সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
পক্ষপাত বড় সর্বনেশে ভূত,
কখন যে কার ঘাড়ে চাপে জানে না কোনো জ্যোতিষীর পুত,
ভূতটা অদৃশ্য, কিন্তু খুব দয়ালু, নিরপেক্ষ,
জাত বিচার করে না যে সে,
স্কুলছাত্র থেকে উচ্চপদস্থ অফিসার,
কারোর নেই নিস্তার তার থেকে,
ভূতটার ওই ভয়ানক রক্তাভ চোখদুটো,
যার দিকেই পড়ে,অপমানে হয় সে জর্জরিত,
ওই যায় রাস্তা দিয়ে মেয়েটি,
সর্বনেশে ভূতের ও চরমতম শিকারটি,
যেখানেই যায় ওই হতভাগী,
উল্টোদিকের মানুষগুলোকে ভর করে ভূত,মেয়েটা হয় যত দোষের ভাগী,
সকলের অপছন্দের পাত্রী তাই ও,বেচারী পায়না কোনো সুখ,
সর্বদাই ওর চোখে পড়ে পক্ষপাত দোষে দুষ্ট মানুষগুলোর বিরক্তিতে ভরা মুখ,
দুর্ভাগা মেয়েটিকে সকলে কেবলই lucky বলে ভাবে,
বলে,'সারাজীবন কি অযোগ্যরা এভাবেই পার পেয়ে যাবে?'
ও আজ বড়ো খারাপ,অসভ্য,
ওই মানুষগুলোর চোখে,যাঁরা তথাকথিত সভ্য।
এ ভূত ভাইরাসের চেয়েও দ্রুত,
ছেয়ে ফেলে মানুষের মন,ছিঁড়ে ফেলে বুদ্ধির সুতো,
ভূতকে আদরে ঘাড়ে বহন করা মানুষগুলো হয়েছে আজ অন্ধ,
তাই প্রকৃত ভালোমন্দের বিচার করেছে বন্ধ।
ভূত সদর্পে চিৎকার করে বলে,'আমি অপ্রতিরোধ্য!'
সমাজও হাততালি দিয়ে বলে,'একদমই তাই!'
গালে হাত দিয়ে বসে মেয়েটি ভাবে,'ভূত তাড়ানোর ওঝার জন্ম সত্যিই কি হয় নাই?'
0 মন্তব্যসমূহ