Advertisement

অণুগল্প ও কবিতা

অণুগল্প ও কবিতা

প্রিয় পাঠক পাঠিকা,আপনাদের জন্য রইল একটি অণুগল্প ও একটি কবিতা।

১)


ম্যাজিক
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

ছোট্ট বিকাশ ম্যাজিক দেখাতে খুব ভালোবাসত।আর তার এই কাজের সঙ্গী ছিল তার ছোট বোন রিঙ্কি।রিঙ্কি মরে গেলে তার দাদা যাদুবলে তাকে বাঁচিয়ে তুলত।অবশ্য সবটাই ছিল বিকাশের শেখানো,তার চোখের ইঙ্গিতে রিঙ্কি চোখ বুজে শুয়ে পড়ত,আবার তারই তুড়ি ফাটানোর শব্দে উঠে বসত।গ্রামবাসীরা সবটাই বুঝত,তবুও বাচ্চা ছেলেটার মন রাখার জন্য সবাই হাততালি দিত আর বলত, 'বাঃ বাঃ,দারুণ ম্যাজিক দেখলাম!'
 আজ ডঃ বিকাশ ভট্টাচার্য একজন নামকরা ডাক্তার।ইচ্ছে করলেই বিদেশে থেকে যেতে পারত,কিন্তু গ্রামবাসীদের চিকিৎসার স্বার্থেই গ্রামে ফিরে এসেছে সে।গ্রামের সরকারি হাসপাতালে সে যোগ দিয়েছে।গরীব মানুষদের সে বিনামূল্যে চিকিৎসা করে,এমনকি জরুরি অবস্থা হলে ওষুধও কিনে বাড়িতে দিয়ে আসে।সরকারি হাসপাতাল ওর চেষ্টাতেই আবার নতুন ভাবে গড়ে উঠছে,আধুনিক যন্ত্রপাতিও এসেছে শহর থেকে।তার হাতে কোনো রুগী মারা যায়নি আজ পর্যন্ত।গ্রামবাসীরা হাসিমুখে বলে, 'ছেলেটার হাতে যাদু আছে!' তাদের চোখের কোণে জল চিকচিক করে আনন্দে।

২)


প্রিয়া
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

লাল গোলাপ ভালোবাসিস,একগুচ্ছ গোলাপ না এনে যদি গোলাপের চারা এনে দিই,যত্ন করে বড়ো করে তুলবি তাকে?
কবিতা ভালোবাসিস,তোর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অন্য অতিথিদের মতো চকচকে কাগজে মোড়া গিফট না এনে যদি আমার পুরোনো কবিতার ডায়েরিটা তোর হাতে তুলে দিই,যার প্রত্যেক পাতার শব্দগুলো তোকে অনুভব করে লেখা,হাসিমুখে নিবি?
তোর প্রিয় রঙ কালো,তোর ভীষণ মনখারাপের দিনে যদি তোর চোখের জল মুছিয়ে আমার আনাড়ি হাতে ওই ঘন গভীর চোখে কাজল পরিয়ে দিই,আবার আগের মতো হাসবি তো সব দুঃখ ভুলে?
তুই পড়াশুনায় এমনিতে ভালো,তবে মাঝে মাঝে যথেষ্ট ফাঁকি দিস,তখন যদি তোর হাত ধরে টেনে এনে পড়ার টেবিলে বসিয়ে হালকা ধমক দিই,অভিমান করবি না তো?
জানিস,আমাদের বাড়িতে সব আছে,শুধু একটাও কন্যাসন্তান নেই,বিয়ের পর তুই আমাদের বাড়ির মেয়ে হয়ে উঠতে পারবি প্রিয়া?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ