Advertisement

তিন অণুগল্প

তিন অণুগল্প

প্রিয় পাঠক পাঠিকা,আপনাদের জন্য রইল ভিন্ন স্বাদের তিনটি অণুগল্প।


১)


সম্পর্ক
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী

অয়ন আর বীণার সাত বছরের সম্পর্ক।দুজনেই দুজনকে কথা দিয়েছিল,কোনো অবস্থাতেই কেউ কাউকে ছেড়ে যাবে না।অথচ তথাকথিত সুন্দরী আর ধনী শ্রুতিকে পেয়েই বীণাকে ভুলে গেল অয়ন।বীণার মেসেজের রিপ্লাই আর আসে না অন্যদিক থেকে।কতবার ফোন করেছে বীণা,অয়ন ফোন তোলেনি।শেষে একদিন একটা মেসেজ এল বীণার ফোনে,'প্লিজ আমায় ডিস্টার্ব কোরোনা,আমি শ্রুতিকে ভালোবাসি।'
 বীণা এখন বিছানায় শুয়ে,পাশে বসে মা,বাবা আর নীল।বীণার মা-বাবা নীলের সঙ্গে বীণার বিয়ে ঠিক করেছিলেন,কিন্তু অয়নকে ভালোবাসে বলে এ বিয়েতে বীণা মত দেয়নি।আজ হয়তো 'ফের মেট্রোয় আত্মহত্যা' নিউজপেপারের হেডলাইন হতে পারত,হল না শুধু নীলের জন্য।নীলই বীণাকে বাঁচিয়েছে,জাপটে ধরেছিল ও বীণাকে যখন ও মেট্রোর লাইনে ঝাঁপ দিতে যাচ্ছিল।একটুর জন্য রক্ষা পাওয়া বীণা উপলব্ধি করেছিল,'কিছু ভুল সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়াই মঙ্গল।'


২)


ঘরের মানুষ
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

নিন্দুকেরা বলে 'ফেমিনিস্ট', আর যাঁরা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন, তাঁরা বলেন, 'সত্যি নারী উন্নয়নের জন্য কত কিছু করেন!' অলি চৌধুরী, পুরুষ ও নারীর সমান অধিকার নিয়ে বিস্তর লেখালেখি করেন, কাগজে ছাপাও হয় সেসব লেখা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ারের সংখ্যা মিলিয়ন ছাড়িয়েছে।

বিকেলে বাড়ি ফিরেই অলির মাথা গরম হয়ে গেল। ছেলে প্রীতমের জন্য তিনি ফুটবল কিনে এনেছেন,আর সে কিনা!

— 'কি হচ্ছে এটা প্রীতম?' অলি গর্জে উঠলেন, 'ছেলে হয়ে মেয়েদের পুতুল নিয়ে খেলছ? ছি ছি! তোর দিদিকেও মানুষ করতে পারিনি, আর তোকেও পারলাম না!'

মেয়ে শিপ্রাকে তিনি মানুষ করতে ব্যর্থ বলে মনে করেন, কারণ কলেজপড়ুয়া শিপ্রা তার থেকে বয়সে ছোট ছেলেকে ভালোবাসে।মা মেনে নেবেন এই আশায় বুক বেঁধে শিপ্রা যখন মাকে জানিয়েছিল ভালোবাসার কথা,অলি মেনে তো নেন ই নি উলটে মেয়ের মোবাইল কেড়ে নিয়েছেন,বন্ধ করেছেন কলেজে যাওয়াও, 'তোমার স্বামী কিনা তোমার চেয়ে বয়সে ছোট হবে!ছি!'
       শিপ্রাকে ভর্তি করা হয়েছে অন্য কলেজে।এখানে তার সব ক্লাসমেটরা অলির লেখার কি প্রশংসাই না করে শিপ্রার কাছে।মেকি হেসে শিপ্রা মনে মনে ভাবে, 'তোরা যদি লেখিকা অলি চৌধুরীর আড়ালে থাকা ঘরের মানুষটিকে দেখতিস,তাহলে হয়ত...'


৩)


অকৃতজ্ঞ
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী

ড্রাইভিং করতে খুব ভালো লাগে সুনীতার। তাই নিজের গাড়ি নিজেই ড্রাইভ করে, কোনো ড্রাইভার রাখেনি। সেদিন কাজের চাপে একটু রাত করে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিল হসপিটাল থেকে। হঠাৎ একটা পাগলি চলে আসে ওর গাড়ির সামনে, একটুর জন্য প্রাণ বাঁচে তার। সুনীতা নিজে মনোরোগের চিকিৎসক, পাগলিটাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে হসপিটালে ফিরে যায় ও। সুনীতার একবছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে সেরে ওঠে মেয়েটি, জানা যায় ওর নাম দেবলীনা, ওর বাবা-মাও নিখোঁজ মেয়েকে ফিরে পান, বছরখানেকের মধ্যে পাত্রস্থ ও হয় দেবলীনা।

তিন বছর কেটে গেছে। কয়েকমাস আগে এক গুরুতর অ্যাক্সিডেন্টে প্রাণে বাঁচলেও মানসিক ভারসাম্য হারায় সুনীতা। আটবছরের প্রেমিক তাকে ছেড়ে গেছে, বাপ-মা মরা মেয়েটাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন মামা-মামি। ফুটপাথই এখন আশ্রয় সুনীতার। সেদিন দেবলীনা তার স্বামীর সাথে হাত ধরাধরি করে যখন ফুটপাথ ধরে হাঁটছিল, সুনীতা ওদের কাছে ছুটে গিয়ে বলল, 'খিদে পেয়েছে, একটু খেতে দে না!' একটু খাবারের জন্য ওদের হাত ধরে টানাটানি করতে থাকে সুনীতা।

— 'দূর হ পাগলি!' দেবলীনার স্টিলেটোর ধাক্কায় আছড়ে পড়ে সে। হাত-পা ছড়ে যাওয়ায় শিশুর মতো কাঁদতে থাকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ