ভালোবাসার অণুগল্প
প্রিয় পাঠক পাঠিকা,আপনাদের জন্য রইল তিনটি ভালোবাসার অণুগল্প।
১)
নিজের মানুষ
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
—'বছরের পর বছর পার হয়ে যাচ্ছে কোনো চাকরির পরীক্ষায় পাস করতে পারছিনা, কেন আছিস বলতো আমার সাথে আজও? যোগ্য মানুষ কেন খুঁজে নিচ্ছিস না?
— 'ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিমও তো কখনও কখনও প্রতিপক্ষ দলের কাছে হারে,তখনও তো আমরা ইন্ডিয়াকেই সাপোর্ট করি,বিজেতা দেশকে সাপোর্ট করতে শুরু করি কি?'
— 'কিন্তু তুই বুঝছিস না...'
— 'আসলে নিজের দেশ যেমন নিজেরই হয়,তেমন নিজের মানুষরাও নিজেরই হয়,কয়েকবার ব্যর্থতার জন্য তারা কি পর হয়ে যায় রে পাগল!'
২)
ভালোবাসি
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
সদ্যমৃতা বৃদ্ধার কপালে হাত রেখে একচোখ জল নিয়ে বৃদ্ধ অস্ফুটে বললেন, 'ভালোবাসি।' বিয়ের পরের দিনের কথোপকথন যে তিনি আজও ভোলেননি।
সে আজ পঞ্চান্ন বছর আগের কথা। সদ্য কুড়িতে পা দেওয়া এক ফুটফুটে যুবতীকে বিয়ে করে ঘরে এনেছিল এক বছর পঁচিশের যুবক ।সলজ্জ যুবতীর হাতদুটো ধরে যুবক বলেছিল, 'কি চাও আমার কাছে?তুমি যা চাইবে তাই দেওয়ার চেষ্টা করব আমি।'
যুবতী লাজুক হেসে জবাব দিয়েছিল, বিশেষ কিছু না,কেবল প্রতিদিনই আমায় অন্তত একবার বোলো, 'ভালোবাসি!'
— 'আচ্ছা তাই হবে, হেসে উত্তর দিয়েছিল যুবক।
৩)
বিশ্বাসটুকু
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
– 'সাগর,বন্ধু হিসেবে একটা কথা বলি,কিছু মনে করিস না।'
– 'হ্যাঁ বল্!'
– 'তুই অরিন্দিতাকে বিয়ে করছিস শুনলাম। মেয়েটার চরিত্র নিয়ে কিন্তু অনেক কানাঘুষো আলোচনা হয় জানিস তো!'
– 'না জানিনা,আর জানতে চাইও না!'
— 'কিন্তু সাগর, ওর নাকি তোর আগে তিন তিনটে বয়ফ্রেন্ড ছিল শুনেছি,ওর মতো মেয়েকে ভরসা করা কি উচিত হবে তোর?"
—'লোক কি বলে আমি জানিনা হিমাংশু । আগের সপ্তাহে ও যখন ডেঙ্গুর জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল, তখন জ্বরের ঘোরে একটাই নাম বলছিল,'সাগর!' আমি শুধু সেটুকুই শুনেছি, আর কারোর কোনো কথা শোনার আগ্রহ নেই রে আমার।'
1 মন্তব্যসমূহ
Khub bhalo laglo 3 te golpoi
উত্তরমুছুন