Advertisement

এক জ্যৈষ্ঠের দুপুরে

এক জ্যৈষ্ঠের দুপুরে
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী



জ্যৈষ্ঠ মানে কি শুধুই ওই কাঠফাটা রোদ্দুর,
পায়ের তলা পুড়িয়ে দেওয়া গরম রাঙা কয়লার মত উঠোন,
নাকি শরীরের সমস্ত জল নিংড়ে নিয়ে মরুভূমি বানিয়ে দেয় যে ঘাম,
তার শেষটুকুও শুষে নেওয়া?
শুধুই কি এইটুকু?
মেঘকুমারী, জানি এ অন্যায় দাবি, কিন্তু কি করব বলো,
এ তৃষ্ণা যে আর কেউ মেটাতে পারবে না,
খুলে ফেল তোমার ওই শুভ্র আবরণ,
মেলে ধরো তোমার ওই কালচে ওড়নাখানি,
ঢেকে দাও ওই চোখ ঝলসানো নীল আকাশকে
— দুটি পায়ে পড়ি তোমার।
কি বললে? আমি স্বার্থপর? হ্যাঁ, ঠিকই।

_________________________

একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

_________________________

তোমার ওই পোশাকে সকলে ভয় পায়, তাও পরতে বললাম তাই?
না, ওই ঝাপসা পোশাকে তোমার আভিজাত্য নষ্ট হয়?
কিন্তু হে অহংকারী মেঘকন্যা, এত রূপের গরব নাই বা করলে,
তোমার ওই রূপ যে চোখে বিঁধছে কাঁটার মতো,
তাইতো কালো চশমা আজ দিয়েছি চোখে,
তা কি দেখতে পাও না? না দেখেও অন্ধ আজ তুমি?
সাদা পোশাকের মোহে বুঝি হারিয়েছ দৃষ্টি,
তাই ক্ষণস্থায়ী পোশাক বুঝি পরতে চাও না আর,
কিন্তু যে রাজকীয় পোশাকের জন্য তুমি এতটা গৌরবিত,
সে তো তোমার নিজস্ব নয়?
জ্যৈষ্ঠ যাওয়ার সময় যখন তার ধার দেওয়া ওই সাদা ঝলমলে পোশাক কেড়ে নেয়,
তখন কি করো তুমি? সেই তো মলিন কালচে পোশাক সম্বল করো,
তবে দুদিনের এ পোশাকে কি এমন গুমর তোমার শুনি?
হে গরবিনী, তোমার অহংকারে, অবহেলায় যে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত,
চোখ মেলো এবার।
ওকি কোথায় যাচ্ছ? শোনো শোনো, একবার ফিরে তাকাও,
আমার কথায় জবাব না দিয়ে তুমি যেতে পারো না,
কি বললে? বাতাসভাই ডেকেছে তোমায়? আর তার ডাক অনুপেক্ষণীয়?
নাহ, অরণ্যে রোদন করছি যে আমি,
সে যে অদৃশ্য হয়ে গেছে দিগন্তের আড়ালে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ