শিক্ষক দিবস
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
১)
আজ সকাল থেকেই খুব তোড়জোড় চলছে স্কুলে।আজ টিচার্স ডে,তাই সব ক্লাসের মেয়েরাই আগে আগে চলে এসেছে স্কুলে,ম্যামরা আসার আগেই।সবচেয়ে বেশি হুল্লোড় হচ্ছে ক্লাস টেনের ক্লাসরুমে।মাধ্যমিক আর কিছু মাস পর,তারপর অনেকেই হয়ত আর আসবে না এই স্কুলে,অন্য নামী স্কুলে ভর্তি হবে,তাই এত আড়ম্বর।চাঁদা তুলে একটা বড়ো কেক আনা হয়েছে,এ ছাড়া সবার হাতে দামী গিফট। দেখতে দেখতে ক্লাসরুম সাজানো হয়ে গেল,একটু পরেই ক্লাসটিচার সৌমি ম্যাম এসে পড়বেন,এমন সময় কাঁচুমাচু মুখে তিতাস হাজির হল ক্লাসরুমে। ও আসতেই সবাই ছেঁকে ধরল ওকে,'কই দেখি,কি এনেছিস তুই ম্যামের জন্য।'
- 'বেশি কিছু দেবার সামর্থ্য তো নেই আমার,এই ড্রয়িং টা এনেছি ম্যামের জন্য।'
- 'ব্যস,শুধু এটাই?আর কিচ্ছু আনিসনি?'
- 'না রে আনতে পারিনি।'মাথা নিচু করে তিতাস বলল।
- 'ছি!চক্ষুলজ্জা টুকুও কি নেই রে তোর?এই সামান্য জিনিসটা নিয়ে চলে এলি স্কুলে?না আসলেই পারতিস তো?'
মুখ কালো করে জলভরা চোখে ক্লাস থেকে বেরোতে গিয়ে তিতাস দেখল ম্যাম দাঁড়িয়ে আছেন।উনি সবটা শুনেছেন,হেসে বললেন,' দামী গিফট বলতে ঠিক কি বোঝাও তোমরা?যার বাজার মূল্য বেশি?আমি কিন্তু একটু অন্যরকম ভাবি।ধরো,তোমরা অনেকে এনেছ পেন,সোপিস বা ওয়াল ক্লক,ওগুলো তো আমিও দোকান থেকে টাকা ফেলে কিনে আনতে পারি,কিন্তু তিতাসের এই আঁকা?এটা কি টাকার বিনিময়ে কোনো দোকানে পাবে?পাবে না।আর ওই তুলির টানে যে শ্রদ্ধা নিষ্ঠা ভালোবাসা মিশে আছে তাও কি পাবে কোনো বড়ো দোকানে?তাহলে কার উপহার দামী হল বলো?'
- 'সরি ম্যাম,আমরা আর কক্ষনো ওকে এভাবে বলব না।সরি তিতাস।'
- তিতাসের মুখের নির্ভেজাল হাসিটা দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল সৌমির।
২)
- 'হ্যাপি টিচার্স ডে রুমকি।'
- রুমকি ফিরে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল,এখানে তো ও ছাড়া আর কেউ নেই,কে ওকে বলল এটা?আর ও কবেই বা টিচার হল কারোর?
- হয়তো শুনতে ভুল করেছে ভেবে মাথা চুলকে রুমকি ফিরে যাচ্ছিল,আবার ডাক এল পিছন থেকে 'কিরে,কথা শুনতে পেলি না নাকি রে কালা?'
- এবার রাগ হয়ে গেল ওর,ফিরে তাকিয়ে বলল,'কে?কে আমায় কালা বলল?কে ইয়ার্কি করছিস আমার সাথে?'
- 'ওরে আমি রে আমি।' দাঁড়ে বসে থাকা কাকাতুয়াটা বলল।
- 'তুই?তুই এসব কবে শিখলি?আমি তো শেখাইনি?'
- 'আমি শিখিয়েছি মামনি।' রুমকির বাবা এসে বললেন,'তুই তো ওকে কত কথা বলতে শিখিয়েছিস,তাহলে তুই ওর টিচার হলি কিনা বল?তাই তো আমি শেখালাম যাতে ও তোকে হ্যাপি টিচারস ডে বলে।কিন্তু পাখি কিনা,তাই টিচারকে সম্মান দিতে শেখেনি,টিকলি, সরি বল তোমার টিচারকে!'
- 'সরি।'
- 'এই চুপ কর তো!সরি!যা!'রুমকি হেসে বলল।
- 'কিরে মামনি,কেমন লাগল জীবনের প্রথম টিচার্স ডে?'
- 'খুব ভালো বাবা।'রুমকি মনে মনে ঠিক করে ফেলল এবার চিলড্রেনস ডে টা জমিয়ে পালন করতে হবে টিকলির জন্য।'
0 মন্তব্যসমূহ