সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
১)গত বছর এক অ্যাক্সিডেন্টে তিমিরের চোখ দুটো নষ্ট হয়ে যায়।কলকাতার অন্যতম নামী ব্যবসায়ী অলোকবাবুর একমাত্র ছেলে তিমির।এখন বাড়িতে বসেই তিমির ব্যবসার কাজকর্ম সামলায়।এখন মা,বাবা আর স্ত্রী লেখাই তিমিরের অবলম্বন।তিমিরের মতে,তার দৃষ্টি নেই তো কি হয়েছে,লেখাই তার চোখ আজ।কিন্তু লেখার প্রেমে অন্ধ তিমির জানেনা,যে লেখা তাকে বিয়ে করেছে তার এই অগাধ সম্পত্তি দেখে।আসলে সে ভালোবাসে অন্য একজনকে,তার নাম প্রবীর।তিমিরের স্কুলজীবনের এক বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল,যার নাম রঙ্গন।
আজও তিমিরের সাথে তার বন্ধুত্ব অটুট।রঙ্গন লেখার ব্যাপারে সবটাই জানে,কিন্তু তিমিরকে সে জানাতে পারেনি সেসব,কারণ কিছু সত্যি হয়ত সামনে না আসাই মঙ্গল।রঙ্গন মাঝে মাঝে ভাবে,তিমিরের দৃষ্টিশক্তি নেই,এতে একদিকে হয়তো ভালোই হয়েছে।যে লেখাকে এতটা ভালোবাসে,বিশ্বাস করে তিমির,সে লেখার এমন বিশ্বাসঘাতকতা তিমির সইতে পারত না।
২)অনন্তবাবুর বয়স সত্তর পার হল এই গতমাসে।তাঁর এক ছেলে পলাশ,আর এক মেয়ে ঝিমলি।অনন্তবাবুর স্ত্রী মিনতিদেবী গত হয়েছেন বছর তিনেক হল।এরপর অনন্তবাবু ছেলের কাছেই থাকেন।ঝিমলি বিয়ের পর চলে গেছে দূরদেশে,মায়ের মৃত্যুর সময় এসেছিল এদেশে শেষবারের মতো,তারপর আর এমুখো হয়নি।ইদানীং কয়েকমাস হল অনন্তবাবু কানে খুব কম শুনছেন।বারবার ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে বললেও পলাশ আর তার স্ত্রী রিমি সেসবে কান দেয়নি।বৃদ্ধ বাবাকে আজকাল বোঝা মনে হয় তাদের।অনন্তবাবুর অলক্ষ্যে মাঝে মধ্যেই বিরক্তি প্রকাশ করে ছেলে-বৌমা।পলাশের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে দেবস্মিতা সবটাই খেয়াল করে।এবাড়িতে একমাত্র দেবস্মিতাই অনন্তবাবুকে ভালোবাসে,যত্ন করে প্রাণপণে,আগলে রাখে তাঁকে।সে মাঝে মাঝে ভাবে,দাদু কানে কম শোনে একদিকে ভালোই হয়েছে,এতে মা বাবার কদর্য আলোচনা তাঁর কানে পৌঁছায় না।
0 মন্তব্যসমূহ