সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই ওর সাথে আমার,ও বাইরের একটা ছেলে,
তোমরা বলো,বাইরের একটা ছেলে বেশি আপন হল বাপ মায়ের চেয়ে!
হয়ত,হয়ত একটু বেশিই আপন আমার কাছে ও,
আমার দুই দাদা পড়াশুনায় কাঁচা হওয়া সত্ত্বেও ওদের কখনো পড়তে বাধা দেওয়া হয়নি,
কিন্তু আমি প্রতিবার ক্লাসে প্রথম হওয়া সত্ত্বেও কলেজে ঢোকার আগেই তোমরা চেষ্টা করেছ আমার বিয়ে দিতে,আমার মত ছাড়াই,
বাইরের ছেলেটাই তখন রুখে দাঁড়িয়েছিল,
আমার বিয়ে যে আমার ইচ্ছে ছাড়া হতে পারে না বুঝিয়েছিল তোমাদের,
আমি নাচ করতে ভালোবাসি,মা তোমার মনে পড়ে তুমি মুখ বেঁকিয়ে বলেছিলে,
'মেয়েমানুষের পায়ে ঘুঙুর পরে নাচা ভালো দেখায় না,ওইসব নেশা ছাড়ো!'
বাইরের সেই ছেলেটাই সেদিন এগিয়ে এসেছিল,লুকিয়ে ভর্তি করে দিয়েছিল নাচের ক্লাসে,কানে কানে বলেছিল, 'বাড়িতে বলিস না ঝুম্পি!'
তারপর ইউনিভার্সিটিতেও আমার যাওয়া সম্ভব হয়েছিল ওরই জন্য,
এমনকি আজ যে রোজ অফিসে যাই,বাবা বাঁকা হেসে বলে, 'মেয়ে হয়ে ঘর সংসার না করে আপিস ছোটে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে!হুঃ!'
সে চাকরিও তো পেয়েছি ওই বাইরের ছেলেটার জন্যই,
তোমাদের কথায় কষ্ট পেয়ে চোখে জল এলে ধমক দিয়ে বলেছ, 'ন্যাকাকান্না কেঁদো না তো!অসহ্য লাগে!'
তখন চোখের জল মুছিয়েছিল ওই রক্তের সম্পর্কহীন ছেলেটাই,
প্রতিটি মুহূর্তে আমার জন্মটা যে কতটা অভিশাপ এ পরিবারের জন্য তা বুঝিয়ে দিয়েছ উঠতে বসতে,
সেই তোমরাই আজ আমায় জোর করছ তোমাদের পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করার জন্য?কোন্ অধিকারে?
ভালোবেসেছ কোনোদিন কন্যাসন্তানটাকে?যে আজ অধিকার ফলাচ্ছ নির্লজ্জের মতো?
আমি আজই সন্ধ্যেবেলায় চলে যাব এ বাড়ি ছেড়ে,ওই বাইরের ছেলেটার হাত ধরে,
যে প্রতিটা মুহূর্তে বুঝেছে আমার না বলা কষ্টগুলো,আগলে রেখেছে প্রাণপণে,প্রতিটা ইচ্ছের দাম দিয়েছে,
ও ই বাইরের ছেলেটাই আজ আমার সব,ওকে সম্বল করেই আজ ছেড়ে যাব তোমাদের,
আর কখনো ফিরব না এবাড়িতে!কখনো না!
0 মন্তব্যসমূহ