Advertisement

এনকাউন্টার (চতুর্দশ পর্ব)

এনকাউন্টার 
চতুর্দশ পর্ব
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 


রবি কাঠের পুতুলের মতোই ভাবলেশহীন মুখে বেরিয়ে এল।ও.সি. বিদ্রুপের সুরে বলল,'গভীর জলের মাছ আপনি,আপনাকে কি আর ধরে রাখতে পারি বলুন মিস্টার রবি?'

— 'কেন স্যার কি হয়েছে?'

— 'আহা রে আমার কচি খোকাটা,কিচ্ছু জানেন না বলুন!উপরমহল থেকে ফোন এসেছিল,বলা হল আপনাকে ছেড়ে দিতে,তাই ছেড়ে দিতে বাধ্য হলাম।যান এবার,বাড়িতে গিয়ে আরাম আয়েস করুন গে!কিন্তু আবার যদি কোনো অভিযোগ আসে আপনার বিরুদ্ধে,পুলিশের মার কাকে বলে হাড়ে হাড়ে টের পাইয়ে তবে ছাড়ব!'
রবি শুধু হাসল,কিছু বলল না।থানা থেকে হতাশ মুখে বেরিয়ে এল ও।কিন্তু থানা থেকে বেরিয়েই ও হতবাক।অভ্র দাঁড়িয়ে আছে ওর সামনে।একমুখ ক্রূর হেসে অভ্র বলল,'কি ব্রো,কেমন লাগল গেমটা?'

_________________________

একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

_________________________

— 'গেমটা আমার কেমন লেগেছে সেই উত্তর না হয় পরে দিই।আগে বলি যে,গেমটা যে তোরই তৈরি সেটা বুঝতে আমার এক সেকেন্ডও লাগেনি,কারণ পচা দুর্গন্ধ তো নর্দমা থেকেই আসে তাই না অভ্র?'
 অভ্র রেগে গেলেও রাগটা সামলে বাঁকা হাসল,'তুই তো বুদ্ধিমান ছেলে,তুই যে বুঝবি সে আমি জানতাম।তবে জেল থেকে কিন্তু আমিই বের করলাম বাবাকে বলে,নইলে তুই লকাপেই থাকতিস।'
 
— 'আমাকে জেলে ঢুকিয়েছিস ও তো তুই অভ্র!'
 
— 'হ্যাঁ তাই।আমাকে কেন ফলো করতিস রোজ রোজ?সাপের লেজে পা দিলে ছোবল যে খেতেই হবে!'
 
— 'অভ্র আমি তোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আর কোনোদিন মাথা ঘামাব না,তুই যা ইচ্ছে কর!কিন্তু প্লিজ সাগরিকাকে ছেড়ে দে,ওর কি দোষ বল?ওর জীবনটা কেন নষ্ট করছিস?'
 
— 'এ বাবা সাগরিকাকে এখন ছাড়ব কি করে?ওর সাথে যে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে,সাগরিকা আর আমাদের বাড়ি দুই বাড়ি থেকেই সম্পর্কটা মেনে নিয়েছে,সাগরিকার মামা চান সাগরিকার ফার্স্ট ইয়ার পরীক্ষাটা হওয়ার পরেই আমাদের বিয়ে হবে!'
 
— 'প্লিজ অভ্র!' রবি হাতজোড় করে,'প্লিজ ওর জীবনটা নষ্ট করিস না।তুই লাবণ্য,মুস্কান,টিয়া,শর্বরী এদের মধ্যে কাউকে বিয়ে কর না যারা তোরই মতো!সাগরিকার মতো ভালো মেয়েটার পিছনে কেন পড়েছিস?'
 
— 'ধুস,কি যে বলিস তুই মাইরি!লাবণ্য-মুস্কানদের সাথে এনজয় করা যায়,কিন্তু বিয়ে?ওদের কারোর স্ট্যাটাসের সাথে আমাদের বাড়ির স্ট্যাটাস ম্যাচ করে?নাকি ওরা সাগরিকার মতো সুন্দরী?আমাদের ফ্যামিলি তোদের মতো ভিখারি নয় ওকে,একটা মানসম্মান আছে বাবার।তাছাড়াও সাগরিকার মতো সুন্দরী,বড়ো ঘরের মেয়েকে অভিজিৎ চৌধুরীর ছেলের পাশেই মানায়,কোনো পুওর টিউশন মাস্টারের গেঁয়ো ছেলের পাশে নয়!'
 
— 'খবরদার অভ্র!' অভ্রর কলার টেনে ধরে রবি,'আমাকে অপমান করেছিস,মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিস আমার সম্মান,সাগরিকার সামনেও আমায় অপরাধী প্রমাণ করেছিস,কিচ্ছু বলিনি আমি,সব মেনে নিয়েছি।কিন্তু বাবার সম্বন্ধে একটা বাজে কথা বললে তোকে আমি ছাড়ব না!'
 
— 'কলারটা ছাড় রবি,নইলে তোর বাবাকেও আমি তোর মতো জেলে নিয়ে আসব টেনে হিঁচড়ে!' বলে অভ্র কলারটা ছাড়িয়ে নিল।
 
_________________________

Subscribe my YouTube channel : Suchandra's Gaming

_________________________

— 'অভ্র আর কতটা নির্লজ্জ হবি তুই?আয়নার দিকে তাকাতে পারিস?এতটুকু লজ্জা করে না?'
 
— 'না বস!প্রবাদে আছে,লজ্জা ঘৃণা ভয়,তিন থাকতে নয়!' বলেই হাসতে থাকে অভ্র।
 
— 'যে রাতে হেনাদির বাড়ি যেতে বলেছিলাম তোকে আমার সঙ্গে,সেদিন কফির সাথে কিছু মিশিয়ে দিয়েছিলি তুই তাই না?'
 
— 'হ্যাঁ বস,শুধু সেই রাতে না,যে বিকেলে আমাকে আর লাবণ্যকে ফলো করে তুই আমার বেডরুম পর্যন্ত এসে গিয়েছিলি সেদিন মেনকা মাসি যে জলটা দিয়েছিল তোকে,সেই জলটাতেও কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিল,তারপর সেই বিকেলে ঘুমিয়ে পড়লি যখন তুই,তখন তোর জামায়,মুখে মদ ছিটিয়ে দিয়েছিলাম,যাতে সবাই মদের গন্ধটা পায়।তারপর তুই ঘুমিয়ে পড়ার পর তোর মোবাইল থেকে সব ছবি,ভিডিও ডিলিট করেছি আমি,তারপর অডিওটা ডিলিট করি,তারপর তোর ফোনেই মেনকামাসির কথাগুলো রেকর্ড করি,যাতে নিজের পায়েই নিজে কুড়ুল মারতে সুবিধা হয় তোর!'
 
— 'সেদিন লাবণ্যর তোর কাছে এসে পড়া বুঝতে চাওয়াটা তাহলে...'
 
— 'ইয়েস ব্রো,ওটা ট্র‍্যাপ ছিল,নইলে লাবণ্য খামোকা তোর সামনেই আমাকে কেন পড়া বোঝার কথা বলতে আসবে?'
 
— 'হ্যাঁ সেই,যেমন তুই,তেমন তোর বন্ধুবান্ধবরা!'
 
— 'একদমই,তোর সাথে আমার যুদ্ধে ওরাই তো আমার সেনাপতি!'
 
— 'তাহলে লড়াইটা এবার মুখোমুখি হোক!শুধু এটা জেনে রাখ যে সাগরের সাথে তোর বিয়ে আমি হতে দেব না!'
 
— 'ওকে!আমিও চ্যালেঞ্জ দিলাম,রবি মিত্রকে দেবদাস বানিয়েই ছাড়ব,নইলে আমার নামও অভ্র শিকদার নয়।তোকে এইজন্যই তো জেল থেকে ছাড়ালাম,কারণ আমি কাপুরুষের মতো যুদ্ধে জিততে চাই না।নিরস্ত্র যোদ্ধার সাথে যুদ্ধে জিতে মজা নেই,যুদ্ধে আমি তার সাথেই জিততে চাই যার হাতে অস্ত্র আছে!'
 
— 'তুই যে কাপুরুষ সেটা তো সেই রাতেই প্রমাণ হয়ে গেছে যে রাতে তুই সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে হেনাদির উপর অত্যাচার চালিয়েছিস!'

— 'সেটা তো তুই আর তোর হেনাদি জানে,কিন্তু সমাজ জানে হেনাদির উপর তুই অত্যাচার করেছিস,আমি আটকাতে গিয়েছিলাম বলে তুই আমার গায়ে হাত তুলেছিস!এখন জেলের স্ট্যাম্পটাও গায়ে লেগে গেল,হোঃ!'

— 'সে তুই যাই বলিস,সাগরকে আমি তোর হাত থেকে বাঁচাবোই!'
 পথ আলাদা হয়ে গেল দুই বন্ধুর।উলটো রাস্তায় হেঁটে চলল তারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ