রবিকিরণে
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
ধূসর জীবনের গোধূলিতে ক্লান্ত আলোয় ধৌত হয়েছে সেদিন ঠাকুরবাড়ির ঘরে বাইরে,
হঠাৎ যেন ঘরেতে ভ্রমর এল,আইল শান্ত সন্ধ্যা,
ভেঙেছে কুসংস্কারের দুয়ার,এসেছে যে জ্যোতির্ময়,
কলগুঞ্জনে নিমগ্ন পাখিরা উচ্ছ্বসিত কন্ঠে ডাক দিল,অগ্নিশিখা এসো এসো।
বৈশাখের অবাধ্য দখিনা বাতাস চিঠি ছড়াল চারিদিকে,গুরু আসছেন যে!
অচলায়তনের কোণে জমে থাকা অন্ধকারগুলোর যে এবার আগুনের পরশমণি ছোঁয়ার পালা,
শত নীড় ভাঙা ঝড় আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধতে চেষ্টা করল সে দিব্যপুরুষকে অজগরের মতো,তবু ব্যর্থ হল প্রতিবার,
জয়পরাজয় স্বীকার করে নতমস্তকে,সমাজের হাজার দেনাপাওনা চুকিয়ে,শক্ত মনে এগিয়ে চলল সে বীরপুরুষ,
সম্বল বলতে শুধুই কাগজ-কলম-দোয়াত আর এক সাগর প্রতিভা,
শেখেনি সে বিশ্বাস করতে হিংসেতে,পূজা আর প্রেমই ছিল তার অস্ত্র,
নিঃশেষিত করে নিজেকে,সমস্ত সম্পত্তি সমর্পণ করল সে এ দেশের মাটিতে,
কিন্তু সেও যে চুক্তিবদ্ধ মানতে ললাটের লিখন,
ছিন্ন করে সমস্ত যোগাযোগ, সাজল সে সোনার তরীর যাত্রী,
যাওয়ার আগে পরম যত্নে রেখে গেল শেষের কবিতাটুকু,
সকলের চোখ করে ছলছল,বালি পড়েছে বুঝি?চোখের বালি?
সে যে পাড়ি দিয়েছে অমৃতের সাগরে,অশ্রুনদীর সূদুর পারে,
আজ কেবল অশ্রুভরা বেদনা দিকে দিকে জাগে।
সশরীরে বিদ্যমান নেই আজ আলোর পুরুষ, তবু যে অমর সৃষ্টি তার বারবার ফিরে আসে,
অজানা খনির নূতন মণির আলো আজও আকাশে দুই হাতে প্রেম বিলায়,
আজও সে আছে তারায় তারায় দীপ্ত শিখায়,
প্রতি পঁচিশে বৈশাখ যে এমন করেই স্মৃতি ফেরায়,স্মরণ করায়।
0 মন্তব্যসমূহ