Advertisement

ভিন্নস্বাদের গল্প ও কবিতা

ভিন্নস্বাদের গল্প ও কবিতা

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা,আপনাদের জন্য রইল ভিন্নস্বাদের একটি গল্প ও একটি কবিতা।

১)


নারী ও মানুষ 
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

দিয়ার ১৪ বছর বয়স,পড়ে ক্লাস নাইনে।এখনও তার শুরু হয়নি পিরিয়ড।ক্লাসের বান্ধবীরা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে,তাদের মতে সে এখনও পরিপূর্ণ নারী হয়ে উঠতে পারেনি।বান্ধবীরা ঋতুমতী হয়েছে প্রায় সকলেই।শুধু বান্ধবীরাই নয়,অনেক ক্ষেত্রে তাদের মায়েরাও মেয়েটিকে নিয়ে উপহাস করেছে,প্রশ্ন উঠেছে তার নারীত্ব নিয়ে।ঘরের দরজা বন্ধ করে বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদত দিয়া।
   কেটে গেছে তেরোটা বছর।দিয়া আজ বড়ো চাকরি করে,স্বাবলম্বী সে,নিজস্ব বাড়ি গাড়ি সব আছে।আছে এক প্রেমিকও,যে সবটুকু দিয়ে আগলে রেখেছে দিয়াকে,পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতি ক্ষেত্রে।যে বান্ধবীরা,সর্বোপরি যে নারীরা তার নারীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল একসময়,তাদের মধ্যে কেউ কেউ আজ বিয়ের জন্য বলি দিয়েছে তাদের স্বপ্ন,কেউ বা কন্যাসন্তান জন্ম দেবার 'অপরাধে' উঠতে বসতে কথা শুনছে শ্বশুরবাড়িতে,কেউ বা স্বামীর কথা,মতকেই নিজের মত হিসেবে মেনে নিয়ে মাথা নিচু করে সংসারের বোঝা বয়ে চলেছে,জীবনের হিসেবের খাতায় শূন্য পড়ে আছে তাদের।
    পনেরো বছরে ঋতুমতী হওয়া দিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবে, 'নারী হতে পেরেছিস তোরা,মানুষ হিসেবে বাঁচতে পারলি কই?'


২)


পাগল
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

ওকে সবাই 'খ্যাপা' বলে,
'মাথা খারাপ' আছে বলে,
শিক্ষিতরা 'অ্যাবনর্মাল' বলেন,
আর নেহাতই বিজ্ঞ ভদ্ররা 'মানসিক ভারসাম্যহীন' বলে চিহ্নিত করেন,
আজ সকলে ওকে দেখে হাসে,
কারণ ও যে কাউকে ভয় করেনা,
মিথ্যা মানহানির আশঙ্কায় লজ্জিত হয় না,
পরম শত্রুকেও করে দেয় ক্ষমা একনিমেষে, 
ও সবার কথা ভাবে,ভাবে না শুধু নিজের ভালোটুকু,
তাই তো ও সকলের চোখে 'অস্বাভাবিক',
সোসাইটিতে ওকে পরিচয় করিয়ে দিতে 'সুস্থ'দের হয় লজ্জা,
ভালোবেসে ওকে বুকে টেনে নিতে 'নর্মাল'দের হয় প্রবলেম, 
কথায় কথায় টিটকিরি না দিলে 'মানসিক ভারসাম্যপূর্ণ'দের হয় না ভাতঘুম,
এই দুনিয়ায় আছে শুধু ওর 'দি'মা',
সেই ওর দিদি,সেই ওর মা,
শুধু সেই অশিক্ষিতাই ওকে খাইয়ে দিতে দিতে বলে,
'এমন পাগলই তুই থাক আমার,
কোনোদিনও যেন 'সুস্থ' হস না!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ