সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
হে রবি,ভগ্ন সমাজের বুকে যেদিন রক্তকরবীরর মতো লাল আভায় আবির্ভূত হয়েছিলে,
সেইদিনই পূর্বাভাস দিয়েছিল অবাধ্য বাতাস,এবার সমস্ত অন্ধকারের ছুটি হবে,
গভীর কালো সাগরে নিমজ্জিত প্রকৃতি ডাক দিয়েছিল----রাঙিয়ে দিয়ে যাও।
খেলায় মগ্ন শিশুরা উচ্ছসিত কন্ঠে ডাক দিয়েছিল,অগ্নিশিখা এসো এসো।
কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়া পোস্টমাস্টারের মতো সুখবরটা ছড়িয়ে ছিল চারিদিকে,
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ঘটেছে যে।
অচলায়তনের বদ্ধ শৃঙ্খলেরা আশঙ্কিত হয়েছিল,গুরু আসছেন যে।
সমস্ত জয়পরাজয়,দেনাপাওনাকে উপেক্ষা করে এগিয়ে চললে তুমি,
নিজ আলোকে উদ্ভাসিত করলে ক্ষুধিত পাষাণের মতো মরচে পড়া এ সংসার।
দূরদেশ থেকে এসেছিলে তুমি কাবুলিওয়ালার বেশে,
করলে সমস্ত সম্পত্তি সমর্পণ এ পোড়া দেশে।
তোমার ওই উজ্জ্বল শিখার সংস্পর্শে সুখী ছিলাম বেশ,
কিন্তু হায়!একদিন যে তোমারও ডাক এল------
সোনার তরী অপেক্ষমান তোমার খেয়াঘাটে,
শেষের কবিতাটুকুও আমাদের দান করে,
তুমি চলে গেলে হে মহাপুরুষ সমস্ত মোহমায়া ছিন্ন করে।
আজ তুমি আর নেই,কিন্তু তোমার রবিকিরণ যে আজও দেখায়
আমাদের মুক্তির পথ।
পূজা-প্রেম-ভালোবাসার হাতে খড়ি তো তোমার কাছেই জানি,
তাইতো সদা তোমাকেই কবিগুরু মানি।
হে জ্যোতির্ময়,মিশে গেছ আজ অনন্ত আশার আলোকে,
আমরা শুধুই স্মরণ করি তাই পঁচিশে বৈশাখে।
0 মন্তব্যসমূহ