সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
আমগাছটা এখনও পড়ে আছে পার্কে,
ভেঙে দুমড়ে মুচড়ে গেছে শাখাপ্রশাখা,
পরম যত্নে গড়ে তোলা ফলগুলো ফেটে ছড়িয়ে আছে কাদায় মাখামাখি হয়ে,
কিন্তু ভালো করে চেয়েছ কি গাছটার দিকে?
চোখটা ফেরাও ওদিকে,দেখো গাছ নয়,
যেন আস্ত একটা মানুষের মৃতদেহ পড়ে আছে,
আশ্রয়হীন,উদবাস্তু রক্তাক্ত গাছটা অন্তিম মুহুর্তে হয়ত চেয়েছিল একবার সেই কচি হাতদুটো তাকে জড়িয়ে ধরুক,যে কচি ছেলেটা রোজ আসত এ পার্কে খেলতে,
চেয়েছিল একটিবার সেই বয়স্ক হাতদুটো সযত্নে তার সবুজ পাতাগুলোর উপর হাত বুলিয়ে দিক শেষবারের মতো,যে বয়স্ক মালি তাকে সেই চারাগাছ থেকে একটু একটু করে বড়ো করে তুলেছে সন্তানস্নেহে,
সে শিশু আজ গৃহবন্দী,
সে পিতৃতুল্য মালির মাথার উপরের ছাদ উড়ে গেছে ঝড়ে,
কত পাখির বাসা ভেঙেচুরে তছনছ হতে দেখেছে সে,
কত পথপশুকে অসহায়ের মতো জলে ভিজতে দেখছে সে মৃত্যুর আগের মুহূর্তে,
চেষ্টা করছে ডালপালা মেলে উঠে দাঁড়ানোর,
কিন্তু ছেঁড়া শিকড়ের জোর আর কতটুকু?
ঢলে পড়ল সে মৃত্যুর কোলে,আশ্রয়হীন হয়ে পড়ল কতশত প্রাণ,
শেষ চাওয়াটুকু আর পূরণ হল না তার!
0 মন্তব্যসমূহ