ভয়
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
সাত বছরের রুমকি হঠাৎই উঠে পড়ে ধড়ফড় করে,
গভীর রাতে হয়ত কোনো দুঃস্বপ্ন দেখে,
কল্পনা কচি মেয়েকে বুকে জাপটে ধরে,
ভয় কি রে,মা আছে তো,সাহস পাসনে আমায় দেখে?
ভয় করে যে মা,মনে হয় যেন ওই বাঁশঝাড়ের ফাঁক থেকে,খোলা জানালার পর্দা উড়িয়ে দিচ্ছে কেউ উঁকি,
কে দিচ্ছে উঁকি?কার এমন সাধ্য আমায় ভেদ করে দেয় তোর প্রতি নজর?
কি জানি মা,হবে হয়ত অশরীরী,ভাবলেই ঠান্ডা হয়ে যায় পাঁজর,
ধুর বোকা,অশরীরীতে কিসের ভয়,ওরা আছে তো গল্পে,
আমার মেয়ে হয়ে ভয় পাস এত অল্পে?
কল্পনা যে ভয় পায় রক্তমাংসের ভূতে,অশরীরীর থেকে যে আরও ভয়ংকর ওরা,
এমনই এক নিঝুম রাতেই,আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে হবে,
রুমকির বাবা চেয়েছিল মেয়েকে পাচার করে দিতে,
লাল ভাঁটার মতো চোখগুলোকে সেদিন আর পায়নি ভয় কল্পনা,উলটে বঁটি ধরেছিল হাতে,
এত বড় সাহস তোর,আমার মেয়েকে চাস বেচতে?
বঁটিটা সেদিন হয়েছিল রক্তাক্ত,শেষ হয়েছিল এক অসুর,
আজও সাহস সে রেখেছে পরম যত্নে বুকে,
মেয়েকেও শেখায় সে,সাহসী হতে হবে তোকে।
0 মন্তব্যসমূহ