Advertisement

এনকাউন্টার (একাদশ পর্ব)

এনকাউন্টার 
একাদশ পর্ব
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 


রবির জ্ঞান ফিরল হোস্টেলে ও যে ঘরটায় থাকে সেই ঘরে।জ্ঞান ফিরে দেখে তার মাথার কাছে জয়দীপ বসে আছে।জয়দীপ রবিদের জুনিয়র,রবির রুমমেট।চোখ খুলেই রবি ঝেড়েমেড়ে উঠে বসে বিছানায়।

— 'যাক রবিদা তোমার সেন্স এসেছে,খুব নিশ্চিন্ত হলাম।যা চিন্তায় ফেলেছিলে না উফ!'
রবি কিছু বুঝতে পারে না।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সকাল ন'টা বাজছে।গতকাল বিকেলে ও অভ্রর বাড়ি গিয়েছিল,তারপর মেনকা তাকে পাশের ঘরে নিয়ে গিয়েছিল,জল খাচ্ছিল রবি,মেনকা অভ্রর কীর্তিকলাপ বলছিল সব।তারপরেই মাথাটা কেমন ধরেছিল রবির,চোখটা বন্ধ করেছিল ও,তারপর থেকেই আর কিছু মনে পড়ছে না রবির।অবাকদৃষ্টিতে ও প্রশ্ন করে, 'জয়,কি হয়েছিল রে আমার?'

_________________________

একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

_________________________


— 'আর কি হয়েছিল!রবিদা তুমি যে ড্রিঙ্ক করো তা কোনোদিনও ভাবিনি,কিন্তু গতকাল নিজের চোখে দেখার পর বিশ্বাস করতে বাধ্য হলাম!'

— 'মানে?কি বলছিস কি তুই জয়!'

— 'কাল রাত তখন প্রায় সাড়ে আটটা হবে।অভ্রদা আর প্রীতমদা তোমায় অনেক কষ্টে এই ঘরে পৌঁছে দিয়ে গেল।তোমার তো হুঁশই ছিল না,জামা থেকেও মদের গন্ধ পাচ্ছিলাম আমি।ওরাই বলল,যে গতকাল নাকি অভ্রদাদের বাড়িতে গিয়ে তুমি বেশি ড্রিঙ্ক করে ফেলেছ,তাই জন্যই এই অবস্থা!ভাগ্যিস ওয়ার্ডার স্যারের নজরে পড়োনি তুমি,তাহলেই আর রক্ষে ছিল না!'

— 'এসব কি বলছিস টা কি?আমি ড্রিঙ্ক করিনি তো কাল!কোনোদিনই করিনি।'

— 'আমিও অবাক হয়েছিলাম সেজন্যই রবিদা,ভাবলাম এ কোন্ রবিদাকে দেখছি!'
রবির মাথায় সবটা জট পাকিয়ে যায়।তাড়াতাড়ি উঠে ফোনটা খুঁজতে থাকে ও,ওতেই যে সব প্রমাণ আছে!

— 'ফোনটা তোমার পড়ার টেবিলে আছে রবিদা।' জয় বলে ওঠে।
রবি ভাবে,আর দেরি করা ঠিক হবে না একদম।যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাগরিকাকে সবটা জানাতে হবে।তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়েই ব্যাগ পিঠে বেরিয়ে পড়ল রবি কলেজের উদ্দেশ্যে।কলেজে ঢোকার মুখেই দেখা হয়ে গেল সাগরিকার সাথে।তাকে ডেকে রবি বলল, 'তোর সাথে কিছু কথা ছিল।'
সাগরিকা তাকাল রবির দিকে।কিন্তু সাগরিকার মুখটা দেখে যথেষ্ট অবাক হল রবি,তার মুখটা যথেষ্ট গম্ভীর,থমথমে।এতটুকুও হাসল না সে রবিকে দেখে অন্যদিনের মতো।
রবি প্রশ্ন করল,'আজ কিছু হয়েছে রে তোর?'

_________________________

Subscribe my YouTube channel : Suchandra's Gaming

_________________________

— 'না,তেমন কিছু না।তুমি যেটা বলতে এসেছিলে বলো।'
রবি বলল,'সাগরিকা,তোকে আমি যেটা বলব সেটা শুনলে তুই কষ্ট পাবি,কিন্তু আমার না বলে উপায় নেই,তোর ভালোর জন্যই বলতে হবে সব।'

— 'এত হেজিটেট কেন করছ রবিদা?যা বলার বলো না।'

— 'না রে,আমার মুখের কথা তুই বিশ্বাস করবিনা,তোকে কয়েকটা জিনিস দেখাতে চাই আমি।'

— 'বেশ দেখাও।' ভাবলেশহীন মুখে বলল সাগরিকা।

রবি তাড়াতাড়ি মোবাইলের গ্যালারিটা খুলল,তারপর ছবি, ভিডিওগুলো খুঁজতে লাগল।কিন্তু অবাক হয়ে রবি দেখে,কোনো ছবি ভিডিও কিচ্ছু নেই যেগুলো কাল অভ্রর ফ্ল্যাটে তুলেছিল।ব্যস্ত হয়ে অন্য ফোল্ডার গুলো খুঁজতে লাগল রবি,কিন্তু কোত্থাও কিচ্ছু পেল না,ভিডিও আর ছবিগুলো যেন বেমালুম উধাও হয়ে গেছে মোবাইল থেকে।

— 'কি হল রবিদা,যেগুলো দেখাবে বলছিলে দেখাও!'

রবি সাগরিকার কথার কি উত্তর দেবে বুঝতে পারে না।তাড়াতাড়ি ও রেকর্ডেড অডিও ফোল্ডারটা খোলে,ওখানেই তো মেনকার যে কথাগুলো ও রেকর্ড করেছিল সেই অডিওটা থাকার কথা।ফোল্ডারটা খুলেই অডিওটা দেখতে পেল ও।এতক্ষণে রবি হাঁপ ছেড়ে বাঁচল,অন্তত একটা প্রমাণ তো ও দিতে পারবে সাগরিকাকে।

— 'সাগরিকা,এটা শোন।' বলেই অডিওটা চালাল রবি।

অডিও চলতে লাগল।অডিওতে শোনা যাচ্ছে মেনকার গলা।মেনকা বলছে,'এতদিন আমি সাহস পাইনি কথাগুলো বলার,কিন্তু আজ বলব।আজ সবটা সত্যি কথা আমি খুলে বলব।রবি ছেলেটা ভালোমানুষের মুখোশ পরে থাকে,কিন্তু আসলে ও অত্যন্ত নীচ অসভ্য ইতর একটা ছেলে।'
এই পর্যন্ত শুনেই রবি বাকরুদ্ধ হয়ে গেল।গতকাল যে কথাগুলো ও রেকর্ড করেছিল,সেখানে তো মেনকা অভ্রর সব গোপন অন্যায়গুলো ফাঁস করেছিল,তাহলে অডিওতে এসব কি শোনাচ্ছে?
রবি তাড়াতাড়ি অডিওটা অফ করতে গেল,কিন্তু সাগরিকা বাধা দিল,'রবিদা,একদম অফ করবে না ওটা।পুরোটা শুনতে দাও আমায়।এটা আমায় শোনাবে বলেই তো ডাকলে তাই না?'

— 'না মানে আমি....আমি কিছু বুঝতে পারছি না এসব কি করে...'

— 'দাঁড়াও রবিদা,আমায় পুরো অডিওটা শুনতে দাও,তার পরেই না হয় আমি তোমার কথা শুনব।'
রবি চুপ করে রইল,সাগরিকাও।অডিওতে মেনকা বলে যেতে লাগল,'রবি সবার সামনে সভ্য ভদ্র ছেলে সেজে ঘুরে বেড়ায়,আসলে ও একটা লম্পট।বাচ্চা মেয়ে থেকে শুরু করে মায়ের বয়সী মহিলা সবার দিকে ও নোংরা নজর দেয়।জানো অভ্র বাবা,তোমার ফ্ল্যাটে আগে যে কাজ করত হেনা,ওকে আমি খুব ভালোভাবেই চিনি,একই জায়গায় বাড়ি তো।রবি ওকে রেপ করেছে,ওর মেয়েটাকেও মলেস্ট করেছে,তারপর ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করেছে অসহায় মেয়েটাকে দিনের পর দিন হুমকি দিয়ে।এখন আমার ওপরেও দিনের পর দিন অত্যাচার করে,মুখ খুললে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।'

— 'এসব কি বলছ তুমি মাসি?রবিকে আমি অনেক ছোটবেলা থেকে চিনি,ও এমন নয়,এমন কাজ ও করতেই পারে না!'

— 'জানি বাবা,আমি জানি যে তুমি বিশ্বাস করবে না,তাই আমি প্রমাণও এনেছি।'

— 'প্রমাণ?কি প্রমাণ মাসি?'

এগুলো দেখো বাবা।কাল রাতে রবি ওসব ছাইপাস গিলে যখন আমার কাছে এসেছিল,আমি কায়দা করে আমার মোবাইলটা বিছানার কাছের টেবিলটায় এমন করে রেখেছিলাম যাতে সবটার ছবি ওঠে।'
এরপর অডিওটা থেমে গেল।সাগরিকা বলতে শুরু করল, 'এই অডিওটা অভ্র রেকর্ড করেছে,আর যে ভিডিওটা মেনকামাসি অভ্রকে প্রমাণ হিসেবে দিয়েছে,সেই ভিডিওটার একটা স্ক্রিনশট অভ্র আমার মোবাইলে আজ সকালে পাঠিয়েছে,গোটা ভিডিওটা আমায় সেন্ড করতে ওর বেধেছে,তাই ভিডিওর একটা স্ক্রিনশট আমায় পাঠিয়েছে।এই দেখো সেই স্ক্রিনশটটা',বলেই নিজের মোবাইলের গ্যালারি খুলে স্ক্রিনশটটা বের করে রবিকে দেখাল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ