— 'কি যাতা বলছেন টা কি আপনি?আমার রবি এমন কাজ কক্ষনো করতে পারে না!' চিন্ময়ী গর্জে উঠলেন।
— 'হ্যাঁ স্যার একদমই তাই,আপনাদের কোথাও একটা ভুল হচ্ছে।আমার রবি এরকম কাজ করতে পারে না!পুলিশ বলে কি যাকে যখন ইচ্ছে যা খুশি অপবাদ দিয়ে থানায় নিয়ে যাবেন নাকি?' সূর্যদেব বাবু বলে উঠলেন।
— 'শুনুন সব অপরাধীর মা বাবারাই ওরকম বলে থাকে,আর আমরা এমনি এমনি কেন আসতে যাব আপনাদের বাড়ি?অভিযোগ পেয়েছি তাই এসেছি,অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট আছে আমাদের কাছে।'
— 'ঠিক আছে ঠিক আছে,' রবি এগিয়ে এসে হতাশ গলায় বলল,'আপনারা কি চান?আমি এখন থানায় যাব তাই তো?বেশ চলুন।শুধু এটুকু বলুন আমার নামে অভিযোগটা করল কে?'

_________________________

Subscribe my YouTube channel : Suchandra's Gaming

_________________________

— 'রেপের অভিযোগ করেছেন মিসেস মেনকা দেবনাথ,আর মলেস্টের অভিযোগ করেছেন তিনজন,লাবণ্য ঘোষাল,মুস্কান চোপড়া আর শর্বরী পাল দাস।'
— 'বেশ বেশ,আর কিছু আপনাকে বলতে হবে না,সবটা আমি বুঝতে পেরেছি,চলুন থানায় যাচ্ছি আমি আপনাদের সাথে,হাতকড়াটা পরাবেন না প্লিজ।'
রবি আর কথা বাড়াতে চাইল না,কারণ সে জানে প্রমাণের প্রশ্ন উঠলেই নোংরা স্ক্রিনশটটা ওরা দেখাবে ওর মা বাবাকে,আর এই অসভ্যতার মধ্যে মা-বাবাকে কিছুতেই জড়াতে চায় না রবি।
— 'চলুন।' 
রবি পুলিশের গাড়িতে গিয়ে বসল।অফিসারও কনস্টেবলসহ উঠলেন গাড়িতে।গাড়িটা একরাশ কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে চলে গেল।
চিন্ময়ী কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে বসে পড়লেন,বললেন,'কোন্ হতভাগিনীগুলো আমার অমন সরল ছেলেটাকে ফাঁসালো গো?কি ক্ষতি করেছিল আমার সাধাসিধে ছেলেটা ওদের?'
— 'আমিও তো তাই ভাবছি চিন্ময়ী,' সূর্যদেব বাবু অবাক গলায় বললেন,'ওর ওপর কোন্ রাগের বদলা নিচ্ছে মেয়েগুলো?'
 অন্যদিকে রবি গাড়িতে যেতে যেতে ভাবছিল,মানুষ আর কতটা নীচে নামতে পারে?এসব অভ্ররই কাজ তা জানতে রবির বাকি ছিল না,আর মলেস্টের অভিযোগ করেছে যারা,তিনজনই রবির ক্লাসমেট।ওরা রবিকে কারণে অকারণে কত অপমানই না করেছে,গেঁয়ো,আনস্মার্ট,আনকালচার্ড,গুড ফর নাথিং আরও কত কি তকমা জুটেছে তার।রবি কখনোই প্রত্যুত্তরে একটাও কড়া কথা বলেনি,অথচ ওরা মলেস্টেশনের অভিযোগ খাড়া করল!
 ভেবেই হাসি পায় রবির।ও ও.সি. কে প্রশ্ন করে,'স্যার,তা আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ কি দিয়েছেন মেনকা দেবনাথ?ওই ভিডিওর স্ক্রিনশটটা তো?'
— 'হ্যাঁ,এছাড়াও ওনার মেডিকেল টেস্টও হয়েছে যেখানে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে সেই রাতে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে।'
— 'বুঝলাম।তা শুধু স্ক্রিনশটটাই প্রমাণ হল?আপনি গোটা ভিডিওটা চাইলেন না মেনকা দেবনাথের কাছে?'
— 'কি আর করব বলুন,হাজার হোক উনি একজন মহিলা,গোটা ভিডিওটা দেখাতে ওনার লজ্জা লেগেছে,সবাই তো আর আপনার মতো বেহায়া হয় না বলুন।'
— 'হ্যাঁ সেই তো!' আরেক দফা হাসল রবি,ভাবল টাকা দিয়ে এই পৃথিবীতে কোনো কিছুই ঘটানো অসম্ভব নয়।নির্দোষকে ফাঁসানো,মেডিকেল রিপোর্ট পালটে দেওয়া সব সম্ভব।
লকাপে ঢোকানো হল রবিকে।রবি কাঁদতে ভুলে গেছে,সবটাই হাসিমুখে মেনে নিচ্ছে ও।কেমন যেন কাঠের পুতুল হয়ে গেছে ও,চুপচাপ লকাপের ভেতর বসে আছে এক কোণে।
হঠাৎই থানার ল্যান্ডফোনটা বেজে উঠল।ও.সি. ফোনটা ধরলেন,কিছুক্ষণ কথা বললেন।তারপর একজন কনস্টেবলকে ডেকে বললেন,'রবি মিত্রকে লকাপ থেকে বাইরে আনুন।'
লকাপের দরজাটা খুলে একজন কনস্টেবল ডাকল,'বেরিয়ে আসুন।'

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ